ওয়েবডেস্ক- করোনা (Corona) পরিস্থিতিতে স্তব্ধ হয়েছিল গোটা বিশ্ব (World) । জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাওয়া নিষেধ জারি করা হয়েছিল। ফের সেই পরিস্থিতি ফিরতে চলেছে? এমনই এক আশঙ্কা সকলের মনে! মহামারি (Epidemic) স্মৃতি এখনও দগদগে ঘা-এর মতো স্পষ্ট। এদিকে শুরু হয়েছে ইরান (Iran) -ইজরায়েল- (Isreal) আমেরিকার (America) যুদ্ধ। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে (Strait of Hormuz) জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যার ফল ভুগছে গোটা বিশ্ব। আমেরিকার ও তেহরানের হুঁশিয়ারি পাল্টা হুঁশিয়ারি চলেছে। ফলে তেল সঙ্কটের গোটা বিশ্বজুড়েই অনিশ্চয়তা।
জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত (Fuel supply disruption) হওয়ায় তেলের দাম এখন ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলারে পৌঁছেছে। আমেরিকায় গ্যাসের দাম গ্যালন প্রতি ৫ ডলারে নেমে এসেছে। আর পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সব কিছুর দাম বাড়ছে। গৃহস্থের হেঁশেলও সঙ্কটে। খাদ্য নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে, কারণ খাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সার আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। চাষের জন্য কৃষকদের বেশি টাকা ব্যয় করতে হলে বাড়বে খাদ্যের দামও। অন্যদিকে বিমান সংস্থাগুলিও বিমান সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে, ফলে ভ্রমণ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স শুধু এই সপ্তাহেই তাদের পাঁচ শতাংশ ফ্লাইট কমিয়েছে। অন্যান্য দেশগুলিও সেই একই পথে হাঁটছে।
ফলে বিমান ভ্রমণ আরও বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ জ্বালানি না থাকায় বিমানের সংখ্যা কমছে। বিভিন্ন দেশের সরকার অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ সীমিত করার জন্য অনুরোধ করছে। করোনার সময়েও একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
অনেক দেশই বিশ্বব্যাপী জ্বালানি মজুদ করার দিকে হাঁটছে। জাপানে জ্বালানি দিতে টোকেন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। জ্বালানি দেওয়ার জন্য ভাউচার বিতরণ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন- আরও সস্তা হল সোনা, রুপোর দামেও হল বিরাট পতন
দক্ষিণ কোরিয়াতেও একই অবস্থা। বাংলাদেশ, ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কায় পেট্রোলের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সরকার জনগণকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ কমানোর নির্দেশ দিয়েছে। ভারতের ৮০ শতাংশ তেল আসে হরমুজ প্রণালী থেকে। পাকিস্তান ইতিমধ্যেই অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। তেল সঙ্কট সেই সঙ্কটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) ‘তেল সঙ্কট থেকে বাঁচতে’ ১০-দফা পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এতে বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোকে একাধিক নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রতিটি হাইওয়েতে গাড়ির গতি কমানো, প্রয়োজন ছাড়া বিমান সফর কম করা, গ্যাস স্টোভের পরিবর্তে ইলেকট্রিক স্টোভ ব্যবহার, যতটা সম্ভব বাড়ি থেকে কাজের পরামর্শ। আইইএ বলেছে, এটি কোনও বরং সরকারগুলির জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি পরিকল্পনা। সেখানে আরও বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে এটি যেমন কার্যকর ছিল, তেমনি জ্বালানি সঙ্কটের সময়েও এটি কার্যকর হবে।







