ওয়েব ডেস্ক: নির্বাচনী প্রচারের (Mamata in Election Campaign in Cooch Behar) ময়দানে ঘাস্ফুল বা গেরুয়া শিবির, কেউ যে কাউকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ। শুক্রবার উত্তর-দক্ষিণবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রাজনীতির কারবারিরা মনে করছেন, একই দিনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের জন্য দুই শীর্ষ নেতৃত্বের এই প্রচার কর্মসূচি আসলে কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার কৌশল। কোচবিহারের মতো স্পর্শকাতর কেন্দ্রতে তৃণমূল নেতৃত্ব যে কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। এদিন জনসভার শুরুতে নরেন্দ্র মোদিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন মমতা। সেই সঙ্গে ইডি-আয়কর হানা প্রসঙ্গে বিজেপিকে নিশানা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

ভোটের দিন আমাদের শক্ত ঘাঁটিতে পুনর্নির্বাচনের জন্য ওরা নানা বদমায়েশি করতে পারে, তাই রিপোলের জন্যও প্রস্তুত থাকুন। ভাল করে ভোট দিন—রিপোল হলেও দেবেন, আজ যাঁরা আমাকে ভোট দিয়েছেন, কালও দেবেন
মমতা বলেন, ‘কিছুদিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মিটিং করে বলে গেলেন, উত্তরবঙ্গ উন্নয়নে কিছু হয়নি। আমি বলি আপনি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে আছেন। বেশিদিন থাকবেন না। কিন্তু যে ক’দিন আছেন দয়া করে মিথ্যা কথা কম বলুন। আমরা উত্তরবঙ্গের জন্য ১ লক্ষ ৭২ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছি। আপনার মুখের উপর জবাব দিয়ে যাচ্ছি। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নের ওই টাকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সেতু হয় না। একটা কথা বলার আগে ক্রস চেক করুন। পার্টি যা শেখাচ্ছে, তাই বলে দিচ্ছেন।
পোলিং এজেন্ট নেই, এজেন্সি দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। ওরা এমন অবস্থায় গেছে যে পার্টি অফিসও চেক করতে পারে—এটা শেষ ‘মরণ কামড়’, যার বিষ ভেঙে দিতে হবে। ভোটের পরে ওদের মূল্য শূন্য; এখন ইডি-সিবিআই দেখিয়ে চাপ তৈরি করছে, কিন্তু কোনও কেসের ফয়সলা করতে পারে না। ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
মমতা বলেন, “এখানে বিজেপির বড় নেতা, জেড প্লাস নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। হরিদাস। এক এক জন ২০-২৫টা সেন্ট্রাল ফোর্স নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। বাড়ি থেকে বেরোলে কেউ তাকিয়েও দেখে না। সেন্ট্রাল ফোর্সকে সঙ্গে নিয়ে গুন্ডামি করছে। তাদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে না, শুধু তৃণমূলের। ক’টা বিজেপির নেতার বাড়ি তল্লাশি হয়েছে আমি জানতে চাই।
অনেক টাকা নিয়ে নেমেছে। কাউকে হয়তো ৫-১০ লক্ষ টাকাও দিচ্ছে।গণনায় এই সাত-আটদিন যাঁদের পাহারা দিতে বসাবেন, তাঁরা যেন টাকায় বিক্রি না হন।

মাছেভাতে বাঙালির মাছ, মাংস, ডিম খাওয়া তোমরা বন্ধ করে দিচ্ছ—তাহলে মানুষ কী খাবে? আমার মাথা না তোমার মাথা, সেটাই কি চিবিয়ে খাবে?
“ফর্ম ফিলআপের নাম করে বাইরের সংস্থাকে ভাড়া করেছে। তারা আপনার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম ফিলআপ করছে। বলছে টাকা পাবেন। আপনার নাম, পরিবারের নাম, ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট নম্বর নিচ্ছে। ওদের কথায় বিশ্বাস করবেন না। মতুয়াদের এই ভাবে সর্বনাশ করেছিল। ভোটাধিকার কোথা থেকে নাগরিকত্ব এসে গেল? এটা সিএএ-র নাম আরেকটা ভাঁওতা।”
মমতা বলেন, “কোচবিহারে প্রায় দুই-আড়াই লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে। ওরা জানে মানুষের ভোটে জেতার ক্ষমতা নেই। তাই সেন্ট্রাল ফোর্স, ইনকাম ট্যাক্স, ইডি, সিবিআই, পুরো ভারত সরকার, বিজেপির সব রাজ্যের সকলে এসে বসে গিয়েছে। তা-ও দেখুন লড়াই করছি একা। কিন্তু আমি একা নই। আমার সঙ্গে ১০০ ভাগ মানুষ আছে।”

মমতা বলেন, “গণতন্ত্র বুলেট নয়, ব্যালট। এটা মাথায় রাখবেন। গণতন্ত্রে বন্দুক নয়, ভোট হচ্ছে আসল ক্ষমতা। ভারতের সংবিধান বলেছে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা, সকলের সমান অধিকারের কথা।
পার্টি যা শিখিয়ে দিচ্ছে, ভোটের স্বার্থে সেটাই বলে দিচ্ছেন! আরে একটা কথা বলার আগে বার বার করে ক্রসচেক করবেন তো। এত মিথ্যের ফুলঝুরি মানুষ সহ্য করবে না, মোদিকে নিশানা মমতার

প্রধানমন্ত্রী ক'দিন আগে মিটিং করে বলে গেলেন, উত্তরবঙ্গ উন্নয়নে কিছু হয়নি। আরে আপনি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসে আছেন। বেশি দিন সেটাতেও থাকবেন না। কিন্তু যে ক’দিন আছেন দয়া করে তো একটু কম মিথ্যে বলুন। মমতা বলেন, “একটা কথা বলার আগে বার বার করে ক্রসচেক করবেন। পার্টি যা শিখিয়ে দিচ্ছে, ইলেকশনের স্বার্থে সেটাই বলে দিচ্ছেন! এত মিথ্যের ফুলঝুরি মানুষ সহ্য করবে না।
মমতা বলেন, “দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা সংবিধান সংশোধন বিল পাশ করানো যায় না। তুমি মেয়েদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের সঙ্গে ডিলিমিটেশন ঢুকিয়ে দিয়েছো? আমার পার্টির তো ৩৭ শতাংশ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি আছে। করে দেখাও। তোমার পার্টির মেয়েদের আগে জিতিয়ে দেখাও। টিকিট দিয়ে দেখাও।

মমতা বলেন, “ইডি আছে, সিবিআই আছে, ইনকাম ট্যাক্স আছে, সেন্ট্রাল ফোর্স আছে। সকলকে একপক্ষ করে দিয়েছে। কোনও দিন এ জিনিস আমি দেশে দেখিনি।”ইলেকশন আসলেই ভোট দাও, ভোট দাও। তৃণমূলনেত্রী আরও বলেন, “দিল্লি থেকে এল গাই, সাথে এল মোটা ভাই, নিয়ে এল ইডি-সিবিআই।”
বলেছিলেন তো দেশে কালো টাকা ফরিয়ে আনবেন। নোটবন্দি করে। কালো টাকা আনতে পেরেছিলেন? আগে জবাব দিন।টাকার হুন্ডি নিয়ে বাংলায় বসে আছেন, আর তৃণমূলের পার্টি অফিসে গিয়ে রেড করছেন, আমার প্লেনে হানা দিছেন, প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে রেড করছেন। আমার সিকিয়োরিটিদের রেড করছেন, নির্লজ্জ, বেহায়া একটা রাজনৈতিক দল বিজেপি। সামনাসামনি লড়াই করতে পারে না।







