হলদিয়া: পূর্ব মেদিনীপুরকে ‘গদ্দারদের’ হাত থেকে বাঁচাতে সব আসনে জোড়াফুলে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানালেন মমতা। হলদিয়ার নির্বাচনী প্রচারে (Mamata in Election Campaign in Haldia) শুভেন্দুর নাম না করে তোপ দাগলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আপনারা এ বারে নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচানোর জন্য তৃণমূলে ভোট দিন। এদিন জনসভা থেকে পূর্ব মেদিনীপুরবাসীদের সতর্ক বার্তা দিলেন তৃণমূল নেত্রী।
মমতা বলেন, “বৃহস্পতিবারে লক্ষ্মীবারে ভোট হচ্ছে। লক্ষ্মীর ভান্ডার আজীবন উপহার পাবেন আমার মা-বোনেরা। আর বিজেপি নাটক আর জুমলা ভোটের পরেই পালিয়ে যাবে। এরা ইলেকশনের সময়ে আসে। দোকান আগে থেকে সাজিয়ে গুজিয়ে, আগে থেকে মাইক লাগিয়ে, নিজেরা ঝালমুড়ি বানিয়ে… ওনার কাছে ১০ টাকা থাকে? আমার কাছে তো ১০ টাকার নোট নেই। ১০টাকা নিয়ে এসেছে পকেটে করে, রাজনীতি করবে বলে।”
মমতা বলেন, হলদিয়ায় ভোজ্য তেল শোধনাগার তৈরি করেছে ইমামি গ্রুপ। ভারতের বৃহত্তম তেলের ইউনিট।হলদিয়ায় আমরা ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি আমরা বিনিয়োগ করেছি। ১ লক্ষ ২০ হাজারের বেশি মানুষ চাকরি করেন। ৩৩৪ একরের উপরে হলদিয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরি করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনকে জমি দিয়েছি। ২,৭৯০ কোটি টাকা তারা বিনিয়োগ করেছে। জগদীশপুর-হলদিয়া-বোকারো-ধামরা পাইপলাইনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ৪,১২৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
মমতা বলেন, “তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছো। তোমাদের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আমি চার্জশিট দিচ্ছি। তৃণমূলের লোকেরা শুধু গ্রেফতার হবে? আগের বারও নন্দীগ্রামে এ ভাবে লুট করেছ! রাতের বেলায় জেতার পরেও লোডশেডিং করে ইভিএম মেশিন লুট করেছ। কাউন্টিং লুট করেছ। যাদের বসিয়েছিলে, তাদের আমি চিনি। কেউ যদি আপনাদের সঙ্গে দুষ্টুমি করে, তাদের নাম-ঠিকানা, ফোন নম্বর আর ছবি তুলে রাখবেন।
মমতা বলেন, “এই জেলাকে আমি সম্মান জানাই। এটা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবিভক্ত মেদিনীপুরের জেলা, যিনি আমাদের মা বলতে শিখিয়েছেন। স্বরবর্ণ, ব্যাঞ্জনবর্ণ শিখিয়েছেন। তাঁ বাড়িটাও আমরা সুন্দর ভাবে করে দিয়েছি। মাতঙ্গিনী হাজরা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। তাঁর নামটাও উল্টো বলছে বিজেপির নেতারা। তিনি যখন লড়াই করেছিলেন, ইংরেজরা গুলি চালিয়েছিল। তিনি গুলির সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাই এখানে একটা পিছাবনি ব্রিজ আছে। সেটাও আমরা ভাল করে করে দিয়েছি।”
মমতা বলেন, “শিল্প এবং কৃষি আমার দুই ভাই বোন।” তিনি আরও বলেন, “আপনাদের গর্ব হওয়া উচিত, নন্দীগ্রামে আমি প্রাইভেটে জাহাজ কারখানা তৈরি করে দিচ্ছি। হলদিয়াতে তাজপুর পোর্ট হচ্ছে। নয়াচকে নতুন ইকো টুরিজ়ম হচ্ছে। দিঘা সমুদ্র সুন্দর করে বাঁধিয়ে দিয়েছি। জগন্নাথ ধাম করে দিয়েছি। যেখানে এক বছরে ১ কোটি ৩০ লক্ষ লোক গিয়েছেন।”
এই জেলায় গদ্দার লিস্ট করে দিয়েছে, কাকে কাকে অ্যারেস্ট করতে হবে। আরে ভোটের পরে তুমি নিজেকে সামলাও। অনেক কেলেঙ্কারি করেছ। হলদিয়া থেকে কত ট্রাক যায়? সেই ট্রাকের কাটমানি কে খায়? যত কোম্পানি আছে, তাদের থেকে মাসে মাসে টাকা কে তোলে? সব একজনই তোলে। সেই টাকা অর্ধেক নিজে নেয়। বাদ বাকিটা বাইরের নেতাকে দেয়। আমি সবটাই জানি।
মমতা বলেন, “যদি পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কোনও গদ্দারের হাতে বিক্রি করতে না চান, এ বারে নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচানোর জন্য তা হলে সব আসনে, সব চক্রান্ত ব্যর্থ করে জোড়াফুলকে ভোট দিতে হবে।”







