কলকাতা: বঙ্গভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে প্রচারে ঝড় তুলতে ৪০ জন তারকা প্রচারকের তালিকা প্রকাশ করল বিজেপি (BJP)। আর সেই তালিকা ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। বাংলার নির্বাচন হলেও প্রচারকদের সিংহভাগই ভিনরাজ্যের, এই অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যেই কটাক্ষ শুরু করেছে বিরোধীরা।
রবিবার প্রকাশিত তালিকায় প্রথমেই রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভোট ঘোষণার পর ইতিমধ্যেই বাংলায় একাধিক সভা করেছেন তাঁরা। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভারী উপস্থিতি স্পষ্ট এই তালিকায় রয়েছেন রাজনাথ সিং, নীতীন গডকড়ি, জেপি নাড্ডা, ধর্মেন্দ্র প্রধান, অশ্বিনী বৈষ্ণব, স্মৃতি ইরানি, অনুরাগ ঠাকুর-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা।
আরও পড়ুন: ভোটের আগে কর্মীদের ‘ভোকাল টনিক’! সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট মোদির
বিশেষ নজর কেড়েছে সাত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিতি। তালিকায় রয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ, হিমন্ত বিশ্বশর্মা, দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ, শিবরাজ সিং চৌহান, মাণিক সাহা, মোহনচরণ মাঝি-সহ আরও মুখ্যমন্ত্রীরা। পাশাপাশি তারকা প্রচারক হিসেবে রাখা হয়েছে চলচ্চিত্র ও ক্রীড়া জগতের পরিচিত মুখ হেমা মালিনী, কঙ্গনা রানাউত, মিঠুন চক্রবর্তী, মনোজ তিওয়ারি এবং লিয়েন্ডার পেজ।
বাংলার বিজেপি নেতাদের মধ্যেও রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য, শান্তনু ঠাকুর, রাজু বিস্তা, জয়ন্তকুমার রায়-সহ একাধিক নাম। তবে প্রশ্ন উঠছে, এত বড় ‘স্টার লাইনআপ’ কি সাংগঠনিক দুর্বলতা ঢাকার কৌশল? বিরোধীদের দাবি, স্থানীয় নেতৃত্বে ঘাটতি থাকাতেই ভরসা রাখতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় মুখগুলির উপর।
যদিও বিজেপির বক্তব্য, এটি সর্বশক্তি নিয়ে লড়াইয়ের প্রস্তুতি। গত কয়েকটি নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না হওয়ায় ২০২৬-কে ‘ডু অর ডাই’ লড়াই হিসেবেই দেখছে গেরুয়া শিবির। তাই প্রচারে কোনও খামতি রাখতে নারাজ তারা।
তারকা প্রচারকদের এই দীর্ঘ তালিকা কতটা ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে, তার উত্তর মিলবে ফল ঘোষণার দিনই। আপাতত বঙ্গরাজনীতিতে ‘স্টার যুদ্ধ’ই সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়।







