ওয়েবডেস্ক- হাড় প্রতিস্থাপনে (Bone Replacement) নজির গড়ল আরজি কর (RG Kar)। বড় সাফল্য অর্থোপেডিক বিভাগে (Orthopedic Department) । পূর্ব ভারতে ( East India) প্রথম কোনও হাসপাতালে এই অপারেশন করা হল বলে দাবি চিকিৎসকদের।
লরির ধাক্কায় ২০২৩ সালে নষ্ট হয়েছিল পায়ের ফিমার বোন। পা বাদ দেওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এই সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের দক্ষতায় ৩১ বছরের উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দার বাঁচলো পা। এই অপারেশন করার জন্য আড়াই লক্ষ টাকার এক বিশেষ হার কিনতে হয় এই সরকারি হাসপাতালকে। অসাধ্য সাধন করল আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।
চিকিৎসা পরিভাষায় এই অস্ত্রোপচারের নাম ‘অ্যালোগ্রাফট রিকনস্ট্রাকশন’ (Allograft Reconstruction) । গত ১৭ ফেব্রয়ারি এই অপারেশন হয়। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান (এইচওডি) সঞ্জয় কুমার জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার ভ্লো হয়েছে। রোগী ভালো আছে। তবে রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া রোগীর শরীর কতটা নিতে পারছে, সেটাও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন আছে। সেইসঙ্গে হাড় জুড়তে কতদিন সময় লাগবে, সেটিও এই ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আরও পড়ুন- সরছে ধর্মতলার বাস ডিপো
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে দুর্ঘটনার শিকার হন উত্তর ২৪ পরগনার বিড়ার বাসিন্দা পেশায় দিনমজুর রিজাউদ্দিন মণ্ডল। লরির ধাক্কায় তার উরুর হাড়ের নীচের অংশ গুঁড়িয়ে যায়। ওই বছরের মে মাসে পায়ের অস্ত্রোপচার করা হয় রিজাউদ্দিনের। জুনের প্লাস্টিক সার্জারিও করা হয়। এর পর আগস্টে আরও একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। কিন্তু অবস্থার কিছু উন্নতি হয়নি। ২০২৪ সালে গ্রাফটিং হয়। কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হয়নি।
এর পর চিকিৎসকেরা বড় পদক্ষেপ নেন। তখন বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্ত নেন, ডিস্টাল ফিমার পুনর্গঠনে অ্যালোগ্রাফট ব্যব হার করা হবে। কিন্তু তাজা ক্যাডাভেরিক (মৃতদেহ থেকে সংগ্রহ করা হয়) অ্যালোফ্রেট অন্ত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কলকাতায় সহললভ্য নয়। এর হাসপাতাল প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে, প্রশাসন রোগীর পাশে দাঁড়ায়। প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা মঞ্জুর হলে অ্যালোগ্রাফট সংগ্রহের ব্যবস্থা করে। তাজা ক্যাডাভেরিক অ্যালোগ্রাফট সংগ্রহের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সফলভাবে ডিস্টাল ফিমারের অ্যালোগ্রাফট ফিক্সেশন করা হয়। চিকিৎসকদের আশা, এই জটিল অস্ত্রোপচার রিজাউদ্দিনকে স্বাভাবিকের জীবন ফেরাতে পারবে।







