কলকাতা: “অন্তঃসারশূন্য বাজেট! নেই বাংলার উল্লেখ”, কেন্দ্রকে নিশানা করে জ্বালাময় মক্তব্য রাখলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এদিন সংসদে বক্তব্য রাখতে উঠে অভিষেক বলেন, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ৮৫ মিনিট ধরে বাজেট বক্তব্য পেশ করেছেন, কিন্তু একবারের জন্যও বাংলার নাম মুখে আনেননি। দেশের প্রতিটি রাজ্যের মধ্যে সমতার প্রতিশ্রুতি দেয় আমাদের সংবিধান, কিন্তু কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন এই সরকার পক্ষপাতমূলক রাজনীতি করছে। যেখানে বিজেপির জোট-সঙ্গীরা অর্থ পাচ্ছে আর বিরোধী-শাসিত রাজ্যগুলিকে ভাতে মারা হচ্ছে। এটা কোনওভাবেই ‘সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা’ নয়। এটা হল এক ধরনের ‘সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা’।
বাজেট নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রের পক্ষপাতমূলক আচরণ আবারও সামনে আনলেন লোকসভার সংসদীয় দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সংসদে দাঁড়িয়ে অভিষেক দুই ভারত’ তত্ত্ব তুলে বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধোনা করলেন। তাঁর অভিযোগ, একদিকে ভারত বিশ্বগুরু হওয়ার দাবি করছে। গোটা বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার বার্তা দিচ্ছে, অথচ সেই ভারতেরই কিছু নাগরিককে স্রেফ ভাষা, খাদ্যাভ্যাস এবং সংস্কৃতির জন্য বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হিসাবে দেগে দেওয়া হচ্ছে।মঙ্গলবার বলেন, “কিছুদিন আগে আমেরিকায় তরুণ কমেডিয়ান দুই ভারতের কথা বলেছিলেন। তাতে বহু মানুষ হেসেছিল। কিন্তু তিনি শুধু হাস্যরস সৃষ্টি করেননি। আয়না দেখিয়েছেন। আমি সেই দুই ভারতের প্রতিনিধি।”
আরও পড়ুন: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি
অভিষেক বলেন, “আমি এমন এক ভারত থেকে আসি যেখানে বলা হয়, এক ভারত-শ্রেষ্ঠ ভারত। আবার সেখানেই স্রেফ মাতৃভাষাকে সন্দেহের কারণ হিসাবে দেখা হয়। বাংলা বললেই বাংলাদেশি, মাছ খেলেই মোগল। এখানে জয় বাংলা বললেই, আমার সোনার বাংলা গাইলেই অনুপ্রবেশকারী হিসাবে দেগে দেওয়া হয়।”বাজেটের জবাবি ভাষণের মঞ্চকে হাতিয়ার করেই সেই বকেয়া নিয়েও সরব হলেন অভিষেক। তিনি বললেন, “আমরা একদিকে নিজেদের বিশ্বগুরু বলে দাবি করি। অন্যদিকে বাংলার ১০ কোটি মানুষকে নিজেদের প্রাপ্য করের ভাগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আজও বাংলার ১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি আটকে আছে। এটা শুধু টাকা নয়, এটা সম্মানের প্রশ্ন।রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য বাংলার মানুষ ১০০ দিনের রোজগার গ্যারান্টি আইনের রোজগার পাচ্ছেন না। আবাসের যোজনার ঘর থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।







