ওয়েব ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Kalyan Banerjee) বাদল অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য সাসপেন্ড (Suspend) করা হল। মহিলা সাংসদদের উদ্দেশে ‘অশালীন’ ভাষা ব্যবহার করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে লোকসভায় কণ্ঠভোটে সাসপেনশনের প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পরই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। চলতি বাদল অধিবেশন আগামী ১৩ অগস্ট পর্যন্ত চলবে।
লোকসভা সূত্রে খবর, বিরোধীদের বিক্ষোভের জেরে অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর কক্ষের মধ্যেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) সঙ্গে তাঁর প্রাক্তন দলের কয়েকজন সাংসদ এবং ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI)-র সদস্যদের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। ওই ঘটনায় এনসিপিআইয়ের মিতালি বাগ, শতাব্দী রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ কয়েকজন সাংসদের নাম উঠে এসেছে। যদিও ঠিক কী কারণে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়।
আরও খবর : সিকিমের সুড়ঙ্গ বিপর্যয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা! ঘটনাস্থলে দুই বিধায়ককে পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী
তবে সূত্রের খবর, বিদ্রোহীদের দলবদলু বলে কটাক্ষ করেন কল্যাণ (Kalyan Banerjee)। প্রতিবাদ করেন শতাব্দীরা। শুরু হয় তর্কাতর্কি। এমনকী বিদ্রোহীদের দলবদলের কারিগর ভুপেন্দ্র যাদবকেও কটাক্ষ করেন মমতাপন্থী তৃণমূলের সাংসদ। এর পরেই কল্যাণের বিরুদ্ধে মহিলা সাংসদদের অপমান, ও নারীবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের অভিযোগে তোলে এনসিপিআই নেতৃত্ব।
পরবর্তীতে এনসিপিআইয়ের (NCPI) কয়েকজন সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে লিখিত অভিযোগ জানান। দুপুর ২টায় অধিবেশন শুরু হলে সভাপতিত্বকারী কৃষ্ণ প্রসাদ তেন্নেটি অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এরপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল তাঁর সাসপেনশনের প্রস্তাব পেশ করেন। বিরোধীদের স্লোগানের মধ্যেই কণ্ঠভোটে সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়।
এদিকে সাসপেন্ড হওয়ার পর কল্যাণ (Kalyan Banerjee) বলেন, “দরকারে বাইরে থাকব। কিন্তু বেইমানদের সামনে মাথা নত করব না।” তিনি পরের দিন সংসদে এসে বাই বসে থাকবেন বলেও জানিয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদ করেছেন কুণাল ঘোষও। তিনি বলেছেন,“কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করা চূড়ান্ত অগণতান্ত্রিক। বেইমানদের প্রটেক্টররা কল্যাণ দা দের সাসপেন্ড করছেন। কল্যাণ দা যা করেছে যা বলেছেন ঠিক করেছেন।”







