ওয়েবডেস্ক- ভোটের (2026 Assemble Election) আগে গঙ্গাসাগরের (Ganga Sagar) মানুষের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য আরও একধাপ এগিয়ে গেল রাজ্য সরকার (State Government0। আজ গঙ্গাসাগরে মুড়িগঙ্গার (Muri Ganga) নদীর উপর সেতু নির্মাণে শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) । দীর্ঘদিনের দাবি ছিল মুড়িগঙ্গা নদীর উপর সেতু, মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে সেই স্বপ্ন আজ স্বপ্ন পূরণের পথে। প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে, ৪.৭৫ কিমি দৈর্ঘ্যের চার লেনের এই সেতু তৈরি হবে। এই সেতু তৈরি হলে কলকাতা থেকে সড়কপথেই চলে আসা যাবে গঙ্গাসাগরে।
এদিন গঙ্গাসাগর থেকেই নিজের ১৪ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান মানুষের কাছে তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারি ভাবে যার নাম দেওয়া হয়েছে উন্নয়নের পাঁচালি। যার কাউন্টার করে বিজেপির তরফে পাল্টা ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এদিনের সভা থেকে ওই প্রসঙ্গ টেনে এনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ওদের কুৎসায় আমার কিছু যায় আসে না। আমি কিছু বলব না, আমার হয়ে কথা বলবে কন্যাশ্রী, লক্ষ্মীর ভান্ডার, স্বাস্থ্যসাথীর উপভোক্তারা। কারণ, তোমরা বাপুরা শুধু ভোটারের নাম কাটো। উন্নয়নের ছিটেফোঁটা অর্থও দাও না।”
মুখ্যমন্ত্রী বলেন বিজেপি ভোটের সময় অনেক কিছু চটকদারি কথা বলেন, আমাদের লক্ষ্মীর ভান্ডার (Lakshmi Bhandar) টুকলি করে ইলেকশনের সময় ১০ হাজার, আর ইলেকশন চলে গেলেই বুলডোজার! ওদের এই বুজরুকি অচল করে দিতে হবে।”
আরও পড়ুন- গঙ্গাসাগরে ৪ লেনের মুড়িগঙ্গা সেতুর শিলান্যাসে মুখ্যমন্ত্রী, উদ্ধোধন একগুচ্ছ প্রকল্পের
উল্লেখ্য, দিল্লির কাছ থেকে কোনও রকম সাড়া না পেয়ে ২০২৩ সালে এই সাগরের মাটিতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, চাতক পাখির মত আর বসে থাকবেন না তিনি। সেতু বানাবেন এই রাজ্যে। এর পরেই সমস্ত প্রক্রিয়া পর্ব শুরু হয়। সেইসময় তিনি বলেছিলেন, আগামী দু থেকে তিন বছরের মধ্যে এই সেতু তৈরি হয়ে যাবে। এবার শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
পৌষ সংক্রান্তির আগে গঙ্গাসাগর মেলাকে ঘিরে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ভিড় হয়। প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সোমবার সাগরদ্বীপ পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। মেলা পরিকাঠামো সহ সমস্ত নিরাপত্তা খতিয়ে দেখেন তিনি। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু মুখে বলি না, কাজ করে দেখাই। এখানকার মানুষের হাজারো প্রতিকূলতা রয়েছে। সেতু নির্মাণ জরুরি ছিল।
এই সেতু নির্মাণ একদিকে স্থানীয় প্রায় তিন লক্ষ মানুষের যাতায়াতের সুবিধা দেবে, তেমনি পর্যটকদের অনেক সুবিধা হবে। কারণ সময় বাঁচবে, খরচও কমবে, ফলে পর্যটনের উন্নতি হবে।







