ওয়েব ডেস্ক : আইপ্যাক মামলা (I-PAC Case) চলছে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। সোমবার এই মামলার শুনানি ছিল শীর্ষ আদালতে। কিন্তু সওয়াল জবাবের পর রিজয়েন্ডার দাখিল করার জন্য সময় চেয়ে নেন ইডি (ED) এবং সলিশিটর জেনারেল। তার পরে এই মামলার পরবর্তী শুনানি একমাস পিছিয়ে দেওয়া হয়। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১৮ মার্চ। তবে আই-প্যাক দফতরে তল্লাশি অভিযান ঘিরে মামলায় ইডি-র দাখিল করা হলফনামাকে (affidavit filed) কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক তীব্র হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) জমা দেওয়া সেই হলফনামায় সরাসরি অভিযোগ, তল্লাশি চলাকালীন সংস্থার অনুমতি ছাড়াই ঘটনাস্থল থেকে নথি ও ডিজিটাল ডিভাইস সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইডির (ED) দাবি, তল্লাশি চলার সময় থেকে তথ্য সরিয়ে নেওয়ার ফলে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে। কোন নথি কেবল রাজনৈতিক দলের গোপন তথ্য, আর কোনটি তদন্তাধীন অর্থপাচার মামলার সঙ্গে যুক্ত, তা আলাদা করে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে হলফনামায় জানানো হয়েছে।
আরও খবর : স্পাইসজেটের জন্য আকাশসীমা ব্যবহার বন্ধ করে দিল বাংলাদেশ! ঘুরপথে কলকাতা সহ একাধিক বিমান
একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযোগ, তল্লাশি চলাকালীন তদন্তে বাধা হল মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণের সমান। সংখ্যার জোর ও বলপ্রয়োগ দেখিয়ে নথি দখল করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায়, নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তল্লাশি বন্ধ করতে বাধ্য হয় ইডি (ED), এমনটাই হলফনামায় জানানো হয়েছে। হলফনামায় আরও উল্লেখ, সক্রিয় তল্লাশি চলাকালীন সাধারণত কোনও তৃতীয় পক্ষকে প্রবেশ বা উপকরণ নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় না, অথচ এই ক্ষেত্রে সেই নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি সঞ্জীব মেহতার এজলাসে আইপ্যাক মামলার শুনানি হয়েছিল। সেদিন শুনানিতে ইডির (ED) তরফে আদালতে একটি হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছিল। সেখানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অভিযোগ করেছে, তদন্তের সময় জোর করে ভিতরে ঢুকে নথি ছিনিয়ে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সঙ্গে তদন্তকারী সংস্থার মৌলিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে ইডি। সেদিন রাজ্যের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছে কেন্দ্রীয় সরকার। বেশ কিছুক্ষণ এ নিয়ে সওয়াল জবাবের পর রিজয়েন্ডার দাখিল করার জন্য সময় চেয়ে নেন ইডি এবং সলিশিটর জেনারেল। তার পরেই এই মামলা আরও পিছিয়ে দেওয়া হয়। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১৮ মার্চ।
দেখুন অন্য খবর :







