Wednesday, February 11, 2026
HomeScrollAajke | থাপ্পড়টা কি খুব জোরে লাগল শুভেন্দুবাবু?
Aajke

Aajke | থাপ্পড়টা কি খুব জোরে লাগল শুভেন্দুবাবু?

এই থাপ্পড়ের শব্দ বাংলার ভোটের রেজাল্ট বার হওয়া অবধি শোনা যাবে, প্রতিধ্বনিত হবে

Written By
অনিকেত চট্টোপাধ্যায়

‘এক কোটি নয় দেড় কোটি রোহিঙ্গা আর বাংলাদেশিদের নাম বাদ দেওয়া হবে,’ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন শুভেন্দু বাবু, ‘সকাল হওয়ার আগে অনুপ্রবেশকারীরা পালান, সনাতনীরা নাকি জেগে উঠেছে’। হ্যাঁ, এসব শুনে বাংলাজুড়ে ব্যাকফুটেই ছিল সাধারণ মুসলমান মানুষ। কিন্তু এসআইআর-এর শুরুতেই দেখা গেল মুসলমান নয়, আন-ম্যাপড ভোটারের তালিকাতে হিন্দু নমশুদ্রদের নাম বেশি, অবাঙালি হিন্দুদের নাম বেশি। বিজেপি রাজ্য দফতরে মুখভার, মতুয়া অধ্যুষিত অঞ্চলে বিজেপি নেতাদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে, প্রশ্ন করছেন রাজবংশীরা। কিন্তু দান ছেড়ে দেবার পাত্র তো নয় বিজেপি! দিল্লি-কলকাতা, দিল্লি-কলকাতা বারকয়েক বৈঠকের পরে দেখলাম ছবিটাকে এক্কেবারে ঘুরিয়ে দিয়ে প্রায় দেড় কোটি মানুষের তালিকা এসে গেল, কী? কেন? জানা গেল ‘লজিক্যাল ডিসিক্রিপেন্সি’। না, বিহারে এই ত্যাঁদড়ামি ছিল না, ‘লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি’, ‘এক বাবার ছয় সন্তান হলেই ডাকো’, ‘বাবার নামের শেষে হক আছে ছেলের নামের শেষে আহমেদ কেন? বুলাও উসকো’। হ্যাঁ, এই এক নতুন খেলা শুরু হল এবং সেই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা লম্বা হতেই থাকল। তখন আবার আরেক আশঙ্কা ঘিরে ধরেছিল আমাদের, শুনানি হচ্ছে, অ্যাডমিট কার্ড নিচ্ছে না, আধার কার্ড তো আগেই বাতিল, বহু মানুষের কাছে তেমন ডকুমেন্টস নেই, ‘বাবার নাম ব্রজেন্দ্র নাথ থেকে ব্রজেন্দ্র কেন হল, আর তিনিই যে আপনার পিতা সেটা প্রমাণ করুন’ গোছের তুঘলকি কারবার শুরু হল। ঠিক সেই সময়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় এল, সানি দেওলের ঢাই কিলো ওজনের হাতের থাপড় পড়ল। হ্যাঁ, সেটাই বিষয় আজকে, থাপ্পড়টা কি খুব জোরে লাগল শুভেন্দুবাবু?

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেদিন দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়েছিলেন সেদিন কোন বিষয়গুলো সামনে এসেছিল? (১) যাঁদের নাম নেই, যাঁদের লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি পাওয়া গিয়েছে, সেই তালিকা বার করা হোক, (২) অ্যাডমিট কার্ডে ডেট অফ বার্থ অন্য রাজ্যে থাকে না, আমাদের থাকে কাজেই সেটাকে গণ্য করা হোক, (৩) শুনানির সময়ে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিকে থাকতে দেওয়া হোক কারণ সাধারণ মানুষ সবটা বুঝিয়ে বলে উঠতে পারছে না, (৪) ডকুমেন্টস জমা নিলে তার প্রাপ্তির রসিদ দেওয়া হোক। চারটে প্রশ্নেই উত্তপ্ত হয়েছিল সেই বৈঠক এবং শেষমেষ, অভিষেক ব্যানার্জী মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি নির্বাচিত সাংসদ, কাজেই জ্ঞানেষ কুমার’জি আপনার আঙুলটা নীচে করুন। এরপরেই শুরু হয় আইনি সহায়তার ব্যবস্থা, সুপ্রিম কোর্টে মামলা শুরু হল। এবারে সুপ্রিম কোর্টের রায় এসেছে। পরিস্কার রায়। (১) লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা বার করতে হবে, মানে পাবলিক ডোমেইনে রাখতে হবে, (২) মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে ডেট অফ বার্থ হিসেবে গণ্য করতে হবে, (৩) রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি মানে বিএলএ-কে শুনানির সময়ে রাখতে দিতে হবে, (৪) যে ডকুমেন্টস নির্বাচন কমিশন নেবে তার প্রাপ্তির রসিদ দিতে হবে।

আরও পড়ুন: Aajke | মোদি আসবেন, আর ফুস মন্তরে শিল্প হবে? এদিকে ভাট বকা ছাড়া কিছুই শোনা গেল না

হ্যাঁ, এই থাপ্পড়ের শব্দ বাংলার ভোটের রেজাল্ট বার হওয়া অবধি শোনা যাবে, প্রতিধ্বনিত হবে। শুভেন্দু বাবুদের পরিকল্পনা মতো কাজ হচ্ছে না, শুরুর থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, গণতন্ত্রের অবশিষ্ট প্রতিষ্ঠান দেরিতে হলেও রুখে দাঁড়িয়েছে। দেশের শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, তথ্যগত অসঙ্গতির (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) তালিকা প্রকাশ করতে হবে কমিশনকে। প্রতিটা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস, ব্লক অফিস এবং ওয়ার্ড অফিসে প্রকাশ্যে ওই তালিকা টাঙাতে হবে। মোদ্দা কথা হল, চুপি চুপি কাজ সেরে ফেলার যে পরিকল্পনা তা মাঠে মারা গেল। ঠিক এটাই জরুরি ছিল, না ইভিএম দিয়ে দেশজুড়ে, রাজ্যজুড়ে মানুষের রায়কে উলটে দেবার ক্ষমতা নেই, কিন্তু ভোটার তালিকাকে ম্যানিপুলেট করা, হ্যাঁ সম্ভব। ভোট হয়ে যাওয়ার পরে রাহুল গান্ধী সেসব তথ্য বার করে করে দেখাচ্ছেন, কিন্তু ততদিনে তো যা করার করা হয়ে গিয়েছে। বাংলাতে এসে সেটা হল না, হবেও না। ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে মানুষ বুঝে নেবে এটা সেই শুরুর দিনে বলেছিলাম, একজন বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া সম্ভব নয়, আজ আদালতের রায়ের পরে সেটাও খুব সাফ বোঝা যাচ্ছে। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, তৃণমূল দলের নেতৃত্বে যেভাবে সর্বোচ্চ আদালত থেকে এই তুঘলকি এসআইআর-এর ফতোয়ার বিরুদ্ধে রায় এনে দিল তাতে করে এই এসআইআর নিয়ে শুভেন্দুবাবুর দেড় কোটি ভোটারকে বাদ দেওয়ার স্বপ্নটা কি এক্কেবারেই ধুয়ে মুছে গেল, নাকি তার আশঙ্কা এখনও আছে?

বিজেপির হয়ে গলা ফাটানো এক ইউটিউবারকে দেখেছিলাম এসআইআর হচ্ছে ঘোষণার পরে হাত মাথার উপরে তুলে আনন্দ করতে, ইয়েস, ইয়েস, ইয়েস এবারে তো মমতা শেষ, এরকম একটা আবেগ ঝরে পড়ছিল। মাত্র ক’মাস পরে সেই সংখ্যালঘু ইউটিউবারে গলায় আতঙ্ক, কী চলছে এসব? ওনাকে, ওনার স্ত্রীকে ডাকা হয়েছে, বেছে বেছে মুসলমানদের ডাকা হচ্ছে, হ্যাঁ, উনিই বলছেন। যে হাত তুলে নাচছিলেন সেই হাতই এখন মাথায়। হ্যাঁ এরকমই হয়, ফাসিস্টদের আক্রমণে কেবল ফাসিস্ট বিরোধীরাই মরেন, অত্যাচারিত হন তেমন নয়, ফাসিস্ট সমর্থক দালালদের উপরেও কোপ পড়ে। সে যাই হোক আমরা জানিয়ে রাখলাম যে, কোনও সাহায্য লাগলে আমাদের বলবেন, আমরা পাশে দাঁড়াব, একজন বৈধ ভোটারের নাম আমরা বাদ দিতে দেব না।

দেখুন আরও খবর:

Read More

Latest News

toto DEPOBOS https://valebasemetals.com/join-us/ evos gaming

slot gacor

https://www.demeral.com/it/podcast