কলকাতা: বঙ্গে বেজেছে ছাব্বিশের দামামা। এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (2026 West Bengal Assembly Election) নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। সেই প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। এদিকে রাজনৈতিক দলগুলিও কোমড় বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে। এই আবহে ঘর গোছাল বঙ্গ বিজেপি। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির নতুন রাজ্য কমিটি (BJP State Committee) ঘোষণা। একাধিক রদবদল করা হল কমিটিতে। বুধবার নতুন কমিটি ঘোষণা করল বঙ্গ বিজেপি। রাজ্য কমিটির পাশাপাশি ঘোষণা করা হয়েছে মোর্চা সভাপতিদের নামও। সাতটি মোর্চা কমিটির সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ৩৫ জনের রাজ্য কমিটিতে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh), শুভেন্দু অধিকারী এবং সুকান্ত মজুমদারের নাম নেই। যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে কৌতূহল তুঙ্গে।
রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিজেপির নেতা শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তাঁকে মাথায় রেখে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ১২ জনকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে রাখা হয়েছে। সেই তালিকায় নাম রয়েছে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক (Nisith Pramanik)। তাৎপর্যপূর্ণভাবে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা উত্তর কলকাতার বর্ষীয়ান নেতা তাপস রায়কে শুধু রাজ্য কমিটিতে আনা হল তাই নয়, তাঁকে দেওয়া হয়েছে রাজ্য সহ সভাপতির পদও। তালিকায় জায়গা পেয়েছেন মনোজ টিগ্গা, বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। দলে ব্রাত্য থাকার অভিযোগ তোলা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কমিটিতে রাখা হয়েছে।রাজ্য কমিটিতে স্থান পেয়েছেন সৌমিত্র খাঁও। তিনি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংকে এবারেও ৩৫ জনের কমিটিতে রাখা হল না।
আরও পড়ুন: আশাকর্মীদের স্বাস্থ্যভবন অভিযান ঘিরে ধুন্ধুমার
গত বছরের জুলাইয়ে রাজ্য সভাপতি পদে বসেন শমীক। দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্য কমিটি ঘোষণার কথা ছিল। তবে আদি নব্য কোন্দলের জেরে সেই কমিটি গঠন ক্রমশই পিছিয়েছে। অবশেষে ভোটের মুখে এদিন বঙ্গ বিজেপির তরফে ৩৫ জনের রাজ্য কমিটি প্রকাশ করা হল।গেরুয়া শিবিরের দাবি, পুরনো ও নতুনের মেলবন্ধনে এই কমিটি তৈরি করা হয়েছে। জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকেও সাধারণ সম্পাদক পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন বিধায়র শংকর ঘোষ। নতুন রাজ্য কমিটি ঘোষণা করার পাশাপাশি বিজেপির বিভিন্ন মোর্চার সভাপতিদের নামও ঘোষণা করা হয়েছে। এসটি মোর্চার দায়িত্ব পেয়েছেন সাংসদ খগেন মুর্মু। যুব মোর্চার সভাপতি হয়েছেন ইন্দ্রনীল খাঁ। মহিলা মোর্চার দায়িত্ব দেওয়া হল ফাল্গুনী পাত্রকে। সংখ্যালঘু মোর্চার দায়িত্ব পেলেন আলি হোসেন। একইভাবে নয়া কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন তনুজা চক্রবর্তী। যিনি একসময় বিজেপির মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী ছিলেন।তনুজাদেবীকেও রাজ্য সহ সভাপতি পদে আনা হল। রাজ্য সহ সভাপতি পদে আনা হয়েছে আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালকেও।
প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল, বিধায়ক অশোক দিন্দা-সহ কয়েকজন বিধায়কের নয়া কমিটিতে নেই।বিজেপি সূত্র মারফত খবর, যাঁরা প্রার্থী হচ্ছেন এরকম কয়েকজনকে সাংগঠনিক দায়িত্বে না রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই মতোই কমিটি গঠন করা হয়েছে।সূত্রের খবর, দলের এক নীতি এক পদ মেনে এবারে রাজ্য কমিটিতে কোনও বিধায়ককে না রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।







