ওয়েব ডেস্ক: আগে অধিগ্রহণ করা জমির জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো পরে দাখিল হওয়া ক্ষতিপূরণের আবেদন আইনত-গ্রাহ্য। এই নির্দেশ পুনর্বিবেচনা করার জন্য ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার আবেদন খারিজ।
রাস্তা সম্প্রসারণ বা নতুন রাস্তার আগে অধিগৃহীত জমির জন্য নতুন হারে ক্ষতিপূরণ ও সুদ পাওয়ার আবেদন করলে তা ন্যায্য বলে ২০১৯ সালে রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের আবেদন ছিল, এর পরিবর্তে আগামী দিনে অধিগৃহীত জমির জন্য কেবল নতুন হারে জমির দাম ও সুদ দেওয়ার নির্দেশ দিক আদালত। কারণ বহু ক্ষেত্রেই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ও সুদ নির্ধারিত হয়ে যাওয়ার পরে ক্ষতিগ্রস্ত নতুন হারে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আবেদন করছেন। বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়ার ডিভিশন বেঞ্চ ২০১৯ সালের রায়কেই বহাল রেখেছে।
আরও পড়ুন: যোগী আদিত্যনাথকে সঙ্গে নিয়ে সঙ্গমস্থলে পৌঁছন মোদি
২০১৯ সালের সুপ্রিম রায়টি তারসেম সিং জাজমেন্ট হিসেবে পরিচিত। ১৮৯৪ সালের জমি অধিগ্রহণ আইন অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণের একটি পদ্ধতি হিসেবে সোলাসিয়াম প্রদান এবং জমিদাতাদের প্রাপ্য সুদ দেওয়ার সুযোগ এনএইচএআই আইনে বাদ রাখা হয়েছে। এই অভিমত দিয়ে ওই আইনের তিন জে ধারাটিকে অসাংবিধানিক বলে জানায় আদালত। কারণ সংবিধান অনুযায়ী আইনের চোখে সবাই সমান।
ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটির বর্তমান আবেদন গ্রাহ্য হলে তারসেম সিং রায়ের মূল অংশটি বাদ দিতে হয়। কোনও আইন অসাংবিধানিক ঘোষিত হলে তা নতুন করে বহাল রাখার সুযোগ নেই। দ্বিতীয়ত, ওই ধারার ফলে ১৯৯৭ সাল থেকে অধিগৃহীত জমির জন্য জমির মালিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে। লক্ষ্যনীয়ভাবে ২০১৩ সালে নতুন আইন আসার পর অধিগৃহীত জমির জন্য যে হারে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, তা আগে অধিগৃহীত জমির মালিকরা পাননি। উদাহরণ হিসেবে আদালত জানিয়েছে, নয়া আইন যেহেতু ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে, তাই যার জমি ২০১৪ ডিসেম্বর অধিগৃহীত হয়েছে তিনি একরকম হারে ক্ষতিপূরণ পাবেন। অন্যদিকে একদিন পরে সেই ব্যক্তির প্রতিবেশীর জমি অধিগৃহীত হওয়ায় নয়া আইন মাফিক অনেক বেশি হারে ক্ষতিপূরণ মিলবে। ২০১৯ সালের সুপ্রিম রায়ে এই বৈষম্যের বিষয়টিকেই সংশোধন করা হয়েছে বলে জানাল আদালত।
দেখুন অন্য খবর: