ওয়েব ডেস্ক: ভোটের বাদ্যি বেজে গিয়েছে বঙ্গে। নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) মুখে ইডির স্ক্যানারে দেবাশিস কুমার। শুক্রবার সকাল থেকে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে আয়কর দপ্তরের আধিকারিকরা। তবে তল্লাশির সঙ্গে জমি দুর্নীতি মামলার কোনও যোগ রয়েছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়। আয়কর তল্লাশি নিয়ে কোচবিহারের সভা থেকে তোপ তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। সভামঞ্চ থেকে বিজেপিকে আক্রমণ করেন তিনি। বলেন, “আমার প্রার্থীর বাড়ি, পার্টি অফিসে তল্লাশি করছে। আমার বিমানেও তল্লাশি করতে গিয়েছিল। নির্লজ্জ, বেহায়া, সামনাসামনি লড়াই করতে পারে না।
শুক্রবার কোচবিহারে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে রাসমেলা ময়দানে জনসভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন জনসভা থেকে মোদি একের পর এক ইস্যুতে তোপ দাগেন তৃণমূল নেত্রী। মমতা বলেন, “বলেছিলেন তো দেশে কালো টাকা ফরিয়ে আনবেন। নোটবন্দি করে। কালো টাকা আনতে পেরেছিলেন? আজকে কালো টাকার হুন্ডি নিয়ে বাংলায় বসে আছেন, আর আমার প্রার্থীর বাড়ি, পার্টি অফিসে তল্লাশি করছে। আমার বিমানেও তল্লাশি করতে গিয়েছিল। নির্লজ্জ, বেহায়া, সামনাসামনি লড়াই করতে পারে না। ভীতু, কাপুরুষ।” বিজেপির বিরুদ্ধে বারবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলকে বিপাকে ফেলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভোটের মুখে শাসক শিবিরকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে বলেই দাবি মমতার। মোদিকে বিঁধে মমতা বলেন, “একটা কথা বলার আগে বার বার করে ক্রসচেক করবেন। পার্টি যা শিখিয়ে দিচ্ছে, ইলেকশনের স্বার্থে সেটাই বলে দিচ্ছেন! এত মিথ্যের ফুলঝুরি মানুষ সহ্য করবে না।
আরও পড়ুন: ‘তৃণমূলের প্রার্থীর বাড়িতে তল্লাশি, আমার প্লেনে হানা দিতে আসছে’! তোপ মমতার
কোচবিহারে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ২–২.৫ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ওরা জানে মানুষের ভোটে জেতার ক্ষমতা নেই, তাই সেন্ট্রাল ফোর্স, ইনকাম ট্যাক্স, ইডি, সিবিআই—সব নিয়ে নেমেছে। তবুও দেখুন, আমি লড়াই করছি। আমি একা নই—আমার সঙ্গে ১০০ শতাংশ মানুষ আছে।ইলেকশন এলেই শুধু “ভোট দাও” বলা হয়, আর ইডি, সিবিআই, ইনকাম ট্যাক্স, সেন্ট্রাল ফোর্স—সবকেই একপক্ষ করে দেওয়া হয়েছে, এমন দৃশ্য আমি আগে দেখিনি। তৃণমূলনেত্রী কটাক্ষ করে বলেন, “দিল্লি থেকে এল গাই, সঙ্গে এল মোটা ভাই, নিয়ে এল ইডি-সিবিআই।”ভোটবাক্সে মানুষ জবাব দেবেন বলেই ‘আত্মবিশ্বাসী’ তৃণমূলনেত্রী। গণতন্ত্র বুলেট নয়, ব্যালট—এটা মনে রাখবেন। এখানে বন্দুক নয়, ভোটই আসল শক্তি। ভারতের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষতা ও সকলের সমান অধিকারের কথা বলে।
এদিন মমতা বলেন, পোলিং এজেন্ট নেই, এজেন্সি দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। ওরা এমন অবস্থায় গেছে যে পার্টি অফিসও চেক করতে পারে—এটা শেষ ‘মরণ কামড়’, যার বিষ ভেঙে দিতে হবে। ভোটের পরে ওদের মূল্য শূন্য; এখন ইডি-সিবিআই (ED-CBI Raid) দেখিয়ে চাপ তৈরি করছে, কিন্তু কোনও কেসের ফয়সলা করতে পারে না। সবাই মাথানত করে, আমরা করি না। আমাদের উপর অত্যাচার-জুলুম চলছে। এমন নির্বাচন আমি কোনও দিন দেখিনি—পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে বাইরের ফোর্সকে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে পুননির্বাচন নিয়ে সকলকে সতর্ক করে মমতা বলেন, ভোটের দিন আমাদের শক্ত ঘাঁটিতে পুনর্নির্বাচনের জন্য ওরা নানা বদমায়েশি করতে পারে, তাই রিপোলের জন্যও প্রস্তুত থাকুন। ভাল করে ভোট দিন—রিপোল হলেও দেবেন, আজ যাঁরা আমাকে ভোট দিয়েছেন, কালও দেবেন।







