ওয়েব ডেস্ক : ৭০তম বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশন (BPSC) পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে ফের উত্তাল পাটনা (Patna)। মঙ্গলবার গান্ধী ময়দান থেকে রাজভবনের উদ্দেশে মিছিল করেন পরীক্ষার্থীরা। পথে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ বাধা দিলে বেশ কয়েকজন পড়ুয়াকে আটক করা হয় বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, আন্দোলনকারীরা নিষিদ্ধ এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করলে তাঁদের বারবার সতর্ক করা হয়। কিন্তু পড়ুয়ারা পিছিয়ে যেতে রাজি হননি। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ৭০তম BPSC পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ রয়েছে। সেই কারণেই পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা।
আরও খবর : বেজিংয়ে ডোভাল-ওয়াং বৈঠক, সীমান্ত নিয়ে ফের মুখোমুখি ভারত-চীন! অরুণাচল নিয়ে বাড়ছে নজর
শুধু বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশন (BPSC) নয়, শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়েও একাধিক দাবি রয়েছে আন্দোলনকারীদের। প্রস্তাবিত TRE 4.0 পরীক্ষা এক দফায় নেওয়া, পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিং তুলে দেওয়া এবং নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দ্রুত প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিহার স্টাফ সিলেকশন কমিশন, সাব-ইনস্পেক্টর ও কনস্টেবল নিয়োগ-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় স্বচ্ছতা আনার দাবিও তুলেছেন পড়ুয়ারা। আন্দোলনকারীদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতা ও পরীক্ষার তারিখ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, বিহারের শিক্ষা ও নিয়োগ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, বারবার পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে, বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদবও আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সঙ্গে সরকারের আলোচনার দাবি জানিয়েছেন। তিনি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা এক দফায় নেওয়া এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আরও স্বচ্ছতার দাবি তুলেছেন।
এদিকে পড়ুয়াদের অভিযোগের দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে মঙ্গলবার থেকেই ‘বিদ্যার্থী সহযোগ শিবির’ চালুর ঘোষণা করেছে বিহার সরকার। প্রতি মাসের চতুর্থ মঙ্গলবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে এই শিবির আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সেখানে সরাসরি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন পড়ুয়ারা। অনলাইনে অভিযোগ জমা দেওয়া এবং তার অগ্রগতি জানার ব্যবস্থাও থাকবে। ফলে একদিকে BPSC পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন তীব্র হচ্ছে, অন্যদিকে পড়ুয়াদের ক্ষোভ প্রশমনে প্রশাসনের তরফেও পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।







