Sunday, May 17, 2026
HomeScrollAajke | ঝালমুড়ি খেয়েছেন? চা খেয়েছেন? এবারে আসুন
Aajke

Aajke | ঝালমুড়ি খেয়েছেন? চা খেয়েছেন? এবারে আসুন

প্রধানমন্ত্রী ঝালমুড়ি খান, মণিপুরে নিয়ে এক বছর চুপ করে বসেছিলেন

সেই ২০১৯ থেকে বিজেপির এক বিরাট প্রচার, সেই প্রচারে বৃষ্টির মত টাকা ঝরে পড়া, কেন্দ্রীয় নেতা মন্যত্রীদের নিত্য আনাগোনা আমরা দেখেছি, ২০২১ এও ছিল, ২০২৪ এও ছিল, কিন্তু ২০২৬ অনেকটা আলাদা। আসলে বিজেপির প্রচার দফতর এর কাজকর্ম দেখলে বুঝতে পারবেন অমন গোটা ৫০ আই প্যাককে একঢোঁক জল মুখে দিয়ে গিলে নিতে পারবে। সেই প্রচার দফতরের মাথারা ঠিক করেন কিছু ন্যারেটিভ, কিছু ইমেজারি, সেখান থেকেই পাঠানো হয় নির্দেশ, সেই নির্দেশ মেনেই চলে মাটিতে প্রচার। যিনি গাড়িতে পা রেখে বসার আগে তলার লাইট সোর্শ থেকে আলো এক্কেবারে মুখে পড়ছে কি না সেটা দেখেই তবে বসেন, যিনি ক্যামেরার সামনের সব অবস্টাকলকে নেইমারের মত পাশ কাটিয়ে নিজেকে উজ্জ্বল করে তোলেন, সেই মোদিজী নাকি হঠাৎ গতকাল এক ঝালমুড়ির দোকানে নেমে পড়লেন, দশ টাকা দিয়ে পেঁয়াজ দেওয়া ঝাল মুড়ি খেলেন, তার ছবি আজ ভাইরাল, ঝালমুড়ি দোকানের ভেতরে তো ফটোগ্রাফাররা বসেই থাকেন, আড্ডা দেন, তারা হঠাৎ নাকি মোদিজীকে ( Narendra Modi) দেখেই খ্যিচিক খ্যিচিক ছবি তুলে সমাজ মাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ঝালমুড়ি খেলেন, এর আগে জানা গিয়েছিল উনি কেবল আম আর মাসরুম খান, এবারে জানা গেল উনি ঝালমুড়িও খান। ভাবা যায়, আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী ঝালমুড়িও খান, একদম কমন ম্যানের মত, আম আদমির মত। কেবল চোখের চশমাটা দেড় লাখের, বুকপকেটে কলমটা লাখ টাকার ওপরে, পোষাক দিনে তিন থেকে চার বার বদলান এই তো তফাত। তো সেটাই বিষয় আজকে, ঝালমুড়ি খেয়েছেন? চা খেয়েছেন? এবারে আসুন।

উনি ঝালমুড়ি খাবেন, এই ন্যারেটিভ সেট করার দরকার কেন পড়লো? কারণ ওনার ওই অ্যাম্বুলন্স করিয়ে দেওয়ার ন্যারেটিভটা আর মানুষে খাচ্ছে না, যেখানেই উনি যাচ্ছেন, সেখানেই ওনার রাস্তার সামনে একটা অ্যাম্বুল্যান্স পড়ছে, আর ওনার কাফেলা, মানে সেই ১৭/১৮ গাড়ির ক্যারাভান থেমে যাচ্ছে, আহারে আহারে অসুস্থ রোগি যাচ্ছে দেখে দেশের প্রধানমন্ত্রী দাঁড়িয়ে গেলেন, কী সংবেদনশীল। মণিপুরে নারীদের গণধর্ষণের জন্য ওনার সংবেদনশীলতা এক বছর চুপ করে বসেছিল। দিল্লিতে অ্যামবুলেন্স গেলো, ওড়িশাতে অ্যামবুলেন্স গেলো, কলকাতাতেও। আর কত অ্যামবুলেন্স যাবে? তাই নতুন ন্যারেটিভ, দিল্লি থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বাংলার মানুষজন ঝালমুড়ি খেতে ভালো বাসেন, সেই ঝালমুড়ি কীভাবে তৈরি হয়? হালকা আচারের তেল এ কাঁচা লঙ্কা, পেঁয়াজ, ছোলা সেদ্ধ, আলুসেদ্ধ, চানাচুর আর সিজনে ধনেপাতা কুঁচি দিয়ে মেখে একটা বাঁকানো চাঁদের মত নারকেল এর টুকরো গুঁজে দিয়ে। আর সেটা একজন বাঙালিই জানে। কিন্তু রাস্তার ধারে বাঙালির দোকান, অনেক দেখাশোনার পরেও যদি বিগড়ে যায়, যদি বলে যে মা, বৌদি লক্ষ্মীর ভান্ডার পাচ্ছে, মিডিয়ার সামনে তো লেবড়ে যাবে, তাই খুঁজে পেতে একজন হিন্দিভাষীকে পাওয়া গেল, যিনি হিন্দিতেই কথা বলতে পারবেন, ভেতরে বোমা বন্দুক আছে কি না সেসব তন্ন তন্ন করে দেখা হল, তারপরে ঐ ঝালমুড়ির দোকানের ভেতরে একজন ফটোগ্রাফারকে রাখা হল, যিনি ভেতর থেকে উনিজীর মুখের ছবি তুলবেন, সহাস্য মুখের ঝালমুড়ি খাওয়া। আসলে এটা ওই একই ন্যারেটিভ এর একটা ছোট অংশ, বিজেপিও বাঙালি। সেই জন্যই ন্যাড়া বাগচি মাছ নিয়ে প্রচারে বের হচ্ছে, রুদ্রনীল ঘোষ মাছ কাটতে বসছে, সেই ন্যারেটিভ তৈরি করতেই ঝ্যায় শ্রী রামের বদলে জয় মা কালি, সেই ন্যারেটিভের অঙ্গ হিসেবেই প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেডের সভামঞ্চের পেছনে দক্ষিণেশ্বরের কালি মন্দীরের আদল, একই ন্যারেটিভের অংগ ওই বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর লতায় পাতায় এক আত্মীয়কে ভোটে দাঁড় করানো। সেই ন্যারেটিভের অঙ্গ হিসেবেই বঙ্গ বিজেপির নতুন সভাপতির শক্তি চাটুজ্যের কবিতা বলা। হ্যাঁ, ওনারা বুঝতে পেরেছেন বাঙালি বিজেপিকে হিন্দি হার্টল্যান্ডের এক হিন্দি হিন্দুত্বের দল হিসেবেই মনে করে, তাঁরা সেই পরিচয়কে লুকোনর জন্য তাঁদের নানান কায়দা করতে হয়, কখনও বঙ্কিম দাকে স্মরণ করতে হয়, কখনও রবিনদরনাথ ট্যাগোর এর কবিতা আওড়াতে হয়, সেই কবেই দাদা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলে গিয়েছিলেন ভোট বড় বালাই। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেস করলাম, প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ একটা ঝালমুড়ির দোকান দেখে ঝালমুড়ি খেতে নেমে পড়লেন এটা কি সাজানো ঘটনা, উনি বাঙালিয়ানা রপ্ত করছেন সেটা বোঝানোর জন্য নাকি সত্যিই ঝালমুড়ি দেখে খাবার জন্যেই মোদিজী নেমে পড়েছিলেন। শুনুন মানুষজন কী বলেছেন।

আরও পড়ুন: Aajke | ঠাস করে এক থাপ্পড় শুভেন্দু–জ্ঞানেশ–মোদি-শাহের গালে

হ্যাঁ, এটাই মজা, ইয়ে পাবলিক হ্যায়, ইয়ে সব জানতি হ্যায়, মানুষ সব বোজে সব জানে, দুদিনের বাঙালি সেজে ভোট বাগানোর এই প্ল্যানটাও মানুষ দিব্যি বুঝে ফেলেছে, ঐ পাস দিয়ে অ্যামবুলেন্স ইত্যাদিও মানুষ জানে। এবারেও এই নওটঙ্কিটা যে আমরা বুঝিনি তা তো নয়, তাই দুটো কথা মোদিজীর জন্য, ১) ওটা ঝাল্মুলি নয় স্যর, ওটা ঝাল্মুড়ি, মুড়ি। ২) আপনি ডিজিটাল পেমেন্ট এর বড় বড় বুকনি দেন, এখানে ক্যাশে দিলেন কেন ওই ১০ টাকা? সে যাই হোক আফটার অল এটা বাংলা এখানে অতিথি নারায়ণ, এসেছেন রুটি দিয়ে পোস্ত খান, যাঁর বাড়িতে এবারে খেলেন আগামীবারে সে বাড়ির ঠিকানা ভুলে যান, বদখত উচ্চারণে রবি ঠাকুরের কবিতা আওওড়ান, আচারের তেল দিয়ে মেখে ঝাল ঝাল ঝাল্মুড়ি খান, আর খাওয়া দাওয়া হয়ে গেলে বাঙালিরা মুখ ধোবার জল দেয়, মুখ ধোয়া হয়ে গেলে বলে, বেশ, এবার আসুন। হ্যাঁ মোদিজী, ঝালমুড়ি খেয়েছেন? চা খেয়েছেন? এবারে আসুন।

ফেলেছে, ওই পাস দিয়ে অ্যামবুলেন্স ইত্যাদিও মানুষ জানে। এবারেও এই নওটঙ্কিটা যে আমরা বুঝিনি তা তো নয়, তাই দুটো কথা মোদিজীর জন্য, ১) ওটা ঝাল্মুলি নয় স্যর, ওটা ঝাল্মুড়ি, মুড়ি। ২) আপনি ডিজিটাল পেমেন্ট এর বড় বড় বুকনি দেন, এখানে ক্যাশে দিলেন কেন ওই ১০ টাকা? সে যাই হোক আফটার অল এটা বাংলা এখানে অতিথি নারায়ণ, এসেছেন রুটি দিয়ে পোস্ত খান, যাঁর বাড়িতে এবারে খেলেন আগামীবারে সে বাড়ির ঠিকানা ভুলে যান, বদখত উচ্চারণে রবি ঠাকুরের কবিতা আওওড়ান, আচারের তেল দিয়ে মেখে ঝাল ঝাল ঝাল্মুড়ি খান, আর খাওয়া দাওয়া হয়ে গেলে বাঙালিরা মুখ ধোবার জল দেয়, মুখ ধোয়া হয়ে গেলে বলে, বেশ, এবার আসুন। হ্যাঁ মোদিজী, ঝালমুড়ি খেয়েছেন? চা খেয়েছেন? এবারে আসুন।

Read More

Latest News

https://www.annabelle-candy.com/about/ JUARA88 situs slot gacor WDBOS slot gacor mix parlay idn slot https://www.annabelle-candy.com/about/ traveltoto toto slot situs toto slot gacor BWO99 poker idn poker situs slot gacor idn poker toto slot MySlot188 toto slot toto SlotPoker188 situs toto istanaslot istanaslot sohibslot