কেবল কি এই বঙ্গেই হবে সব রঙ্গ? না চাইলে কেরালাতে চলে যান, সেখানে কংগ্রেস সিপিএম এর ঘমাসান লড়াই এর মধ্যে নানান মাণিক্য ঝরে ঝরে পড়ছে। কদিন আগেই কেরালার মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, কংগ্রেস তো আসলে বিজেপির বি-টিম, তাই বিজেপির সুবিধে করার জন্যই তারা আমাদের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে, তাই ওই বিটিমকে ভোট দেবেন না মানুষ। কিন্তু বি-টিমকে না দিয়ে সেই লোকজন যদি এ টিমকেই ভোটটা দেয়? সেটা কি চান কমরেড পিনারাই বিজয়ন (Pinarayi Vijayan)? জানি না। কিন্তু কংগ্রেস তো ছেড়ে কথা বলার পাত্র নয়, এমনিতেই সারা দেশে বামেদের শক্তি এতটাই প্রান্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে যে তাদের ওপরে কংগ্রেসের সেই নির্ভরতা আর নেই, তার ওপরে সামনে কেরালার নির্বাচন, তুমুল বাক যুদ্ধের মধ্যেই কংগ্রেস দল থিরুবনন্তপুরম থেকে পুথুযুগ যাত্রা শুরু করলেন গতকাল, একমাস ধরে চলবে, তো সেই যাত্রার সূচনা করতে হাজির ছিলেন রাহুল গান্ধী। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন বিজয়নের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির সেটিং এর কথা, হ্যাঁ গতকাল ছিল সেই অর্থে কেরালার এবারের নির্বাচনে প্রচারের শুরুয়াত, তো সেই শুরুয়াত করলেন রাহুল এই বলে যে কমরেড পিনারাই ভিজয়ন আর নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) মধ্যে সেটিং আছে, তিনি যখন এই কথাগুলো বলছেন, তখন কংগ্রেস সমর্থকেরা উল্লসিত, হ্যাঁ ১০ বছর পরে তারা দাঁড়িয়ে আছে ক্ষমতার দরজার সামনে, লোকসভা, পঞ্চায়েত, মিউনিসিপালিটি নির্বাচনে বামেরা পর্যুদস্ত, কাজেই তারা এবার ক্ষমতার স্বাদ পেতে জান দিয়ে লড়বেন আর ঠিক সেই সময়ে রাহুল গান্ধীর কাছ থেকে তাঁদের মনের কথা শুনে তাঁরা উল্লসিত, সেটাই বিষয় আজকে, রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) বললেন, সিপিএম এর সঙ্গে বিজেপির সেটিং আছে।
এমনিতে কেরালার রাজনীতি পেন্ডুলামের মত ঘোরে, একদল ক্ষমতায় আসে, অন্য দল যায়। কিন্তু গত বিধানসভাতে পালাবদলের কথা উঠলেও পালাবদল হয়নি, বিজয়ন পেয়েছেন আরও পাঁচটা বছর। কিন্তু এই ক বছর ধরে বিজেপি তার শক্তি বাড়িয়েছে, সেই শক্তি আজ কিন্তু ফ্যালনা নয়। হিসেবটা বোঝাই, ২০০৯ এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি কেরালাতে পেয়েছিল ৬.৪% ভোট, কিন্তু রাজ্যের রাজনোইতিক বাইনারি ছিল কংগ্রেস আর সিপিএম এর মধ্যে, তাই আসন পায়নি, ২০১৪ তে বিজেপি পেয়েছিল ১০.৫% ভোট, ২০১৯ এ ১৫.৬% ভোট পেয়েছিল, কিন্তু আসন পায়নি, ওই একই কংগ্রেস বাম বাইনারির মেরুকরণের জন্যই। ২০২৪ এ বিজেপি পেয়েছে ১৯.৪% ভোট, এবারে ত্রিশুর থেকে ইতিহাস গড়লেন সুরেশ গোপি, একজন ফিল্মস্টার, বিজেপির হয়ে জিতলেন, আর এরপরেই বিজেপি জিতে গেল থিরুভনন্তপুরম কর্পোরেশন, পালাক্কাদ পুরসভাতেও ভাল ফল করেছে। ওদিকে ২০২১ এ বামেরা ৪৫% আর কংগ্রেস ৩৯% ভোট পেয়েছে, এবারে এক তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে এসে দুই দল একে অন্যকে বিজেপির বি টিম বলে অভিযোগ তোলা শুরু করেছে, রাহুল গান্ধী অবশ্য এই প্রথম এত সোচ্চারে এই সেটিং এর কথা বললেন, রাহুল গান্ধীর বক্তব্য হল ওনার বিরুদ্ধে সি বি আই ই ডি ৩৬ টা মামলা করেছে, দেশ শুদ্ধু বিজেপি বিরোধীদেরকে বিভিন্ন মামলাতে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে, ওদিকে পিনারাই বিজয়নের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সিবিআই বা ইডি তাঁকে একবারের জন্যও ডাকে নি, হ্যাঁ এই কথাই তিনি ওই পুথুযুগ যাত্রার শুরুয়াতে বললেন। কেস টা কী?
আরও পড়ুন: Aajke | ‘ফর্ম নম্বর সাত’-কে হাতিয়ার করে বাংলা দখল করতে চায় বিজেপি
আসলে কেরালাতে যে কোনও মুহুর্তে একটা শিফট হতেই পারে, মানে এই রাজনৈতিক তিনকোনা লড়াইটা যে কোনও মুহুর্তে আবার অন্য এক বাইনারি তৈরি করতেই পারে, সেক্ষেত্রে তা কংগ্রেস বিজেপির বাইনারি হলে হু হু করে বাম ভোট রামে চলে যাবে, আবার এই বাইনারি যদি বাম – বিজেপির হয়, তাহলে কংগ্রেস মুছে যেতে পারে। তাই কেরালাতে এখন মানুষের সামনে নিজেদেরকে সবথেকে বিশ্বাসযোগ্য বিজেপি বিরোধী হিসেবে তুলে ধরে সংখ্যালঘু ভোটের সাহায্য নিয়ে নিজেদের সরকার গড়ার চেষ্টা করছে দুই যুযুধমান জোট, কংগ্রেস আর বাম। আর কেরালাতে খ্রিস্টান ভোট ১৮.৩৮%, মুসলমান ভোট ২৫.৫৬%, হিন্দু ভোট ৫৪.৭৩%। কেরালাতেও বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের জন্য, শিক্ষার বিরাট হারের জন্য বিজেপির ঐ ধর্ম উন্মাদনা ছড়ানোর সুযোগ নেই, কিন্তু তাদের ভোট বাড়ছে, অন্যদিকে নিজেদেরকে বিজেপি বিরোধী হিসেবে দাঁড় করয়ে বাম বা কংগ্রেস সংখ্যালঘুদের সমর্থন চাইছে, আর সেটার জন্যই বামেরা কংগ্রেস জোটকে বিজেপির বি টিম, আর কংগ্রেস বামেদেরকে বিজেপির বি টিম হিসেবে প্রমাণ করতে উঠে পড়ে নেমেছে। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেষ করেছিলাম, রাহুল গান্ধী সিপিএম পলিটব্যুরো নেতা, কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই ভিজয়নের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদি, বিজেপির সঙ্গে গোপন সমঝোতা আছে বলে অভিযোগ করেছেন, আপনাদের মতামত জানতে চাই। শুনুন মানুষজন কী বলেছেন।
রাজনীতি কত নতুন শব্দের জন্ম দেয়। সেই কবে ৭০ এর দশকে সিপিএম নেতা কর্মীরা নকশালপন্থীদের কংশাল বলে ডাকতেন, তারা নাকি আসলে কংগ্রেসের বন্ধু ছিল, নিয়তি কেন বাধ্যতে, সেই কংগ্রেসের সঙ্গে সিপিএম এই বঙ্গে জোট করেছে। সেই সিপিএম কর্মী নেতারা এই বঙ্গে বিজেপি আর তৃণমূলকে এক, অভিন্ন হৃদয় বলেই মনে করেন, দুই দলকেই একসঙ্গে হারাতে চান, তাঁরা বিজেমূল শব্দটার জন্ম দিয়েছেন, যাঁহা বিজেপি, তাঁহা তৃণমূল। আজ সেই সিপিএম এর নাম কেরালাতে নাকি সিজেপি, তারা নাকি বিজেপির বি টিম, নতুন শব্দের জন্ম হল, জন্ম দিলেন রাহুল গান্ধী, যাঁহা সিপিএম, তাঁহা বিজেপি।







