ওয়েব ডেস্ক : নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে (Netaji Subhas Chandra Bose) নিয়ে অনন্ত মহারাজের (Ananta Maharaj) বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তাঁর বঙ্গবিভূষণ (Banga Bibhushan) সম্মান প্রত্যাহার করল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের তরফে সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। ফলে সম্মান পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তা হারালেন রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশপ্রিয় পার্কের অমর একুশে উদ্যানে আয়োজিত ভাষাদিবসের অনুষ্ঠানে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে বঙ্গবিভূষণ গ্রহণ করেছিলেন অনন্ত মহারাজ (Ananta Maharaj)। সম্প্রতি স্বাধীনতার ইতিহাস এবং নেতাজির ভূমিকা নিয়ে তাঁর একাধিক মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত। স্বাধীনতা আন্দোলন প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “শুধু মহাত্মা গান্ধি, জওহরলাল নেহরু বা কংগ্রেসের আন্দোলনের ফলেই ভারত স্বাধীন হয়েছে, এই ধারণা সঠিক নয়।”
নেতাজি এবং আজাদ হিন্দ ফৌজ নিয়েও একাধিক দাবি করেন অনন্ত মহারাজ (Ananta Maharaj)। তাঁর কথায়, “কোচবিহারের মহারাজা যুদ্ধ করে হিটলার এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে পরাজিত করেছিলেন।” জার্মানির হাতে বন্দি ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাদের নেতাজির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁদের নিয়েই আজাদ হিন্দ ফৌজ তৈরি হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। নেতাজি প্রসঙ্গে তাঁর আরও মন্তব্য, “নেতাজি সেই সুযোগের অপব্যবহার করেছিলেন।” দেশভাগ নিয়ে তাঁর দাবি, “কোচবিহারের মহারাজাকে যদি স্বাধীন ভারতের সম্রাট করা হত, তবে দেশভাগ হত না। ভারত ও পাকিস্তান এক থাকত।”
অনন্ত মহারাজের (Ananta Maharaj) এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। বিজেপির অন্দরেও অস্বস্তি দেখা দেয়। বুধবার নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নেতাজিকে অসম্মান করার অভিযোগে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, আইন সবার জন্য সমান এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। তার পরের দিনই অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ প্রত্যাহারের সরকারি সিদ্ধান্ত সামনে এল।







