ওয়েব ডেস্ক : বাংলায় সরকার গঠনের পর একের পর এক বড় পদক্ষেপ নিয়ে চলেছেব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এর পর বুধবার প্রশাসনিক ও কর্মি বিনিয়োগ দফতরের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করা, সরকারি নথি বা তথ্য প্রকাশ করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন মিডিয়া প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ, সব ক্ষেত্রেই এ বার কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (Jadavpur University Teachers’ Association)।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির বা জুটা’র (JUTA) তরফে একটি বিবৃতি (Statement) জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে,” গত ২০ মে রাজ্যসরকারি সার্কুলারে রাজ্যসরকারি চাকুরিজীবী সহ রাজ্য সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্বশাসিত সংস্থার সকল কর্মীদের প্রেসের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। শুধু বিবৃতি বা মন্তব্যের বিষয় নয় সংবাদ-সাময়িকীতে লেখালেখির ক্ষেত্রে জারি হয়েছে বিধিনিষেধ। সরকার বিরোধী কোনওরকম কথাও বলা যাবেনা। পূর্বতন সরকারের নিয়ন্ত্রণের রাজনীতির পথই অনুসরণ করেছে এই সরকার।”
আরও খবর : মুখ্যমন্ত্রীর নতুন নির্দেশিকাকে নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন অভিষেক
এই নির্দেশিকার ফলে মৌলিক অধিকার ধ্বংস হবে বলে জানানো হয়েছে জুটা’র তরফে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “এটা শুধু গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক নয়,ব্যক্তি স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের যে সাংবিধানিক অধিকার/স্বীকৃতি রয়েছে, তাকেও ধ্বংস করছে। এই সার্কুলার যেভাবে ইঙ্গিত করেছে সেখানে কোনোরকম স্বাধীন চিন্তা ও মতপ্রকাশের সুযোগ আমাদের থাকবেনা। এমনকী অ্যাকাডেমিক লেখার মধ্যেও যে পরিসর থাকার কথা, তা ব্যাহত হচ্ছে। অ্যাকাডেমিক জার্নালে লেখাও কি অনুমতি সাপেক্ষ অথবা নিয়ন্ত্রিত?”
সঙ্গে লেখা হয়েছে, “সোশ্যাল সায়েন্স, হিউম্যানিটিজ সহ নানা অ্যাকাডেমিক ডিসিপ্লিনের কাজে ব্যক্তি-সমাজ-সরকারের নানা বিষয় চর্চা খুবই স্বাভাবিক। ফলত এই সার্কুলার মুক্ত চিন্তা ও জ্ঞানচর্চার প্রতিবন্ধক যা একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উৎকর্ষকে ব্যাহত করবে। মৌলিক বা সৃজনশীল রচনা প্রকাশের প্রশ্নেও এই বিধি আসলে ব্যক্তিমানুষের অস্তিত্ব, চিন্তাকেই নাকচ করছে। গণতন্ত্রে ভিন্ন মত ও রুচির অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা, কাজকর্ম সম্পর্কে জনগণের মতদান সরকারকেই সমৃদ্ধ করে। এটাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। আমরা দাবি করছি, এই ধরনের সার্কুলার অবিলম্বে বাতিল করা হোক।”
উল্লেখ্য, বুধবার মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল একটি নির্দেশিকা জারি করেছেন। বলা হয়েছে, সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মচারী সংবাদমাধ্যমের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। স্পনসরড অনুষ্ঠানেও যোগদানের আগেও অনুমতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারি তথ্য ও নথি সাংবাদমাধ্যমের হাতে তুলে দেওয়ার উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া অনুমতি ছাড়া সংবাদপত্র বা সাময়িকীতে লেখালেখি করা যাবে না। এছাড়া যুক্ত থাকতে পারবেন না কোনও পত্রিকা সম্পাদনা ও পরিচালনার সঙ্গেও। অন্য সম্প্রচার মাধ্যমেও বক্তব্য পেশের ক্ষেত্রেও একই নিময় জারি করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (Jadavpur University Teachers’ Association)।
দেখুন অন্য খবর :







