ওয়েবডেস্ক- বছরের শুরুর দিকে মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) দুষিত পানীয় জল পান করে মৃত্যু হয়েছিল প্রায় ১৫ জনের। এবার অন্ধ্রপ্রদেশে (Andra Padesh) এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল। ভেজাল দুধ (Adulterated Milk) খেয়ে মৃত্যু হল ১৩ জনের। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আরও সাতজন। অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্ব গোদাবরী জেলার ঘটনা। এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের স্বাস্থ্য দফতরও। গ্রামে আপৎকালীন গ্রামে আপৎকালীন ভিত্তিতে চিকিৎসাশিবির খুলেছে স্বাস্থ্য দফতর।
বিষয় খতিয়ে দেখতে গ্রামে এসেছেন চিকিৎসকের প্রতিনিধিদল। দুধ সাধারণত মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস। শিশু, থেকে বৃদ্ধ, থেকে সাধারণ মানুষ প্রায় সকলের খাদ্য তালিকায় দুধ থাকে। পূর্ব গোদাবরী জেলার লালাচেরুভুর ও সরূপনগর এলাকার পর এই ঘটনা আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সন্দেহভাজন দুধ বিক্রেতা নরসামপুরম গ্রামের বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সি আদ্দালা গণেশ্বর রাওকে (Addala Ganeshwar Rao) হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। দুধ ইউনিটটি সিল করে দেওয়া হয়েছে।
জানা যাচ্ছে, ২২ ফেব্রুয়ারি দুধের বিষয়টি গ্রামবাসীদের নজরে আসে। এই দিন বেশ কয়েকজন প্রবীণকে বমি, পেটব্যথার মতো সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। গ্রামবাসীদের দাবি, বাড়ি বাড়ি যে দুধ সরবরাহ হচ্ছিল, তা খেয়ে একে একে অসুস্থ হতে থাকে মানুষ। অসুস্থদের মেডিক্যাল পরীক্ষায় তাদের রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসকদের সন্দেহ, বিষক্রিয়ার ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। প্রাথমিক তদন্তে ওই দুধকেই বিষক্রিয়ার উৎস হিসাবে চিহ্নিত করছেন আধিকারিকেরা।
আরও পড়ুন- এলপিজি সঙ্কটে কোপ প্রসাদেও, অযোধ্যার ‘রাম রসোই’ বন্ধ
এলাকারই একটি ডেয়ারি ফার্ম থেকে আশপাশের গ্রামগুলির প্রায় ১০৬টি পরিবার দুধ নেয়। সন্দেহ সেখান থেকে বিষক্রিয়া ছড়াচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে ওই ডেয়ারি ফার্ম থেকে দুধ সরবরাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য শিবির চালু করা হয়েছে। সেইসঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে র্যাপিড রেসপন্স টিমও গঠন করা হয়েছে। মাইক্রোবায়োলজিস্ট, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, নেফ্রোলজিস্ট এবং মহামারি বিশেষজ্ঞদেরা ইতিমধ্যেই ওই ডেয়ারি ফার্মটি পরিদর্শন করেছেন। সেখান থেকে দুধ, পনির, ঘি, পানীয় জল এবং ভিনিগারের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।







