ওয়েব ডেস্ক: এশিয়ার বৃহত্তম জাদুঘর রয়েছে কলকাতাতেই (Kolkata)। ধর্মতলা ও পার্ক স্ট্রিটের মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থিত ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে (Indian Museum) আজও জীবন্ত হাজার হাজার বছরের পুরানো ইতিহাস। প্রাচীন সভ্যতায় ব্যবহৃত জিনিষপত্র থেকে আদিম মানুষের ব্যবহৃত বিভিন্ন অস্ত্র- কী নেই সেখানে! আর এবার সেই ইতিহাসকে আরও বেশি উজ্জীবিত করল কর্তৃপক্ষ। প্রাচীন তাম্রলিপি থেকে শুরু করে খ্রিষ্টপূর্ব যুগের বাংলার প্রাথমিক শিলালিপি—ভারতের ইতিহাসের (Indian History) এক অনন্য ভাণ্ডার উন্মোচন হল কলকাতার জাদুঘরে।
সম্প্রতি, কলকাতার ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে এপিগ্রাফিক এপিসোডস: ইকোস, এনগ্রেভিংস অ্যান্ড দ্য এসেন্স অফ ইন্ডিয়া (Epigraphic Episodes: Echoes, Engravings, and the Essence of India) শীর্ষক এক বিশেষ প্রদর্শনী চালু করা হয়েছে। এপিগ্রাফিক্যাল সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া (Epigraphical Society of India)-র ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুরু হয়েছে এই বিশেষ এক্সিবিশন। লক্ষ্য একটাই- ভারতের লেখন পদ্ধতির বিবর্তন ও সভ্যতার ধারাবাহিকতাকে আজকের দিনে সকলের সামনে তুলে ধরা।
আরও পড়ুন: এই প্রথম রাজভবনে গণ বিবাহের আসর, উদ্যোক্তা স্বয়ং রাজ্যপাল
জাদুঘরের এই বিশেষ প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে বিভিন্ন যুগের লিপির নিদর্শন। অপঠিত সিন্ধু সভ্যতার সিলমোহর থেকে মৌর্য সম্রাট অশোকের প্রজ্ঞাপূর্ণ শিলালিপি, গুপ্ত যুগের কবিতা, এবং প্রোটো-বাংলা তাম্রশাসন- সবই দেখানো হচ্ছে সেখানে। এছাড়াও বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে সেখানে প্রদর্শিত হচ্ছে মহাস্থানগড়ের মৌর্য ব্রাহ্মী শিলালিপি, যেটিকে অবিভক্ত বাংলার প্রাচীনতম পরিচিত শিলালিপি বলে গণ্য করা হয়।
তবে এই ঐতিহাসিক ঐশ্বর্যের মধ্যেই শোনা যাচ্ছে উদ্বেগের সুর। বর্তমানে দেশে এপিগ্রাফিস্ট বা শিলালিপি বিশারদের সংখ্যা কমছে। তবে এর মাঝেও আশার আলো দেখাচ্ছে এই প্রদর্শনী। অনেক তরুণ গবেষক এখন বিষয়টিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে জানান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপিকা। সুস্মিতা বসু মজুমদার। তবে তাঁর মতে, এই বিদ্যা আয়ত্ত করতে লাগে ধৈর্য, গভীর ভাষাজ্ঞান ও সময়। এটাকে এক দীর্ঘ সাধনা বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সব মিলিয়ে শীতের শুরুতে এক অজানা ইতিহাসের আবহ তৈরি হয়েছে কলকাতার জাদুঘরে।
দেখুন আরও খবর:







