কলকাতা: ২৬ মার্চ হাওড়ার রামনবমী (Ram Navami) মিছিলে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court)। শুক্রবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য আগামী ২৬ মার্চ এই শোভাযাত্রার অনুমতি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সর্বাধিক ৫০০ জনকে নিয়ে শোভাযাত্রা করা যাবে। মিছিলে কোন অস্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয় এমন কোন উস্কানি মূলক শ্লোগান বা বক্তব্য রাখা যাবে না। পাচশোর বেশি সমর্থক মিছিলে যোগদান করতে পারবে না। শর্ত লঙ্ঘন হলে পুলিশ আইনানুর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। নির্দেশ বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের।
হাওড়ার কাজিপাড়ায় রামনবমীর শোভাযাত্রা করতে চেয়ে পুলিশের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু শোভাযাত্রার রুট নিয়ে আপত্তি তুলে অনুমতি দেয়নি পুলিশ। এরপরই শোভাযাত্রার অনুমতি চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন আয়োজকরা।শুক্রবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে রামনবমীর শোভাযাত্রা করতে হবে। ২৬ মার্চ বিকেল ৩টে থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শোভাযাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, আগামী ২৬ মার্চ রামনবমী শোভাযাত্রায় পুলিশের দেওয়া শর্তের বিরুদ্ধে মামলা করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।গত বছর ৪ এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশে কিছু শর্ত আরোপ করে এই শোভাযাত্রায় অনুমতি দেওয়ার কথা জানায় পুলিশ।
আরও পড়ুন: মহিলারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবেন কত দিনে? ইস্তেহারে জানালেন মমতা
পাশাপাশি বলা হয়, ১২ মার্চ ২০২৬ এর মেমোতে উল্লেখ করা হয় গত বছর একাধিক নির্দেশ লঙ্ঘন করা হয়েছে। পুলিশ রুটের কিছু পরিবর্তনের কথা বলে। বিশ্বহিন্দু পরিষদকে ফের আবেদন করতে বলা হয়। কিন্তু তারা জানায় গত ২০ বছর একই রুটে তারা র্যালি করছে। অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন, সংবিধানের ১৯ নং ধারা অনুযায়ী র্যালি করা অধিকার রয়েছে। কিন্তু আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে র্যালির উপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ১২ মার্চ যে রুটের কথা বলেছে সেটাকে মানতে হবে। এবং ২০০ জনের বেশি সমর্থক এই র্যালিতে অংশগ্রহণ করতে পারবেনা।আবেদনকারীর আইনজীবী সুবীর স্যানাল বলেন, গত বছর ৫০০ জন সমর্থককে এই র্যালিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ, গত বছর ৪ এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্ট ৫০০ জন সমর্থককে নিয়ে এই র্যালি করার অনুমতি দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। চলতি বছরেও সেই ৫০০ জনকে নিয়েই অনুমতি দেওয়া হবে।কাজিপাড়া থেকে মল্লিকফটক এই জায়গা সংবেদনশীল হওয়ার জন্য নির্বাচন পরিস্থিতির কথা রেখে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন প্রয়োজন।
আদালতের নির্দেশ, গত বছর যে রুটে র্যালি হয়েছিল শর্ত সাপেক্ষে সেই রাস্তাতেই র্যালি হবে।৫০০ জনের বেশি সমর্থক থাকা চলবে না।লিফলেট বিলি করে আগে থেকে প্রচার করতে পারবে বিশ্বহিন্দু পরিষদ।১৫ জন সংগঠনের সদস্যকে এই র্যালির দায়িত্ব নিতে হবে। আগে থেকে পুলিশকে তাদের ফোন নম্বর দিতে হবে। সংগঠনকে কোন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে র্যালি করা যাবে। চেঁচামেচি করা চলবে না। সাম্প্রতিক উত্তেজনা পূর্ণ শ্লোগান দেওয়া চলবেনা। ফ্ল্যাগ, পিভিসি নেওয়া যাবে।যদি কোন ধাতব বস্ত র্যালিতে আনা হয় পুলিশ ব্যাবস্থা নিতে পারবে।শোভাযাত্রার সামনে এবং পেছনে যে গাড়ি থাকবে তাতে পুলিশ নিরাপত্তার ব্যাবস্থা করতে হবে। বেলা ৩টে থেকে ৬ পর্যন্ত হবে র্যালি।৫০০ জন অংশগ্রহণ কারীকে তাদের ছবি সহ পরিচয় পত্র ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশকে আগে থেকে দিতে হবে। ১ এপ্রিল আদালতে রিপোর্ট দিতে জানাতে হবে।







