কলকাতা: রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) আগে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ৬০ লক্ষ নাম ‘বিচারাধীন’ রয়েছে। বৈধ ভোটারদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে শুক্রবার থেকে ধর্মতলায় ধরনায় বসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee dharna)। নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির দালাল বলে কটাক্ষ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্নামঞ্চ থেকে বলেন, ‘লজ্জা রাখার জায়গা নেই। ভোটার তালিকায় মৃতেরা এখানে বসে রয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চে কবি জয় গোস্বামী, গায়ক-গীতিকার কবীর সুমন (Kabir Suman), রাজ্যসভায় মনোনীত তৃণমূল প্রার্থী প্রাক্তন পুলিশকর্তা রাজীব কুমার, বাবুল সুপ্রিয়। এদিন মমতার সুরে সুর মিলিয়ে বিজেপিকে তোপ দাগলেন কবীর সুমন। ধরনামঞ্চে কবীর সুমনের নির্ঘোষ, ‘‘বিজেপি হারছেই।’’
কবীর সুমন বলেন, ‘‘আমি মনেপ্রাণে তৃণমূল মোটেও নই। আমার একাধিক অভিযোগ আছে। কিন্তু এত দিন এতটা সাফল্যের সঙ্গে এত দায়িত্ব পালন করে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানচন্দ্র রায়ের পরেই… একবার কলকাতারা রাস্তাঘাট দেখুন। আগে কী ছিল?’’ যাদবপুরের প্রাক্তন সাংসদ জানান, ভোটদান অধিকার। সেই অধিকার কেউ কাড়তে পারে না। তিনি ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে’ রবীন্দ্রসঙ্গীত গান। পরে মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে ‘পথে আবার নামো সাথী’ গানটি গান।
মুখ্যমন্ত্রীর ধর্নামঞ্চে উঠে জোর গলায় বিজেপির পরাজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেন কবীর সুমন। তিনি বলেন, “বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ কবীর সুমনের। তাঁর কথায়,”এটা (ভোট) আমার অধিকার। মৌলিক অধিকার রক্ষার লড়াই। কারও অপছন্দ বলে কিছু করার নেই। আমি ভাবতে পারিনি বিজেপি এই পরিমাণে নির্বোধ। তাদের মাথায় কিচ্ছু ঢোকেনি। বিজেপি কিছুতেই জিতবে না। আমি আবারও বলি আমি তৃণমূল সমর্থক নই। দলকে নিয়ে আমার একাধিক অভিযোগও রয়েছে। কিন্তু এত দিন ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেই সাফল্য অস্বীকার করা যায় না। বিধান রায়ের পর কলকাতার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন একবার দেখলেই বোঝা যায় আগে কী ছিল, আর এখন কী হয়েছে।”
আরও পড়ুন: আমরা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে কাজ করি, ধরনা মঞ্চ থেকে হুঙ্কার মমতার
জয় গোস্বামী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘‘আমি কয়েকটা পুরনো কথা বলব। ওঁদের কথা বলার পরে আমার কথা নির্জীব।মি এখানে কেন এসেছি? সেটা ব্যক্তিগত। এসআইআরের জন্য কত মানুষ মারা যাচ্ছেন। এর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ লড়াই করতে পারেন মমতা।’’মৃত্যু পর্যন্ত মমতা যেখানে থাকবেন, আমি থাকব। তাঁর পাশেই আমি থাকব।’’ এসআইআরের নাম করে কবি জয় গোস্বামীকে হেনস্থা করা হয়েছে। অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি জয়ের বক্তব্যের পর বলেন, ‘‘এই এসআইআরে উনিও ভিক্টিম। ওঁকেও হেয়ারিংয়ে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। এটা ‘ইনসাল্ট’ ছাড়া আর কিছু নয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না মঞ্চে উপস্থিত সুব্রত বক্সী, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সুজিত বসু, অরূপ বিশ্বাস-সহ তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। ধর্না মঞ্চে উপস্থিত শতাধিক তৃণমূল নেতা-নেত্রী। উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্টজনেরা।এদিন পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী।মঞ্চে দাঁড়িয়েই এদিন তিনি বললেন, “আমার সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।”







