ওয়েব ডেস্ক: দিল্লি অভিযানে আপাতত দাঁড়ি টানলেন কৃষকরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) আশ্বাস এবং হরিয়ানা (Haryana) প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর শম্ভু সীমান্তে চলা অবস্থান-বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নিজ নিজ রাজ্যে ফিরে গেলেন আন্দোলনকারীরা। মঙ্গলবার দুপুরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভারত-মার্কিন প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতা করে ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’-র ব্যানারে কয়েক হাজার কৃষক পাঞ্জাব থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল কিষান ঘাটে আয়োজিত ‘কিষান মহাপঞ্চায়েত’-এ যোগ দেওয়া। তবে পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তের শম্ভু এলাকায় উঁচু ব্যারিকেড বসিয়ে তাঁদের পথ আটকে দেয় হরিয়ানা পুলিশ। এরপর সেখানেই অবস্থান শুরু করেন কৃষকরা।
আরও পড়ুন: অসুস্থ সোনমকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন জেপি নাড্ডা, জিতেন্দ্র
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি ছিল, কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহানের সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেই দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস মিলতেই অবরোধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কৃষক নেতারা।
এদিকে কৃষক আন্দোলন নতুন করে জোর না পায়, সেই লক্ষ্যেই এনডিএ-র বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কৃষকদের উদ্দেশে বার্তা দেন। তিনি জানান, যে কোনও আন্তর্জাতিক বা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে দেশের কৃষকদের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে কেন্দ্রীয় সরকার। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও একই আশ্বাসের কথা প্রকাশ্যে জানান।
কৃষক সংগঠনগুলির অভিযোগ, প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে আমেরিকা থেকে কম শুল্কে সয়াবিন, ভুট্টা এবং দুগ্ধজাত পণ্য ভারতে আমদানি হবে। এর ফলে দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়বেন এবং তাঁদের আয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
যদিও আপাতত অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে, কৃষক সংগঠনগুলি জানিয়েছে, দাবি পূরণে কেন্দ্রের পদক্ষেপের উপরই ভবিষ্যতের আন্দোলনের রূপরেখা নির্ভর করবে।







