এমনিতে ইরানে যে এক ধর্মীয় মৌলবাদি রেজিম কায়েম আছে, তা নিয়ে তো কোনও দ্বিমত নেই, আর সে দেশের বহু মানুষই এই মধ্যযুগীয় রেজিম থেকে মুক্ত হতে চান। কিন্তু সেটা তো তাঁদের ব্যাপার তাই না? কিন্তু ট্রাম্প সাহেব বা ইয়াঙ্কি সাম্রাজ্যবাদ তো দেশে দেশে গণতন্ত্র বিতরণ করে বেড়ান, তাদের নজর ভেনেজুয়েলার পরে এবারে ইরানের দিকে। আসলে তাঁদের লক্ষ্য এই দুনিয়াতে তেলের উপর নিয়ন্ত্রণের। গত বেশ কিছু বছর ধরেই চীন ভেনেজুয়েলা আর ইরানের সঙ্গে সখ্যতা বাড়িয়েছিল, সেই সখ্যতা যুদ্ধের জন্য অস্ত্র বেচে আর তার বদলে তেলের বাণিজ্য, এই বেসিসে চলছিল। ট্রাম্প সাহেব ঠিক সেইখানেই এবার থাবা বাড়িয়েছেন। ভেনেজুয়েলাতে খানিক সহজেই কাজ সেরেছেন, এবারে ইরান। তো জানিয়েছেন যে, এই ইরানের সঙ্গে যদি কেউ বাণিজ্য করে তাহলে তাদের উপরে ‘এক্সট্রা টু এ বি’র মতো এক্সট্রা ২৫ শতাংশ ট্যারিফ বসানো হবে। হ্যাঁ, হুমকি খুব পরিষ্কার, রাশিয়ার জন্য ২৫ শতাংশ এক্সট্রা ট্যারিফ বসানো আমাদের উপরে, আরও ২৫ বসানো হতেই পারে, কারণ ইরানের সঙ্গেও আমাদের লেনদেন আছে, তেলের লেনদেনও আছে। মোদি সাহেবের হলায় গলায় বন্ধু ট্রাম্প সাহেবের হুমকি ভারতের উপরে এমনকি ৫০০ শতাংশ ট্যারিফ চড়ানো হতেই পারে। মানে ভাতে মেরে দাও ভারতকে। এই তো! একবার নোবেল চাইছেন, একবার ভেনেজুয়েলার তেল চাইছেন, একবার গ্রীনল্যান্ডটাই চাইছেন, চাওয়ার আর শেষ নেই, এবং এবারে সাফ জানিয়ে দিলেন ওনাকে খুশি করতেই হবে। এপস্টিন ফাইলের ছবিগুলো সরিয়ে ফেলার পরে ঠিক কী দিয়ে ট্রাম্প সাহেবকে খুশি করা যাবে তাও বুঝে ওঠা যাচ্ছে না। কিন্তু আন্তর্জাতিক কূটনীতির রঙ্গমঞ্চে যখনই ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো কোনও আইটেমের আবির্ভাব ঘটে, তখন প্রথাগত কূটনৈতিক শিষ্টাচারের ডিপ্লোম্যাটিক এথিকসের বদলে সামনে চলে আসে এক নিরেট বাণিজ্যিক লেনদেনের ভাষা। আর সেখানেই এক্কেবারে ‘খাপে খাপ পঞ্চুর বাপ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে মোদিজি আর ট্রাম্পের ইদানিং সম্পর্কটা।
মনে আছে ‘নমস্তে ট্রাম্প’? ‘হাউডি মোডি’? ‘অবকি বার ট্রাম্প সরকার’, সে কি হলায় গলায় বন্ধুত্ব আর তারপরে এলো অপারেশন সিঁদুর। পাকিস্তানের কী হল জানা নেই, জানা নেই উগ্রপন্থীদের কতটা সত্যিই ক্ষতি হল, জানা আছে অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে ভারত সরকার আর ওয়াশিংটনের ভারতীয় দূতাবাস যে ধরনের তৎপরতা চালিয়েছে, উমেদারি করেছে, তার নথিপত্র এখন আমেরিকার ‘ফরেন এজন্টস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট’ বা ফারা (FARA) ফাইল ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সবটাই জনসমক্ষে এসে হাজির। এই নথিপত্রগুলো খতিয়ে দেখলেই দেখা যায়, ভারত কেবলমাত্র প্রথাগত কূটনৈতিক পথে নয়, বরং বিপুল অর্থ ব্যয় করে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা লবিয়িস্টদের মাধ্যমে হুজুরের কাছে অন্তত ৬০ বার দরবার করেছে। কিন্তু কয়েনের উল্টো পিঠ হল, এত কিছুর পরেও হোয়াইট হাউসের অধিপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের অসন্তুষ্টির সুর বিন্দুমাত্র কমেনি। ট্রাম্প খুব স্পষ্ট ভাষায় এবং সোজা সাপটা ভাবে ভারতকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁকে ‘খুশি’ করা না হলে ভারতীয় পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক বা ট্যারিফের বোঝা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে, সেটা ৫০০ শতাংশও হতে পারে। এবং আমাদের ৫৬ ইঞ্চি সেই যে কথা বন্ধ করেছিলেন, আজও মৌন, ট্রাম্প নিয়ে একটা কথাও তিনি বলেননি আর ইতিমধ্যে ওই ট্রাম্প সাহেব নিয়মিত ওনাকে নিয়ে, ভারতকে নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা চালিয়েই যাচ্ছেন, সেদিন তো প্রায় ভেঙচি কেটেই বললেন, ‘মোদিজি আমাকে বলেছেন মে আই সি ইউ স্যর?’ এটা শুধু বাণিজ্যিক লাভ-ক্ষতির ব্যাপারই নয়, বরং ভারতের মর্যাদা স্বায়ত্তশাসন আর ট্রাম্পের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এক তীব্র লড়াই। হ্যাঁ, এখানেই এনে দাঁড় করিয়েছেন আমাদের দেশকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী।
অপারেশন সিঁদুর এবং তার পরবর্তী কূটনৈতিক টানাপোড়েন বুঝতে হলে আমাদের একটু পিছন ফিরে তাকাতে হবে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর ভারত পরিকল্পিতভাবে সামরিক পদক্ষেপ নিতে শুরু করে, আর সেটাকে দেশের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির সঙ্গে মিলিয়ে দেবার জন্যই তার নাম রাখা হয় অপারেশন সিঁদুর। সাফল্য? ভারতের দাবি, তারা উগ্রপন্থীদের ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে; পাকিস্তানের দাবি, তারা পাঁচটা রাফাল ফাইটার প্লেন ধ্বংস করেছে। আর আমাদের দেশের গোদি মিডিয়া তো করাচি থেকে পেশোয়ার সব দখল করার পরে জানাল যে, এক বিরাট জয় এসেছে। সেসবের মধ্যেই এল সিজ-ফায়ার আর তারপরেই সমস্যা শুরু হয় যখন এই সামরিক সাফল্যের পর হঠাৎ এই সিজফায়ারের কৃতিত্ব নিতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প দাবি করেন যে, তাঁর মধ্যস্থতা এবং তাঁর দেওয়া বাণিজ্যিক চাপের কারণেই দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। ভারতের মুখপাত্র, কখনও কোনও মন্ত্রী, কোনও সামরিক কর্তা এই দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করেছে বটে, কিন্তু আমাদের ৫৬ ইঞ্চির মোদিজি একটা কথাও। না, একটা কথাও আজ অবধি বলেননি। সম্ভবত ট্রাম্প সাহেবের কাছে এতটাই ঋণী বা ট্রাম্প সাহেব এতটাই জানেন যে ওনার পক্ষে বলা সম্ভবই হয়নি যে, কোনও তৃতীয় পক্ষের সাহায্য ছাড়াই ভারত নিজের শক্তিতে এই বিজয় অর্জন করেছে, পাকিস্তানের আর্জিতে সারা দিয়েই ভারত সিজ-ফায়ার করেছে। আর সেই কৃতিত্ব অস্বীকার করার বিষয়টাই সম্ভবত ট্রাম্পের মতো এক চরম অহংকারী নেতার ইগোতে আঘাত করেছে, যার মাসুল এখন ভারতকে দিতে হচ্ছে বাণিজ্যিক ট্যারিফের আকারে। আর এমনটা যে হতে পারে তা কি জানত না মোদি সরকার? আলবত জানত, তার প্রমাণ এতদিনে পাওয়া গেল, আমেরিকার শাসন ব্যবস্থায় লবিয়িং, উমেদারি, দালালি, একটা বৈধ এবং অত্যন্ত শক্তিশালী প্রক্রিয়া। ভারত সরকার ভালো করেই জানত যে, ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে হলে তাঁর ঘনিষ্ঠ লোকজনের মাধ্যমেই এগোতে হবে। সেই জন্যই ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ভারত সরকার জেসন মিলারের নেতৃত্বাধীন ‘এসএইচডব্লিউ পার্টনার্স এলএলসি’ (SHW Partners LLC) নামক লবিং ফার্মকে এই কাজের জন্য নিয়োগ করে। জেসন মিলার কেবল একজন সাধারণ লবিয়িস্ট নন, তিনি ট্রাম্পের অত্যন্ত বিশ্বস্ত উপদেষ্টা এবং প্রাক্তন মুখপাত্র। এই ফার্মটাকে নিয়োগ করতে ভারতকে প্রতি মাসে ১,৫০,০০০ ডলার অর্থাৎ প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার বেশি খরচ করতে হয়েছে। বছরে এই চুক্তির পরিমাণ ছিল ১.৮ মিলিয়ন ডলার। এর পাশাপাশি ভারত ‘মার্কারি পাবলিক অ্যাফেয়ার্স’ নামক আরেকটি ফার্মকেও মাসে ৭৫,০০০ ডলারের চুক্তিতে নিয়োগ করে, যেখানে ট্রাম্পের ২০২০ সালের ট্রানজিশন টিমের ডিরেক্টর ব্রায়ান লানজা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। অর্থাৎ, ভারত আক্ষরিক অর্থেই বিপুল অর্থ ঢেলেছে, যাতে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার অলিন্দে তাদের কথা পৌঁছনো যায়। আমেরিকার বিচার বিভাগ বা ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস-এর কাছে জমা দেওয়া ফারা (FARA) ফাইলিং অনুযায়ী, ভারত ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে মোট ৬০টা এন্ট্রি বা ৬০ বার যোগাযোগের নথি জমা দিয়েছে। এই ৬০ বারের দরবারের হিসেব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভারত ঠিক কতটা মরিয়া হয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে।
আরও পড়ুন: Fourth Pillar | “হিন্দু মস্তিষ্ক, এবং ইসলামি দেহই একমাত্র আশা” – বিবেকানন্দ
কী বোঝানোর চেষ্টা চলছিল? ১০ মে, যেদিন অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হযল, সেই দিনটাই ছিল সবচেয়ে ব্যস্ততম দিন। সেদিনই ভারতীয় দূতাবাসের লবিয়িস্টরা হোয়াইট হাউসের চিফ অফ স্টাফ সুসি ওয়াইলস, ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ জ্যামিসন গ্রিয়ার, ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের রিকি গিল এবং হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর স্টিভেন চেউং-এর সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেন। এই কথোপকথনগুলোর উদ্দেশ্য ছিল প্রধানত দুটো—প্রথমত, অপারেশন সিঁদুরের প্রচার ও মিডিয়া কভারেজ নিয়ন্ত্রণ করা, দ্বিতীয়ত, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনার বর্তমান স্থিতি নিয়ে তদ্বির করা। মানে এই যুদ্ধ আর সিজ-ফায়ারের পরেই মোদিজি অ্যান্ড কোম্পানি বুঝেছিলেন যে, ট্রেড ডিল বিশ বাঁও জলে চলে গিয়েছে। ৬০টা যোগাযোগের মধ্যে ৩০টাই ছিল বাণিজ্য বিষয়ক আলোচনা। ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ জ্যামিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে অন্তত ১৩ বার যোগাযোগ করা হয়েছে। কমার্স সেক্রেটারি হাওয়ার্ড লুটনিক এবং ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সঙ্গেও একাধিকবার বৈঠক বা ফোনালাপের চেষ্টা করা হয়েছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি, ডেপুটি এনএসএ পবন কাপুর এবং রাষ্ট্রদূত বিনয় কোয়াত্রার মতো শীর্ষ আধিকারিকদের জন্য বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা ছিল এই লবিং ফার্মের প্রধান কাজ। এমনকি বিরোধী নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বে একটি সর্বদলীয় সংসদীয় দলের সফরের সময়ও লবিয়িস্টরা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা চালিয়েছিলেন। এত কিছুর পরেও ট্রাম্পের ‘অসন্তুষ্টি’ ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করেছে। এতকিছুর পরেও ট্রাম্প সাহেব খুশি নন।
কিন্তু কেন এত দরবারের পরেও ট্রাম্প খুশি হতে পারছেন না? এর উত্তর লুকিয়ে আছে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এবং ভারতের ওপর তাঁর দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভে। ট্রাম্প ভারতকে সব সময়ই ‘ট্যারিফ কিং’ বা উচ্চ শুল্ক চাপায় এমন দেশ হিসেবেই দেখে এসেছেন। তিনি বারবার হার্লে-ডেভিডসন মোটরসাইকেলের উদাহরণ টেনে বলেন যে, ভারত আমেরিকান পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসিয়ে রাখে, অথচ আমেরিকা ভারতীয় পণ্যকে অনেক সস্তায় প্রবেশ করতে দেয়। যদিও ভারত ২০২৫-২৬ সালের বাজেটে প্রিমিয়াম মোটরসাইকেল এবং অন্যান্য উচ্চ প্রযুক্তির পণ্যের উপর শুল্ক অনেক কমিয়েছে, তবুও ট্রাম্পের কাছে তা যথেষ্ট নয়। তিনি মনে করেন, ভারত কেবল তখনই নতিস্বীকার করে যখন তাকে সরাসরি আঘাত করা হয়। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদি একজন চমৎকার মানুষ, কিন্তু তাঁর দেশের বাণিজ্যিক নীতি আমেরিকার স্বার্থের পরিপন্থী। সবচেয়ে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়টা। ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে যখন আমেরিকা রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করতে চাইছে, তখন ভারত রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল কিনে ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ তহবিলে অর্থ যোগান দিচ্ছে—এটাই হল ট্রাম্পের মূল অভিযোগ। ট্রাম্পের নির্দেশে ইতিমধ্যে ভারতের উপর মোট ৫০ শতাংশ ট্যারিফ কার্যকর করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ হল ‘রেসিপ্রোকাল ডিউটি’ এবং বাকি ২৫ শতাংশ হল পেনাল্টি ট্যারিফ যা সরাসরি রাশিয়া থেকে তেল কেনার শাস্তিস্বরূপ আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে, ভারত যদি রুশ তেলের আমদানি আরও না কমায়, তবে এই ট্যারিফ খুব দ্রুত আরও বাড়ানো হবে। এমনকি সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম একটা বিল এনেছেন, যা পাশ হলে রাশিয়া থেকে তেল কিনছে এমন দেশগুলোর উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত ট্যারিফ আরোপ করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে চলে আসবে। অতএব নিজের ঘোষিত মাই ডিয়ার ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে এখন মোদিজির দম বন্ধ হবার যোগাড়।
ইরানের সঙ্গে আমাদের আমদানি আর রফতানি জারি আছে, ২০১৯ এর স্যাংশন জারির পরে সরাসরি তেল ভারত কেনে না, কিন্তু আরও অনেক কিছু আমদানি করে, রফতানিও করে। জৈব রাসায়নিক আমদানি করা হয়, যার মূল্য ৫১২.৯২৪ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া ইরান থেকে ৩১১.৫৯৮ মিলিয়ন ডলার এর ফল ও বাদাম, বিশেষ করে আপেল, পেস্তা, খেজুর আর ৮৬.৪৭৭ মিলিয়ন ডলার এর খনিজ জ্বালানি ও বিটুমিন আমদানি করা হয়েছে। আরও আনা হয় লবণ, সালফার ও পাথর (৫৫.৬৪৬ মিলিয়ন ডলার), অজৈব রাসায়নিক ও বহুমূল্য ধাতু (২৮.৭৫৮ মিলিয়ন ডলার) এবং ২৪.২৮২ মিলিয়ন ডলার মূল্যের প্লাস্টিকের জিনিষপত্র। কেবল আমদানি নয়, রফতানিও তো হয়, ২০২৪ সালের ক্যালেন্ডার বছরের তথ্য বলছে, ভারত থেকে ইরানে রফতানি হওয়া জিনিষের মধ্যে খাদ্যশস্য যার দাম প্রায় ৬৯৮.৫১১ মিলিয়ন ডলার। এর পরেই রয়েছে পশুখাদ্য যার রফতানি মূল্য ১৪৯.৪৮৮ মিলিয়ন ডলার। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রফতানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে কফি, চা ও মশলা (৭৩.৯২৮ মিলিয়ন ডলার), ফল ও বাদাম (৬৬.১১৮ মিলিয়ন ডলার), যান্ত্রিক যন্ত্রপাতি বা পার্টস (৩২.৬৪৯ মিলিয়ন ডলার), জৈব রাসায়নিক (২৯.১৭৫ মিলিয়ন ডলার), ভোজ্য সবজি (২৮.৫৫২ মিলিয়ন ডলার) এবং ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য (২৪.৮৯৬ মিলিয়ন ডলার)। এখন আমাদের নাকি এই আমদানি রফতানি বন্ধ করতে হবে। আমদানি রফতানির কথা বাদই দিলাম, পাকিস্তান, চীনকে এড়িয়ে চাবাহার বন্দর দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যে সহজ বাণিজ্য যোগাযোগ করা শুরু হয়েছিল, তা প্রশ্নে মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। আসলে বিদেশ নীতি দুই দেশের হয়, আমাদের মোদিজি সেটাকে ব্যক্তিগত জায়গাতে নিয়ে গিয়েছেন। উনি মনে করেন দোলনাতে দোলা, গলা জড়িয়ে ধরা, সেলফি তোলা, হেঁহে করা বা ঘুড়ি ওড়ানো দিয়ে সম্পর্ক তৈরি করা যায়। এরকম এক অদূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী আজ দেশকে এমন এক জায়গাতে নিয়ে দাঁড় করিয়েছেন যে, আগামীকাল যদি এই উন্মাদ ট্রাম্প সাহেব ৭৫ শতাংশ ট্যারিফ চাপায়, তাহলে বিরাট ঝুঁকির মুখে পড়বে। ট্রাম্প সাহেবের এই খামখেয়ালি ট্যাক্স চাপানোর ফলে দেশের আভ্যন্তরীণ শিল্প, কৃষি আর শেয়ার বাজার সবজায়গাতেই এক নেতিবাচক চাপ, আমরা এখনই বুঝতে পারছি, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর এককালের হলায় গলায় বন্ধু ট্রাম্প সাহেব আসলে ভারতকে ভাতে মারতে চায়, আর এই সত্যিটা বুঝেই আমাদের বিদেশনীতিকে নতুন করে সাজাতে হবে, আর সেটাই একমাত্র পথ।
দেখুন আরও খবর:








