ওয়েব ডেস্ক: ২০২৬-এ বাংলায় বিঘধানসভা নির্বাচন (Assembly Election 2026 West Bengal)। সেই অঙ্ক ধরেই রাজনৈতিক মহল ভেবেছিল বাংলার জন্য ঢেলে প্রকল্প ঘোষণা করা হবে। কিন্তু বাজেটে সেভাবে কিছু পরিলক্ষিত হয়নি। সেই অর্থে দেখতে গেলে গত বাজেটে ভোটমুখী বিহার ও অন্ধ্রপ্রদেশকে ঢেলে প্রকল্প দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। জোটসঙ্গীকে নিয়ে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছিল বিজেপি। এদিনের বাজেটে (Union Budget 2026) বাংলার কপালে কিছু জোটেনি বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের বক্তব্য, বাংলা নিয়ে কোনও মাথা ব্যাথা নেই। বাংলা নিয়ে কিছু করবে না। বাংলার জন্য একটা শব্দ নেই। এবারের বাজেটে দেশের পূর্বদিকের রাজ্য ও উত্তর-পূর্বের রাজ্যের দিকে বিশেষ নজর মোদির সরকারের। এই বাজেটে ইস্ট কোস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোরের উন্নয়নের দিকেও নজর দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। এর ফলে দক্ষিণের তামিলনাড়ু থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত ও মসৃণ হবে।
ভোটমুখী বাংলার জন্য বিশেষ ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী।ডানকুনিতে তৈরি হবে পণ্য পরিবহণের বিশেষ করিডর। একই করিডর তৈরি হবে সুরতেও। সাতটি হাইস্পিড রেল করিডর তৈরি করা হবে, যার মধ্যে একটি হবে শিলিগুড়িতে। দুর্গাপুরে শিল্প করিডর গড়ে তোলার প্রস্তাবের কথা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। বর্তমানে দেশে দু’টি ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর চালু রয়েছে। পূর্বাঞ্চলের করিডর লুধিয়ানা থেকে ডানকুনি পর্যন্ত বিস্তৃত। অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের করিডর দাদরি থেকে মুম্বইয়ের জওহরলাল নেহরু পোর্ট পর্যন্ত। নতুন ঘোষিত ডানকুনি-সুরাট করিডর কার্যত এই দু’টি রুট সংযুক্ত করবে।
আরও পড়ুন: হাম্পটি ডাম্পটি বাজেট, কেন্দ্রকে তুলোধনা মমতার
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ঘোষণা করেন দেশের ৫টি পূর্বদয় রাজ্যে ৫টি পর্যটন কেন্দ্র তৈরির কথাও ঘোষণা করেন। এ ছাড়াও এই রাজ্যগুলোর জন্য ৪ হাজার ইলেকট্রিক বাসের কথাও ঘোষণা করেন তিনি। এ ছাড়াও দেশের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোর উন্নতিকল্পেও একাধিক প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করেন তিনি।ইস্ট কোস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর হল পশ্চিমবঙ্গ থেকে তামিলনাড়ু পর্যন্ত বিস্তৃত দেশের প্রথম উপকূল ভিত্তিক করিডোর। বন্দর, জাতীয় সড়ক, রেল ও শিল্প ক্লাস্টারকে একে অপরের সঙ্গে মসৃণ ভাবে জুড়তে করে তৈরি হয়েছে এই করিডোর। এই করিডোরের প্রধান লক্ষ্য হল লজিস্টিক্স খরচে রাশ টানা ও রফতানির জন্য প্রয়োজনীয় উৎপাদন বাড়ানো। আর এই ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হল ইস্পাত, পেট্রো কেমিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স ও এমএসএমই খাতে।
বিজেপির বক্তব্য, সার্বিক ভাবে বাজেট পেশ হয়েছে। ট্যুরিজমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মেডিক্যাল ট্যুরিজমে বাংলার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। রেলের ক্ষেত্রেও কিছু ঘোষণা হয়েছে বাংলার জন্য। শিলিগুড়ি থেকে হাইস্পিড ট্রেন, ডানকুনি থেকে ফ্রেট করিডর।রাজনৈতিক মহলের মতে, এবার বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। সেক্ষেত্রে এই বাজেটে বাংলার জন্য বিশেষ কিছু প্রকল্প বরাদ্দ ঘোষণা করা হতে পারত, কিন্তু এবার বাংলা কিন্তু তা পায়নি। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, বিহারে জয়ের বিরাট সম্ভাবনা ছিল বলে উজার করে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় বাজেটে? তাহলে বাংলায় কি এবারও তেমন কোনও সম্ভাবনা নেই?







