কলকাতা: এপ্রিলেই গরমে হাঁসফাঁস করার মতো অবস্থা। শুধু পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) কেন, ভারতের একটা বড় অংশই প্রবল তাপপ্রবাহের (Heatwave) কবলে। গরমে পুড়ছে দেশের দশ শহর, ইতিমধ্যেই অনেক জায়গায় তাপমাত্রা ৪২ থেকে ৪৫ ডিগ্রির পারদ ছুঁয়ে ফেলেছে। তাপপ্রবাহে (Heatwave Alerts) উত্তর থেকে দক্ষিণ- সব জায়গায় তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙছে। দিল্লি-সহ উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করল মৌসম ভবন। শুধু উত্তর ভারতই নয়, উত্তর-পশ্চিম এবং মধ্য ভারতেও তীব্র দাবদাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
দেশজুড়ে তীব্র গরমের দাপটে কার্যত নাজেহাল সাধারণ মানুষ।দহনজ্বালার সাক্ষী থাকল দেশের এক বিশাল অংশ। মৌসম ভাবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিল্লি-এনসিআর, পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় তীব্র তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এই অঞ্চলে গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ৪২ থেকে ৪৫ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। একই অবস্থা পশ্চিম ও মধ্য ভারতের রাজ্যগুলিতেও। মহারাষ্ট্র, গুজরাত এবং মধ্যপ্রদেশে পারদ ৪৪ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, ছত্তীসগড় ও উত্তরপ্রদেশের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রির মধ্যে রয়েছে।

মৌসম ভবন (IMD) জানিয়েছে, প্রচণ্ড গরম অর্থাৎ গ্রীষ্মকাল যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকে, সাধারণত সেই সময়ে ৪০-৪৫ ডিগ্রির ঘরে তাপমাত্রা থাকে, কিন্তু এবার জলবায়ুতে এমনই পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে এখনই সেই তাপমাত্রায় পৌঁছে গিয়েছে দেশের বিভিন্ন অংশ। মৌসম ভবন জানিয়েছে, দিল্লি-এনসিআর, পঞ্জাব, হরিয়ানায় তীব্র তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা গত কয়েক দিন ধরেই ৪২-৪৫ ডিগ্রির ঘরে ঘোরাফেরা করছে। অন্য দিকে, পশ্চিম এবং মধ্য ভারতেও একই পরিস্থিতি। মহারাষ্ট্র, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশে তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গিয়েছে। মহারাষ্ট্রের আকোলাতে তাপমাত্রা ৪৫.৬ ডিগ্রি, পঞ্জাবের ফরিদকোটে ৪৫.২ ডিগ্রি, ওড়িশার ঝারসুগুড়াতে ৪৪.৬ ডিগ্রি, গুজরাটের আহমেদাবাদে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। ছত্তীসগঢ়, উত্তপ্রদেশেরও কিছু অংশে তাপমাত্রা ৪০-৪২ ডিগ্রির ঘরে ঘোরাফেরা করছে। পিছিয়ে নেই হিমালয় অঞ্চলের রাজ্যগুলিও। হিমাচল প্রদেশের রাজ্য তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গিয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরেও তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।ওড়িশার ঝাড়সুগুডায় এদিন তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা ছিল সমগ্র দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। দক্ষিণবঙ্গ সহ পার্শ্ববর্তী বিহারেও পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আবহাওয়া দফতরের মতে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারের বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহ (Heat Wave) শুরু হয়েছে। ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি থাকবে তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, কারাইকলে।
আরও পড়ুন:৭ সাংসদের পর এবার ২৮ বিধায়ক! বড়সড় ভাঙনের মুখে পাঞ্জাবের আপ সরকার?
জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, চরম তাপমাত্রার নিরিখে ভারত হটস্পট হয়ে উঠছে। বিশ্বের সবথেকে উষ্ণ শহরের তালিকায় একাধিক ভারতের শহরের নাম আছে। উত্তর, মধ্য ও পূর্ব ভারতে আগামিদিনে আরও গরম পড়বে বলেই সতর্ক করা হয়েছে।এপ্রিল থেকেই দাবদাহ, তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ায় সাধারণ জনজীবনেও প্রভাব পড়ছে।প্রচণ্ড গরম পড়ার নেপথ্যে রয়েছে সুপার এল নিনো (Super El Nino)। সাধারণ এল নিনোর তুলনায় এটি অনেক বেশি শক্তিশালী এবং এর প্রভাবও সুদূরপ্রসারী হয়।’এল নিনো’ হলো একটি জলবায়ুগত ঘটনা, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের জল স্বাভাবিকের চেয়ে উষ্ণ হয়ে যায়। যখন সমুদ্রপৃষ্ঠের এই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে তা স্থায়ী হয়, তখন তাকে ‘সুপার এল নিনো’ বলা হয়।

এর ফলে বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক সঞ্চালন প্রক্রিয়া এলোমেলো হয়ে যায় এবং বিশ্বব্যাপী চরম আবহাওয়া (যেমন তীব্র খরা বা বন্যা) দেখা দেয়। আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র-সহ বিভিন্ন জলবায়ু মডেল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ২০২৬ সালে তৈরি হওয়া এই ‘এল নিনো’ গত ১০০ বছরের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী হতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, ১৯৮২ সালের পর থেকে ‘সুপার এল নিনো ইনডেক্স’-এর মান ক্রমাগত বাড়ছে, যার অন্যতম প্রধান কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত বিশ্ব উষ্ণায়ন। এল নিনোর প্রভাবে গ্রীষ্মকাল দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বেড়ে যায়। ২০২৪ সালের শুরুতেও ভারতজুড়ে রেকর্ড ভাঙা গরম এর একটি বড় উদাহরণ।দক্ষিণবঙ্গে জুন-জুলাই মাসে বৃষ্টিপাতের ব্যাপক ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলে আমন ধানের চাষ শুরু করতে চাষিদের সমস্যায় পড়তে হয়।







