ওয়েব ডেস্ক : নদিয়ার (Nadia) নবদ্বীপে রাসায়নিক মিশিয়ে ভেজাল দুধ ( Adulterated Milk) তৈরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মহিশুড়ার ঘোষপাড়া কালভার্ট সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি নেতৃত্বের অভিযানে একটি কারখানায় এই কারবারের অভিযোগ সামনে আসে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কারখানাটি বন্ধ করে দেয় নবদ্বীপ থানার পুলিশ।
অভিযোগ, ওই কারখানায় রাসায়নিক, পাউডার, ওষুধ এবং বিভিন্ন ধরনের তরল পদার্থ মিশিয়ে দুধ তৈরি করা হচ্ছিল। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক, পাউডার, ওষুধ, লিকুইড এবং তৈরি করা দুধ উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিজেপি নেতা শশধর নন্দীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় এই কারবার চলছিল। তাঁর অভিযোগ, প্রায় ২০ লিটার আসল দুধের সঙ্গে ছানার জল, বিভিন্ন রাসায়নিক, ওষুধ ও অ্যাসিড মিশিয়ে প্রায় ১০০ লিটার তরল দুধ তৈরি করা হতো।
আরও খবর : বেহাল প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনার রাস্তা, খানাখন্দে চরম দুর্ভোগ হাসনাবাদে
অভিযোগ, পরে সেই তরল দুধ (Milk) প্যাকেট ও কন্টেনারে ভরে বিভিন্ন এলাকায় এবং ছোট দুধের সংস্থাগুলিতে সরবরাহ করা হতো। অভিযান চলাকালীন কারখানার ভিতরে রাসায়নিক মিশিয়ে দুধ তৈরির কাজ চলছিল বলেও দাবি বিজেপি নেতার। ঘটনাস্থল থেকে কারখানার মালিকের ভাগ্নে বলে পরিচিত এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য দপ্তর এবং মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছেও লিখিত অভিযোগ জানানো হবে বলে জানিয়েছেন শশধর নন্দী।
কারখানায় থাকা একটি দুগ্ধ উৎপাদক সমবায় সমিতির বোর্ড ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে। বোর্ডে ‘নবদ্বীপ ঘোষপাড়া দুগ্ধ উৎপাদক সমবায় সমিতি লিঃ’-এর নাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে। সমিতিটি ‘দি কিষান কো-অপারেটিভ মিল্ক প্রডিউসার্স ইউনিয়ন লিমিটেড’-এর অন্তর্গত বলেও বোর্ডে উল্লেখ রয়েছে। ফলে সমবায় সমিতির সঙ্গে অভিযুক্ত কারখানার কার্যকলাপের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও সমিতি কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর প্রকৃতি এবং কারখানাটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখছে নবদ্বীপ থানার পুলিশ। এই কারবারের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।







