ওয়েব ডেস্ক: শেষবেলার প্রচারে এসে ফের বঙ্গভঙ্গে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) বিরুদ্ধে। কার্শিয়াং (Kurseong) থেকে গোর্খা ইস্যুতে (Gorkha Issue) বড় প্রতিশ্রুতি অমিত শাহের (Amit Shah)। ‘বিজেপি ক্ষমতায় এলেই পাহাড়ে গোর্খাদের সমস্যার সমাধান’, এমনকি বিজেপি ক্ষমতায় এলে উত্তরবঙ্গে এইমস হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন। প্রথমদফার ভোটে প্রচারের শেষ দিনে কার্শিয়াঙে সুকনায় অমিত শাহ। মঙ্গলবার কার্শিয়াং বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সুকনা থেকে প্রচারের সূচনা করেন তিনি। সেখানকার দলীয় প্রার্থী সোনম লামার সমর্থনে জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ গোর্খাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেন।
ভোটবঙ্গে এবার গোর্খাদের উদ্দেশে বড় বার্তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শাহ বলেন, “গোর্খাদের ইতিহাস পুনরুদ্ধারের সময় এসে গিয়েছে। শাহের অভিযোগ, “গোর্খাদের গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই ইতিহাসকে ভাঙার চেষ্টা করেছেন। এর আগে সিপিএম-কংগ্রেসও একই কাজ করেছে। এবার সেই অন্যায়ের শেষ হবে।” তাঁর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠিত হওয়ার পর, ৬ মে আমরা এমন সমাধান বের করব যে প্রত্যেক গোর্খার মুখে সন্তুষ্টির হাসি থাকবে।” এই আশ্বাসও দিয়েছেন, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে গোর্খাদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা আছে, তার নিষ্পত্তি করে দেওয়া হবে। পৃথক গোর্খাল্যান্ড গোর্খাদের দীর্ঘদিনের দাবি। তবে কি গোর্খাদের হাসি, সন্তুষ্টির কথা বলে ফের সেই অস্ত্রেই শান দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী? প্রশ্ন উঠছে।
আরও পড়ুন: ১০টাকা নিয়ে এসেছে পকেটে করে, রাজনীতি করবে বলে, মোদিকে তোপ মমতার
শাহ বলেন, ‘মমতা সরকারের টাটা বাই বাই করার সময় এসে গিয়েছে।’শাহ বলেন, আপনারাই বলুন, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গাদের তাড়ানো উচিত কি না? যারা বেআইনিভাবে ঢুকেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত কি না?” কার্শিয়াঙের সভামঞ্চে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে রয়েছেন রাজু বিস্তা, বিমল গুরুং-সহ পাহাড়ের নেতারা। শাহ তুললেন সুভাষ ঘিষিং প্রসঙ্গ। আরও বলেন, বিঁধলেন কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে। মমতা সরকারের প্রশাসনের কারণে কিছু গোর্খার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাতে সমস্যা নেই—আমরাই জিতব। ভোট শেষ হওয়ার পর প্রত্যেক যোগ্য গোর্খার নাম আবার তালিকায় তোলা হবে।আপনারা আমার উপর ভরসা রাখুন, ৪ মে ফলঘোষণা হবে, ৫ মে সরকার গঠন হবে। ৬ মে থেকেই আপনাদের সব সমস্যার সমাধানে কাজ শুরু করবে নতুন সরকার। আর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সকল গোর্খা ভাইয়ের উপর থেকে সব মামলার নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। আপনাদের যাতে আন্দোলন না করতে হয়, এমন সমাধানও বের করব আমরা।
এবার পুরো পশ্চিমবঙ্গ স্থির করে নিয়েছে, দিদিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে হবে। গোটা রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। উত্তরবঙ্গবাসীর উদ্দেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বিজেপি সরকার গঠিত হলে উত্তরবঙ্গে একটি পৃথক এমস তৈরি হবে। ৫০০ শয্যার ক্যানসার হাসপাতাল তৈরি করব উত্তরবঙ্গে। আইআইটি, আইআইএম তৈরি করব উত্তরবঙ্গে। গোর্খা তরুণদের জন্য ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়ও তৈরি করব উত্তরবঙ্গে। একটি আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয়ও তৈরি হবে। দার্জিলিংকে আমরা ভারতের ইকো অ্যাডভেঞ্চার এবং হেরিটেজ টুরিজ়মের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলব। আমরা উত্তরবঙ্গ থেকে প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে বেছে বেছে তাড়াব। উত্তরবঙ্গে চারটি নতুন শিল্পশহর তৈরি করব আমরা। সকল সরকারি কর্মীকে ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম পে কমিশনের সুবিধা দেব।”







