কলকাতা: যুদ্ধের আঁচ এসে পড়ছে ভারতেও (India)। জ্বালানি সঙ্কটের মুখে সমগ্র দেশ। ইতিমধ্যেই এলপিজি গ্যাসের (LPG Gas Crisis) হাহাকার দেখা গিয়েছে। মুম্বই, বেঙ্গালুরুর মতো বড় বড় শহরগুলির রেস্তরাঁ-হোটেল বন্ধ করে দেওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাণিজ্যিক গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে দাম বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিল রাস্তার ধারের একাধিক পাইস হোটেল।৩৫-এর সবজি ভাত ৪০। ৪০-এর ডিম ভাত ৪৫। এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হল। জ্বালানি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্র এসমা জারি করায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হল। বাণিজ্যিক গ্যাসের উৎপাদন কাটছাট হওয়ায় জোগানে টান পড়েছে। কলকাতাতেও (Kolkata LPG Crisis) এর রেশ অনেকটাই। রাতারাতি বেড়েছে গ্যাস সিলিন্ডার বুকিং, একইসঙ্গে বাড়ছে কালোবাজারিও।
ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকার Iran Israel US War চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে রান্নার গ্যাসের জোগানে চান পড়েছে। কলকাতার হোটেল-রেস্তরাঁতেও দুশ্চিন্তার কালো মেঘ। কলকাতার খাদ্য গলি ডেকার্স লেন থেকে পার্ক সার্কাসের বিখ্যাত বিরিয়ানির দোকান, শিয়ালদহ থেকে যাদবপুর, সর্বত্র উঠেছে ‘গ্যাসের ব্যথা’। গ্যাসের অভাবে দোকান বন্ধ হওয়ার উপক্রম। বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তার ঢেউ খেলছে পার্ক স্ট্রিট, গোল পার্ক, চাঁদনি, এসপ্ল্যানেড-সহ একাধিক রেস্তরাঁ ও হোটেল পাড়ায়।
আরও পড়ুন: কলকাতায় বাড়ল সিএনজি গ্যাসের দাম! বাড়ল ভাড়াও
সোমবার থেকে নতুন করে গ্যাস গোডাউনে বাণিজ্যিক গ্যাস ঢুকছে না। স্টকে থাকা সিলিন্ডার দিয়েই কাজ চলছে। মুম্বইয়ে ইতিমধ্যেই ২০ শতাংশ রেস্তরাঁ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। একটি প্রসিদ্ধা খাবার চেনের অন্যতম কর্ণধার জানিয়েছেন, ‘‘কোভিডের সময়ও আমরা ব্যবসা চালু রেখেছি। কর্মচারীদের বেতন, বোনাস দিয়েছি। কিন্তু জ্বালানিতে টান পড়ায় এবার পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে এগোচ্ছে। মেনুতে কাটছাঁট করতে হচ্ছে।’ রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজার থেকে উধাও গ্যাস সরবরাহ। এমনি এক চিত্র দেখা গেল রিষড়ার ৪ নং ওয়ার্ডে যেখানে রমজানের গরীবদের জন্য খাওয়ার তৈরি হত।গ্যাসের আকাল তাই রান্না হচ্ছে কাঠের জালে। রান্না করতে দেখা গেল প্রাক্তণ সাংসদ অপরুপা পোদ্দারকে, রমজানের গরীবদের খাওয়ানোর জন্য রান্না করতে।
এখন ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম হয়েছে প্রায় ২০০০ টাকা। বাণিজ্যিক গ্যাসের সিলিন্ডারের অনেকটাই হোটেল-রেস্তরাঁগুলিতে ব্যবহৃত হয়। ফলে সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি হলে হোটেল রেস্তরাঁয় খাবার খরচ বাড়বে, যা আখেরে গুনতে হবে ক্রেতাকেই। দু’তিনদিন পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে প্রমাদ গুনছে বহু ছোট-মাঝারি রেস্তরাঁ। ডেকার্স লেনের দুই ব্যবসায়ী চিত্তদার দোকানের ম্যানেজার বুবাই পণ্ডিত বলেন, “এরকম চলতে থাকলে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে।একই আশঙ্কার কথা শোনালেন ডেকার্স লেনেরই এক ফাস্টফুড দোকানের মালিক সুশান্ত হালদার। তিনি বলেন, “ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক গ্যাস ব্ল্যাক হতে শুরু করেছে। এরপর ব্ল্যাকেও পাওয়া যাবে না। রান্নার গ্যাস (Cooking Gas) নিয়ে উদ্বেগে অনেকেই একসঙ্গে বুকিং করতে শুরু করায় কয়েক দিনের মধ্যেই বুকিং সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায়, এই সুযোগে কালোবাজারিরা বহু বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছে, এমনকি প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বল যোজনার (Pradhan Mantri Ujjwala Yojana) দরিদ্র পরিবারের সিলিন্ডারও হাতবদল হচ্ছে বেআইনিভাবে।







