নয়াদিল্লি: এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়াল নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করল শীর্ষ আদালত। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (CJI Surya Kant) পর্যবেক্ষণে জানান, মুখ্যমন্ত্রীর এই সওয়াল সংবিধানের প্রতি তাঁর আস্থা ও বিশ্বাসেরই প্রকাশ। আদালতের ভাষায়, “এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই। বিষয়টিকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।”
এসআইআর মামলায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ‘অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা’। এদিন মামলার শুনানিতে এই সংগঠনকে তীব্র ভর্ৎসনা করলেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর সওয়াল করা নিয়ে রাজনীতি করবেন না। এতে অস্বাভাবিক কী আছে ? এটাই তো সংবিধানের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রকাশ।
আরও পড়ুন: ‘SIR হবেই’, কড়া পর্যবেক্ষণে কমিশনকে কী নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের?
‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ ভিত্তিতে ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম যেন বাদ না যায়— গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এই দাবি তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তাঁর দায়ের করা মামলায় সেদিন প্রধান বিচারপতির এজলাসে অভূতপূর্ব ভাবে নিজেই সওয়াল করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, এসআইআর-এ নাম বাদ যাওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যে যে বিষয় তুলে ধরেছিলেন আগের শুনানিতে, তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদও জানিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। তা নিয়ে আপত্তি তুলেছিল বঙ্গবিজেপির নেতারা। মমতা সুপ্রিম কোর্টে ‘নাটক’ করতে গিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তাঁর কথোপকথন সে রকম কিছুই প্রকাশ পায়নি। প্রধান বিচারপতির অনুমতি নিয়েই মামলাকারী হিসাবে সওয়াল করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রধান বিচারপতিই তাঁকে বলেছিলেন, পাঁচ মিনিট কেন? ১৫ মিনিট আপনাকে সময় দেওয়া হবে।”
সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর এই আর্জি মেনে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, কমিশন প্রয়োজনে ইআরও এবং এইআরও-দের পরিবর্তন করতে পারবে। যোগ্য মনে হলে বর্তমান অফিসারদের ব্যবহারও করতে পারবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও-রাই। মাইক্রো অবজার্ভার এবং এই অফিসারেরা শুধুমাত্র সাহায্য করবেন। রাজ্যের দেওয়া অফিসারদের দু’দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে বলেও জানিয়েছে কমিশন।







