পূর্ব বর্ধমান: মঙ্গলবার রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে উঠল পূর্ব বর্ধমানের (Purba Bardhhaman) ভাতার ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও-BDO) অফিস চত্বর। এস.আর.আই (SRI) প্রকল্পের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন বর্ধমান–কাটোয়া রোড (Bardwan-Katwa Road) অবরোধ করা হয়, তেমনই বিডিও অফিসের মধ্যেই এক সরকারি কর্মীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল শাসকদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় চাঞ্চল্য আরও বেড়েছে কারণ এই মারধরের ঘটনা ঘটেছে ভাতারের তৃণমূল বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারীর উপস্থিতিতেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এস.আর.আই সংক্রান্ত কাজের জন্য সাধারণ মানুষকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে এবং নানা ভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে, এই অভিযোগে মঙ্গলবার ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। ক্ষুব্ধ জনতা ভাতার বিডিও অফিসের সামনে বর্ধমান–কাটোয়া রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর জেরে ওই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় দীর্ঘ যানজট তৈরি হয় এবং চরম দুর্ভোগে পড়েন নিত্যযাত্রীরা।
আরও পড়ুন: বাংলায় নিপা আতঙ্ক, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন জে পি নাড্ডার
বিক্ষোভ চলাকালীন পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বিডিও অফিস চত্বরের মধ্যেই উজ্জ্বল সামন্ত নামে এক সরকারি কর্মচারীর উপর হামলা চালানো হয়। তিনি কন্যাশ্রী প্রকল্পে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কর্মরত। অভিযোগ অনুযায়ী, তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা হঠাৎই তাঁর ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেন।
সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হল, ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভাতারের তৃণমূল বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী এবং শাসকদলের একাধিক জনপ্রতিনিধি। তাঁদের সামনেই একজন সরকারি কর্মীকে মারধর করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে হামলা থামানো হয়নি বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্লক প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি কর্মীদের একাংশ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এই ঘটনা ঘিরে ভাতার জুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা এখনও তুঙ্গে।







