ওয়েব ডেস্ক: বরখাস্ত মামলায় বিবাহবিচ্ছেদ (Divorce) নিয়ে বড় পর্যবেক্ষণ করল দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court)। একটি মামলার শুনানির সময় হিন্দু ধর্মের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পর্কে আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিল যে, গ্রামবাসীর সামনে স্বাক্ষর করে বিবাহ বিচ্ছেদ আইনত সিদ্ধ হয় না। আদালতের বিচারপতি শ্রী হরিশংকর এবং বিচারপতি ওম প্রকাশ শুক্লা এই মামলায় পর্যবেক্ষণ করেন, “গ্রামবাসীর সাক্ষ্যে বিবাহ বিচ্ছেদে সম্মতি দিয়ে স্বাক্ষর করলে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়, এমন কোনও আইন বা নীতি আমরা শুনিনি, জানিও না।”
আসলে দিল্লি হাইকোর্টে এই মামলাটি উঠে আসে সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স বা সিআইএসএফ-এর এক কনস্টেবলের বরখাস্ত (CISF Constable Suspended) হওয়া নিয়ে। অভিযোগ ছিল, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকাকালীন তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। এটি ২০০১ সালের সিআইএসএফ বিধির ১৮২ ধারাকে ভঙ্গ করে। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ওই কনস্টেবলকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
আরও পড়ুন: মহাভারতকে সামনে রেখে খুনের আসামিদের সাজা বদল করল আদালত
এই বরখাস্ত নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ঐ সিআইএসএফ কনস্টেবল। আবেদনকারীর দাবি ছিল, গ্রামবাসীর সামনে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদপত্রে স্বাক্ষর করে তিনি বিবাহ বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন। তবে আদালত জানায়, এই ধরনের প্রথা আইনি স্বীকৃতি পায় না। সেই কারণে এই ধরণের বিবাহবিচ্ছেদকে মান্যতা দিতে পারে না আদালত।
এই মামলার রায় ঘোষণার সময় হেড কনস্টেবল বাজির সিং বনাম ভারত সরকার মামলার নজিরও উল্লেখ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতিতে অভিযুক্তকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। ফলে আদালত আবেদনকারীর আরজি খারিজ করে দেয় এবং স্পষ্ট করে দেয় যে, হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী বৈধ বিচ্ছেদ কেবলমাত্র আদালতের ডিক্রি দ্বারাই সম্ভব, গ্রাম বা সমাজের সাক্ষ্যে নয়।
দেখুন আরও খবর: