পূর্ব মেদিনীপুর: স্কুলের ভিতরে প্রতিবাদ করতে গিয়ে হেনস্থা ও মারধরের অভিযোগে দীর্ঘদিন স্কুলে যাওয়া বন্ধ ছিল পূর্ব মেদিনীপুরের (East Midnapore) এক ইংরেজি শিক্ষকের। তাঁর করা মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি অমৃতা সিনহা (Amrita Sinha) নির্দেশ দিয়েছেন, ওই শিক্ষক আগামীকাল থেকেই আগের মতো স্কুলে যোগ দিতে পারবেন। স্কুলের ভিতরে বহিরাগত ঢুকে শিক্ষককে মারধর করেছে, এই অভিযোগ শুনে বিস্ময়ও প্রকাশ করেন বিচারপতি।
হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, গত বছর ১৬ জুলাই স্কুলের ভিতরে মারধরের অভিযোগ নিয়ে কাঁথি মহকুমার অতিরিক্ত স্কুল পরিদর্শককে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। শিক্ষক পুনরায় যোগদানের পর কোনও সমস্যা তৈরি হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে রিপোর্ট দেবে স্কুল কর্তৃপক্ষ। মামলার পরবর্তী শুনানি ১০ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সই করবে তৃণমূল
ওই শিক্ষকের দাবি, স্কুলে একাধিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক সমস্যার বিরুদ্ধে তিনি লিখিতভাবে অভিযোগ জানান। স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকা, স্টাফ কমন রুমের দাবি, ক্লাস রুটিন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে টিচার-ইন-চার্জকে স্মারকলিপিও দেন।
অভিযোগ, এর জেরে তাঁর সঙ্গে কিছু অতিথি শিক্ষকের সম্পর্ক খারাপ হয়। পরে তাঁদের উপস্থিতিতেই বহিরাগতরা স্কুলে ঢুকে তাঁকে হেনস্থা ও মারধর করে। নিরাপত্তার অভাবে তিনি স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেন। গত ডিসেম্বর থেকে তাঁর বেতনও বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ। তিনি জেলা স্কুল পরিদর্শক, কাঁথি মহকুমা দফতর এবং থানায় অভিযোগ জানান। পরে বাধ্য হয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। পাশাপাশি অন্য স্কুলে বদলির আবেদনও করেছেন স্কুল সার্ভিস কমিশনের কাছে।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির দাবি, ওই শিক্ষককে বারবার যোগ দিতে বলা হয়েছে, কখনও বাধা দেওয়া হয়নি। তাঁদের বক্তব্য, তিনি নিজেই স্কুলে আসা বন্ধ করেছেন। স্কুলে মোট চারজন স্থায়ী শিক্ষক আছেন—তাঁকে নিয়েই। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।







