কলকাতা: বঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Elections 2026) পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রাজ্যে এসেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সোমবার দিনভর রাজ্যের রাজনৈতির দল এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Chief Election Commissioner Gyanesh Kumar)। কলকাতায় তাঁদের উপস্থিতির মাঝেই ধর্মতলার ধরনামঞ্চ থেকে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি বলেন, ‘‘মে মাসের পরেও নাকি উনি অ্যাকশন নেবেন! আমি বলি, সাহস থাকা ভাল, দুঃসাহস ভাল নয়।’’ তিনি অভিযোগ করেন, এসআইআরের জন্য স্ট্রোকে মারা গিয়েছেন। সেই খবর কি নির্বাচন কমিশন রেখেছে?
সোমবার কলকাতায় জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ বৈঠক (EC Full Bench Meeting) করেছে। সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার স্পষ্ট বার্তা দেন রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তাদের। তাঁর নির্দেশ ছিল, অবিলম্বে রাজ্যজুড়ে বেআইনি অস্ত্র, বোমা, অবৈধ নগদ অর্থ এবং মদের কারবারের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালাতে হবে। এমনকি তিনি বলেন, আজকের রাত থেকেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হোক যাতে আগামী দিনে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের কোনও চিহ্ন না থাকে।পরই কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বিশেষভাবে নিশানা করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ( CEC Gyanesh Kumar)। তাঁর কটাক্ষ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নাকি বলে দিয়েছেন যে তাঁর নির্দেশ না মানলে মে মাসের পরেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, ”মে মাসের পর তিনি আদৌ নিজের পদে থাকবেন তো?”যেন ‘সুপার গড’ হয়ে গিয়েছে! স্পাইডারম্যান হয়ে গেছে! যা ইচ্ছে তাই করতে পারে। ওটা তো ছোটদের ভয় দেখানোর জন্য। এখানে ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছেন। একদিন আপনাদের মানুষের পায়ে পড়তে হবে। আপনাদের মতো লোক থাকলে গণতন্ত্রের সর্বনাশ হয়।
আরও পড়ুন: ‘হোটেলের যে রুমে অমিত শাহ থাকেন, সেই ঘরেই জ্ঞানেশ কুমার’, ধরনা মঞ্চ নির্বাচন কমিশনকে একহাত নিলেন অভিষেক
মুখ্যমন্ত্রী আগের মতোই জ্ঞানেশ কুমারকে ব্যঙ্গ করে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে উল্লেখ করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তাঁর উদ্দেশ্য কোনও সাংবিধানিক পদ বা চেয়ারকে অসম্মান করা নয়। কিন্তু যাঁরা প্রশাসনিক আধিকারিকদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন, তাঁদের উদ্দেশে তিনি বলেন – এ রাজ্যের মানুষ মাথা নত করবে না।মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ভোটের আগে প্রশাসনের উপর অযথা চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, ভোটের পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই বদলাবে এবং তখন বাস্তব অবস্থাই স্পষ্ট হবে।বিজেপি এবং কমিশনের বিরুদ্ধে একযোগে বড় অভিযোগ তুললেন তিনি। মমতার অভিযোগ, এরা রাজনৈতিকভাবে কিছু করতে পারেনি বাংলায়। তাই চক্রান্ত করে এসআইআর করে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে। ইভিএম-এ কারচুপি করবে বলে আমি খবর পেয়েছি। আমরা সেইমতো আগাম সতর্কতা নেব। বিজেপিকে নিশানা করে তাঁর আরও কটাক্ষ, গণতন্ত্রে গ্রহণ লাগিয়েছে এরা। তুললেন নয়া স্লোগান – ‘যতই ডাকো ইডি সিবিআই, ছাব্বিশে ভোটে হবে বাই বাই।’
মমতার নিশানা আমলাদের একাংশকেও। পাশাপাশি সেনা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘কোথাও কোথাও আর্মিতেও পার্টি অফিস বানিয়েছিল। তাই আমাদের মঞ্চ ভেঙে দিতে গিয়েছিল। ওরা কিন্তু কোনও দিন এ সব করে না। চিরদিন নিরপেক্ষ থেকেছে। এখন একপক্ষ হয়ে গেছে সবাই। বিশেষ করে এজেন্সিগুলো। কেন্দ্রের কাউকে ডাকুন। রেলের কাউকে ডাকলে যাচ্ছেই না। যদি ট্রান্সফার করে দেয়। চাকরিটা আমিই দিয়েছিলাম। যারা আজকের এগুলো করছে। রেকর্ড কিন্তু থেকে যাচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমি তো বাংলাদেশের কথা বলিনি। বাংলার কথা বলেছি। বাংলাদেশ আর বাংলা এক নয়। হামলা করে, ভয় দেখিয়ে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে যদি ভাবেন ক্ষমতা দখল করব… সেটা হবে না।’‘‘আমাদের একটা পয়েন্ট। সবাইকে ভোটাধিকার দিন। বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ করছি। আমাদের একটাই ইস্যু।’’







