কলকাতা: আজ ২০২৫-এর শেষ দিন। এই সালের শেষদিনে দাঁড়িয়ে পিছন ফিরে তাকালে মনে নদীর ধারার মতোই এই বাংলা বিনোদনজগৎ (Bengali Movies-2025)। তবু সেই ধারায় কোনও কোনও ছবি ঢেউয়ের মতো দাগ কেটে যায় দর্শকের হৃদয়-পাড়ে। এই বছরটা শুধু মুক্তির তারিখ বা বক্স অফিসের হিসাব হয়ে থাকেনি—এ বছর বাংলা সিনেমা নিজের ভেতরের ভাষাটাকেই নতুন করে চিনে নিয়েছে। বদল এসেছে টলিপাড়ায় ছবি রিলিজেও। বছরের শুরু থেকে শেষ নানা ছবি – নানা অভিনেতা বহু বার বহুরকম চরিত্রে এসেছেন, কিন্তু আদৌ মন জয় করতে পারলেন কি? শুরু থেকে আলোচনায় ছিল বছরের একেবারে প্রথম দিকের ছবি বিনোদিনী – একটি নটির উপাখ্যান (Binodiini – Ekti Natir Upakhyan)।
ধূমকেতু
শুরুটা হয় ‘ধূমকেতু’ (Dhumketu) দিয়ে—এক এমন মানুষের জীবনকথা, যে যেন শেষ বয়সে এসে আবার একবার নিজের ফেলে আসা সময়ের দরজায় দাঁড়ায়। জমে থাকা প্রেম, ভুলে যাওয়া স্বপ্ন আর অনুচ্চারিত অনুশোচনা—সব একসাথে ফিরে আসে। দেব ও শুভশ্রী গাঙ্গুলীর পরিণত, সংযত রসায়ন ছবিটাকে দেয় এক গভীর আবেগের পরত।দেব শুভশ্রী জুটির এই ছবির গল্প খুব আহামরি না হলেও, ভক্তদের কাছে বেশ আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছিল।
রঘু ডাকাত (Raghu Dakat)
‘রঘু ডাকাত’ আমাদের নিয়ে যায় উনিশ শতকের এক রক্তাক্ত, অস্থির বাংলায়। এখানে এক ডাকাতের গল্প শুধু অপরাধের কাহিনি নয়; এটা অবদমন আর অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক মানুষের আত্মপরিচয়ের লড়াই।
কিলবিল সোসাইটি (Killbill Society)
সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের এই ছবি, হেমলক সোসাইটি ছবির সিক্যুয়াল। এবং এই ছবিতে পরমব্রত এবং কৌশানি তাঁদের সাবলীল অভিনয় দিয়ে নজর কেড়েছেন। এই ছবি নিয়ে, বেশ আলোচনা হয়েছে দর্শকমহলে। মায়ানগর: আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্ত পরিচালিত এবং শ্রীলেখা মিত্র অভিনীত এই ছবি দারুণ প্রশংসা পায়।
দ্যা একাডেমি অফ ফাইন আর্টস
এই ছবি বছরের শেষে দারুণ, তোলপাড় ফেলেছে। এমন এক ছবি, যা নিয়ে নানা জলঘোলা হয়েছে। কিন্তু, তারপরেও দর্শকের ভালবাসা কমাতে পারেনি।
‘রক্তবীজ ২’ (Raktabeej 2)
‘রক্তবীজ ২’-এ আগের ছবির সাফল্যের রেশ ধরে, আরও বিস্তৃত ক্যানভাসে ছড়িয়ে পড়ে এই থ্রিলার। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে যাওয়া এক ভয়ঙ্কর পরিকল্পনার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পুলিশ, গোয়েন্দা আর সাধারণ মানুষের ভয়ের সঙ্গে মিশে যায় লড়াইয়ের দৃঢ়তা। প্রতিটি মুহূর্তে টানাপোড়েন, জয় আর পরাজয়ের দোলাচল—এই ছবি দর্শককে ছাড়ে না শেষ ফ্রেম পর্যন্ত।‘
আমার বস
আমার বস’- এখানে নায়িকা কোনও সুপারহিরো নন—তিনি এক অবসরপ্রাপ্ত নার্স, যিনি জীবনের দ্বিতীয় ইনিংসে নতুন করে নিজের জায়গা খুঁজছেন। পেশাগত দক্ষতা, সন্তান আর পরিবারের প্রত্যাশা, নিজের স্বপ্ন—সব একসঙ্গে সামলে এগোনোর সংগ্রাম।
দ্যা একেন: বেনারসে বিভীষিকা (The Eken: Benaras e Bibhishika)
দ্যা একেন: বেনারসে বিভীষিকা: বছরের প্রথম সুপারহিট কোনও সিনেমা যদি থাকে, তবে এটা সেই ছবি। অনির্বাণ চক্রবর্তীকে নিয়ে যত প্রশংসা হোক, সেটি কম। এই ছবিতে আরেকজন সুপারহিট, তিনি শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। এই ছবি বক্স অফিস কাঁপিয়ে দেয়। এবং মানুষ এই ছবি দেখতে হলমুখী হন।
‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’
কলকাতার অলিগলি, স্মৃতি আর রহস্য একসাথে জড়িয়ে যায় ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’-তে। ঢাকা থেকে আসা এক তরুণী যখন নিজের পূর্বপুরুষের খোঁজে শহরের ভেতর ঢুকে পড়ে, তখন একের পর এক গোপন গল্প উন্মোচিত হয়।
আরও পড়ুন: ৩০ বছর পর শিবপ্রসাদের সঙ্গে কাজ অর্জুন চক্রবর্তীর
দেবী চৌধুরানী (Devi Chaudhurani)
প্রাচ্যের ঐতিহ্য আর বিদ্রোহের বিস্তৃত ক্যানভাস মেলে ধরে ‘দেবী চৌধুরানী’। সমাজের তাড়নায় প্রান্তে ঠেলে দেওয়া এক তরুণী কীভাবে শক্তিশালী নেত্রীর রূপ নেয়, সেই রূপান্তরের গল্প এখানে হৃদয় ছুঁয়ে যায়। আর শেষে, খুব পরিচিত অথচ চিরনতুন এক গল্প বলে ‘স্বার্থপর’। একটি পরিবারের দৈনন্দিন হাসি-ঝগড়া, ভুল বোঝাবুঝি আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এখানে আয়নার মতো ধরা দেয়।
নধরের ভেলা
‘নধরের ভেলা’ যেন এক অন্য সরণির যাত্রী। প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য পরিচালিত এই ছবি ইতিমধ্যেই বিদেশ এবং কলকাতার চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হয়েছে। তবে প্রেক্ষাগৃহে এখনও মুক্তি পায়নি ‘নধরের ভেলা’। এগিয়ে যাওয়ার চলতি নিয়মে সারা বিশ্ব যখন ছুটছে, সেই সময়ে দাঁড়িয়ে এই ছবি গতিহীনতার কথা শোনায়। এক শ্লথজীবনের গান গায়।
পুতুলনাচের ইতিকথা
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা এই উপন্যাস নিয়ে আগেও কাজ হয়েছে। কিন্তু সুমন মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ছবিটি যেন গ্রাম জীবনের জ্বলন্ত আখ্যান। অজগাঁয়ের শহরফেরত চিকিৎসক শশী ও গ্রাম্য বধূ কুসুমের সম্পর্ক হোক, বা কুমুদ ও মোতির বাস্তব যাপন।
পুরাতন
১৬ বছর পরে বাংলা সিনেমায় প্রত্যাবর্তন ঘটল শর্মিলা ঠাকুরের। পুরনোকে নতুন রূপে নিয়ে এল ‘পুরাতন’। ২০২৫ সাল সে জন্য আলাদা ভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকল দর্শকের মনে।







