ওয়েবডেস্ক- ইরানে (Iran) চলছে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। যার আঁচ পড়তে চলেছে ভারতেও (India) । রান্না থেকে যানবাহন, শেয়ার মার্কেট সব কিছুর উপরেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে চলেছে, উদ্বিগ্ন নয়া দিল্লি। বাড়তে পারে জ্বালানি তেলের দাম, কারণ ভারত অপরিশোধিত তেলের (crude oil) প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি করে ইরান থেকে। যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) অবরুদ্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ২০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে পেট্রোল ডিজেলদের দামে। সেই সঙ্গে ইরানে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত।
বর্তমানে কয়েক হাজার ভারতীয় বসবাস করছেন। ভারত সরকার ইতিমধ্যে তাদের দ্রুত তাদের ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে, চালু করা হয়েছে হেল্পলাইন। এছাড়া হরমুজ প্রণালীতে থাকা ট্যাঙ্কার থেকে ভারতীয় ক্রু সদস্যদের সরিয়ে আনা হয়েছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে আকাশপথে ও বিমান পরিষেবায়। যুদ্ধক্ষেত্রের ওপর দিয়ে বিমান চলাচল বন্ধ হওয়ায় ভারত থেকে ইউরোপ ও আমেরিকার দিকে যাওয়া অসংখ্য উড়ান বাতিল করা হয়েছে, অথবা বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যার ফলে বিমানভাড়া বাড়তে পারে, এমনটাই আশঙ্কা। আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভারতীয় টাকার ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। শেয়ার বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সোনা ক্রয়ের দিকে ঝুঁকছে।
আরও পড়ুন- হরমুজে যুদ্ধের ছায়া! ইরান–মার্কিন সংঘাতে বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ল তেলের দাম
ইরানের চাবাহার বন্দর এবং ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোর (IMEC)-এর মতো বড় প্রজেক্টগুলো এই যুদ্ধের কারণে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পেট্রল, ডিজেল, কেরোসিনের মতো জ্বালানি প্রস্তুত হয় অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণের পর। মূলত যানবাহনে এই জ্বালানি লাগে।
এলপিজি গ্যাসও এই তেল থেকেই প্রস্তুত হয়, যা রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত তেল, ন্যাপথা, অ্যাসফল্ট তৈরিতেও আমদানি করা তেল কাজে লাগে। অর্থাৎ দেশের দৈনন্দিন কাজের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে বিদেশি তেল। এই পরিস্থিতিতে ভারত কী ফের রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ বাড়াবে? এমনটাই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
ভারত বর্তমানে উভয় পক্ষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।







