নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) আই-প্যাক সংক্রান্ত মামলার (I-PAC Case) শুনানিতে এদিন চরম উত্তেজনা তৈরি হল। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এবং আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ঘিরে সরগরম হয়ে ওঠে আদালতকক্ষ। একাধিক মন্তব্য ও পাল্টা মন্তব্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শুনানির শুরুতেই আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মেনকা গুরুস্বামী। তাঁর অভিযোগ, আদালতের কার্যধারাকে রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “এভাবে আদালতের অপব্যবহার করা উচিত নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের জন্য আদালতকে ব্যবহার করা হচ্ছে।”
আরও পড়ুন: বঙ্গে ভোট শুরু হতেই নারী ও যুব সমাজকে বিশেষ বার্তা মোদি’র
এর জবাবে তুষার মেহতা পাল্টা বলেন, আইনের নীতির ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্যতা বিচার করা উচিত নয় এবং আবেদনের কিছু তথ্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তর্কের মাঝেই ব্যক্তিগত মন্তব্যও শোনা যায়, গুরুস্বামী অভিযোগ করেন, “আপনি একজন অনির্বাচিত রাজমুকুটের মতো আচরণ করছেন।” পাল্টা মেহতা বলেন, “আমি রাস্তার গুন্ডার মতো আচরণ করতে পারি না।”
পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করেন বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র। তিনি উভয় পক্ষকে সংযত থাকার বার্তা দিয়ে বলেন, আদালত যুক্তি শুনতে চায় এবং গণমাধ্যমে কীভাবে বিষয়গুলি উপস্থাপিত হচ্ছে, তা নিয়ন্ত্রণ করা আদালতের পক্ষে সম্ভব নয়।
শুনানিতে তুষার মেহতা পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, রাজ্যে আইনের শাসন ভঙ্গ হচ্ছে এবং ইডি আধিকারিকরা তাঁদের মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা চাইছেন। তিনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত প্রায় ২৭০০ কোটি টাকার একটি মামলার উল্লেখ করেন এবং তল্লাশি অভিযানে বাধা, নথি বাজেয়াপ্ত হওয়া সহ একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন।
এছাড়াও তিনি দাবি করেন, অতীতেও সিবিআই তদন্তে বাধা দেওয়া এবং পুলিশ ব্যবহারের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে চাপে রাখার ঘটনা ঘটেছে। যদিও বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, এই ঘটনাগুলির সঙ্গে বর্তমান মামলার গ্রহণযোগ্যতার কী সম্পর্ক। সব মিলিয়ে, আই-প্যাক মামলার শুনানি ঘিরে আদালতে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিষয়টি এখন বিচারাধীন, ফলে পরবর্তী শুনানির দিকে নজর থাকবে সকলের।







