আলিপুরদুয়ার: রেললাইনে আচমকা বন্যপ্রাণী। মুহূর্তের মধ্যে গতি কমিয়ে ট্রেন থামিয়ে দিলেন চালক ও সহচালক। তাঁদের তৎপরতায় ডুয়ার্সের রেলপথে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেল একটি বুনো হাতি এবং একটি বাইসন।
জানা গিয়েছে, ডুয়ার্সের রেলরুট দিয়ে ২২৫১২ ডাউন কামাখ্যা-লোকমান্য তিলক কর্মভূমি এক্সপ্রেস নিয়ে যাচ্ছিলেন চালক ও সহচালক। আলিপুরদুয়ার জংশন এবং রাজাভাতখাওয়া স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় পৌঁছতেই রেললাইনের কাছে একটি হাতির দল নজরে আসে তাঁদের। পরিস্থিতি বুঝে সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ করেন চালক। প্রয়োজনমতো জরুরি ব্রেক কষে ট্রেন থামিয়ে দেওয়া হয়। ফলে হাতির দলটি নিরাপদে রেললাইন থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ পায়।
এর কিছুক্ষণ পর একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় ওই দুই রেলকর্মীকে। নাগরাকাটা ও চালসা স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় একটি বাইসন রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। দূর থেকেই প্রাণীটিকে দেখতে পেয়ে ফের সতর্ক হয়ে যান চালক ও সহচালক। ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়। বাইসনটি নিরাপদে রেললাইন পার হয়ে যাওয়ার পর ফের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে রয়েছে জঙ্গল এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চল। সেই জঙ্গল সংলগ্ন রেলপথে প্রায়ই হাতি, বাইসন-সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর যাতায়াত দেখা যায়। ফলে ট্রেনের গতি এবং চালকদের সতর্কতা বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দুই চালকের এই তৎপরতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রশংসায় সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বনপ্রেমীরা। তাঁদের বক্তব্য, রেলকর্মীদের এমন দায়িত্বশীল ভূমিকা শুধু দু’টি প্রাণ বাঁচাল না, জঙ্গলঘেরা ডুয়ার্সে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থানের বার্তাও দিল।
অজয় সাহ, আলিপুরদুয়ার







