কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী (West Bengal Assembly Election) প্রচারে গতি বাড়াতে পুরোদমে মাঠে নেমেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। সোমবারও রাজ্যের একাধিক জেলায় তাঁর পরপর কর্মসূচি ঘিরে তৎপরতা তুঙ্গে। দিনের শুরুতেই বীরভূমের বোলপুরে পল্লীমঙ্গল ক্লাবের মাঠে প্রথম জনসভা করেন শাহ। এই সভাকে ঘিরে সকাল থেকেই জমায়েত হয় বিপুল সংখ্যক সমর্থকের। বীরভূম জেলায় সংগঠন মজবুত করতেই এই সভা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পরবর্তী গন্তব্য খয়রাশোল। সেখানে আরও একটি জনসভায় কী বললেন শাহ?
দুর্নীতি থেকে তোলাবাজি! খয়রাশোলের সভা থেকে একাধিক ইস্যুতে তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। একই সঙ্গে দাবি করেন, “বাংলা আর বিভ্রান্ত হবে না, মমতাদিকে ক্ষমা করবে না।”
আরও পড়ুন: বোলপুরে শাহর ঝাঁঝালো আক্রমণ, ইউসিসি থেকে অনুপ্রবেশ একাধিক ইস্যুতে একহাত তৃণমূলকে
শাহ বলেন, “এখনও পর্যন্ত মমতাদির পা ভাঙেনি, মাথা ফাটেনি। এবার হাত ভেঙে নিয়ে এলে আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। সহানুভূতি আদায় করতে নাটক হতে পারে, কিন্তু মানুষ এবার আর ভুলবে না।” তাঁর অভিযোগ, দুর্নীতির জেরে রাজ্যের মানুষের আস্থা হারিয়েছে তৃণমূল।
দুবরাজপুরের সভা থেকে ‘সিন্ডিকেট রাজ’ নিয়েও সরব হন শাহ। বলেন, “বীরভূম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নন্দলাল বসুর ভূমি। অথচ এখানে তোলাবাজির সরকার চলছে। সাধারণ মানুষকে কাজ করতে গেলেও সিন্ডিকেটের দ্বারস্থ হতে হয়।” বিজেপি ক্ষমতায় এলে “কমিশন ও কাটমানির রাজ শেষ হবে” বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকি কড়া ভাষায় বলেন, “সিন্ডিকেটের চক্রীদের উল্টো করে ঝোলানো হবে।”
এদিন অযোধ্যায় রামমন্দির প্রসঙ্গ টেনেও তৃণমূলকে আক্রমণ করেন শাহ। তাঁর কথায়, “৫৫০ বছর ধরে রামমন্দির তৈরি হয়নি। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর তা সম্ভব হয়েছে।” একই সঙ্গে কটাক্ষের সুরে বলেন, “বাংলায় মমতাদির চেলা হুমায়ুন কবীর বাবরি মসজিদ তৈরি করছেন।”
‘দিদি’ ও ‘ভাইপো’ উল্লেখ করে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই কটাক্ষ করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
শাহ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে “দিদি-ভাইপোর গুন্ডাদের জেলে ভরা হবে।” তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের শাসনে দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, আর সেই সব ঘটনারই হিসাব নেওয়া হবে।
এদিন আরও কড়া ভাষায় তিনি বলেন, “যারা বিজেপির উপর অত্যাচার করছে, ৫ মে-র পর তাদের পাতাল থেকেও বার করা হবে।” এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে।







