এই সবে রাজ্যের পুলিশ-আমলাদের খোলনলচে বদলে দিয়ে বিজেপি নেতা-কর্মী আর ভক্তগণ দু’হাত তুলে নেত্য করছিলেন, এবারে হুঁ হুঁ বাওয়া, দেখিয়ে দেবো। কিন্তু তারই মধ্যে আবার রেগে আগুন তেলে বেগুন স্বয়ং শান্তিকুঞ্জের মেজখোকা, নহি চলেগা, কলকাতার পুলিশ কমিশনার নাকি এখনও ওই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়েই কাজ করে যাচ্ছে। কেবল মনে করছেন না, তিনি সাফ জানিয়েও দিলেন, নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত কলকাতা পুলিশের নতুন কমিশনার অজয় নন্দের কাজে খুশি নন। মঙ্গলবার সিইও দফতরের সামনে গন্ডগোলের পরে জানিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, সিপি অন্য এক পুলিশ অফিসারের কথায় চলছেন, যিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে ‘গোলাম’। তো এই কথা তিনি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে জানিয়েছেন, তো সেই তিনি মানে মনোজ আগরওয়াল সঙ্গে সঙ্গেই জানিয়েছেন, কমিশনকে বলবেন। কেবল তাই নয় গতকালের সিইও দফতরের ঘটনায় অজয়কে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন মনোজও। তিনি জানান, ওই জায়গায় গন্ডগোল হলে তা সামলানোর দায়িত্ব কলকাতার পুলিশ কমিশনারেরই। যা তাঁরা নাকি সামলাতে পারছেন না। কী করে ১৪৪ ধারা থাকার পরেও এত লোকজন সেখানে জড়ো হন। মানে ঢিচক্যাঁও ঢিচক্যাঁও করে গুলি চালানো হল না কেন? এটাই বোধ হয় ওনার দুঃখ। মানে কী দাঁড়াল? সুপ্রতীম সরকারকে সরিয়ে দিয়ে যে অজয় নন্দাকে মাত্র ক’দিন আগেই কলকাতার পুলিশ কমিশনার পোস্টে বসানো হল, তাঁর কাজে না খুশি বিরোধী দলনেতা, না খুশি রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তো কে বসবেন তাঁর জায়গায় লালবাজারের লালবাড়িতে? সেটাই বিষয়, শুভেন্দু অধিকারীকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার করা হোক।
সারা বছর পড়াশুনো না করা ছাত্ররা পরীক্ষার ঠিক আগে বিভিন্ন তুকতাক আর অলৌকিক কোনও কিছু ঘটে যাওয়ার অপেক্ষাতে থাকে, হঠাৎ হেড স্যারের অকাল প্রয়াণে স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে, পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাবে, ধূম জ্বর আসবে পরীক্ষাতে বসতেই হবে না, অংকের মাস্টারমশাই ভুল করে প্রশ্নপত্রটা আগের দিনেই টেবিলে ফেলে চলে যাবেন, গুপিদা প্রত্যেকটা প্রশ্নের উত্তর লিখে পরীক্ষা হলে পাঠিয়ে দেবে, এইরকম আরকি। কিন্তু কিছুই হত না, শেষমেষ পরীক্ষা আসত, রেজাল্টে লাল কালির দাগ লাগত। বঙ্গ বিজেপির অবস্থাটা এক্কেবারে ঐরকম, এক্কেবারে। ভাবছে ভোটার লিস্ট থেকে কিছু বাদ দিয়েই জিতে যাবেন ওনারা, মুসলমান ভোটারদের বাদ দিতে পারলেই কেল্লাফতে! ভাবছেন মুখ্য সচিবই তো নবান্ন থেকে বসে তৃণমূলকে জেতাত, তো ওকেই যদি সরিয়ে দিয়ে নিজেদের নেওটা কাউকে বসিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে তো নবান্ন দখলে আসবে। ভাবছেন সুপ্রতীম সরকারের জায়গাতে অজয় নন্দাকে বসালেই খেল খতম, পয়সা হজম! কলকাতার ১০টা আসনে তো ওই পুলিশ কমিশনারই তৃণমূলকে জেতায়, এবারে আমরা জিতব। সরকারি কাজের পদ্ধতি নিয়ে সামান্যতম জ্ঞান গম্যি ঠাকলে এরকম ভাবতেন না।
আরও পড়ুন: Aajke | এবারে বাইরে থেকে ভোটার এনে ভোট করাবে নির্বাচন কমিশন
হ্যাঁ, তৃণমূল নেতাদের মধ্যে একটু বুঝদার কাউকে জিজ্ঞেস করুন, সেই কবে ২০১১-তে চলে গেছে বামফ্রন্ট, এখনও সেই সময়ের কাঠামোর ভগ্নাংশও কতটা বেগ দেয়, কতটা শক্তি এখনও তাদের আছে। শিক্ষা দফতরের এক মাথা কিছুদিন আগেই বলছিলেন, এখনও যে পরিমাণ সিপিএম কন্ট্রোল আছে শিক্ষা দফতরে তা অনেককিছু নির্ধারণ করার জন্য যথেষ্ট। সেই আমলা তৃণমূল নয়, সেই আমলা বিজেপিও নয়, কিন্তু জানি সেই আমলা সত্যি বলেন, বলছিলেন। এটা ওই বঙ্গ বিজেপির নেতারা জানে না, দু-চারটে আমলা এই গোটা সিসস্টেমকে চালায় না, চালানো সম্ভব নয়, একটা জামানা আসে, তারা চেষ্টা চালাতে থাকে, ৫-১০-১৫ বছর পরে তারা সেই সিস্টেমের অঙ্গ হয়ে যায়, তার পর জামানা বদলালে সেই সিস্টেম পাল্টাতে সময় লাগে। যার ফলে সুপ্রতীম সরকারের বদলে অজয় নন্দাকে নিয়ে আসলে বা তার জায়গাতে আরও অন্য কাউকে নিয়ে আসলেও পুলিশের চেহারা রাতারাতি আলাদা হবে না। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, এই মাত্র ক’দিন আগে কলকাতা পুলিশ কমিশনার সুপ্রতীম সরকারকে সরিয়ে অজয় নন্দাকে আনা হল, কিন্তু মাত্র ক’দিনের মধ্যেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জেনে গেলেন যে, এই অজয় নন্দাও নাকি মমতার লোক। তাহলে এসব পুলিশকর্তা, আমলাদের সরিয়ে হবে টা কী? শুনুন মানুষজন কী বলেছেন।
সারা বছর রাস্তায় থাকতে হবে, হ্যাঁ, শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন বটে মমতার সঙ্গে কিন্তু এখন বোঝা যাচ্ছে ছাত্র হিসেবে তিনি অত্যন্ত অমনোযোগী, সারা বছর রাস্তায় থেকে লড়াই করেই জেতা যায়, কেবল ওই আমলা পুলিশ সরিয়ে, নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে কিছু নাম কাটিয়ে রাজ্যের ক্ষমতা দখল করা অসম্ভব। হ্যাঁ, একটা উপায় আছে, কোনওভাবে কমিশনারকে সরিয়ে তিনিই যদি হয়ে যান কমিশনার, বা মুখ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে যদি মেজখোকাকেই করে দেওয়া হয় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, একমাত্র তাহলেই ওনার স্বপ্নপূরণ হতে পারে, কিন্তু সে গদিও টেঁকানো খুব শক্ত, অরণ্যের প্রবাদ, মমতা ক্ষমতা, তার চেয়েও ভয়ঙ্কর মমতা যখন বিরোধীতায়।
দেখুন আরও খবর:








