ওয়েব ডেস্ক: হিমালয়ের (Himalayas) পাহাড়ি উপত্যকা মানেই তুষারশৃঙ্গে সাজানো অপার সৌন্দর্য, চোখজুড়োনো ফুলের গালিচা আর সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য। প্রত্যেক ঋতুতে বদলে যায় সেখানের প্রকৃতি। কিন্তু এবছর সেখানে ঘটেছে এক বিরল ঘটনা। তিন দশক পর হিমালয়ের গায়ে ফুটে উঠেছে ‘সিকিম সুন্দরী’ (Sikkim Sundari Flower)!
সেটা ঠিক কী? আসলে ‘সিকিম সুন্দরী’ হল এক পার্বত্য ফুল, যার বৈজ্ঞানিক নাম রিউম নোবাইল (Rheum Nobile)। স্থানীয়রা এই ফুলকে ‘চুকা’ নামে চেনেন। এই বিশেষ ফুল প্রায় দুই মিটার উঁচু হয়। এটি দেখতে অনেকটা স্বচ্ছ স্তরযুক্ত সুউচ্চ প্যাগোডার মতো, তাই কেউ কেউ আবার একে বলেন ‘প্যাগোডা ফুল’ (Pagoda Flower)। এখন একনজরে এই ফুল সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য জেনে নেওয়া যাক।
আরও পড়ুন: ক্যানসার চিকিৎসায় দিশা দেখাল জাপানের গেছো ব্যাঙ! দাবি গবেষকদের
কোথায় ফোটে ‘সিকিম সুন্দরী?
ফুলটির নাম ‘সিকিম সুন্দরী’ হলেও এটি শুধু সিকিমেই নয়, উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, তিব্বত ও মায়ানমারেও পাওয়া যায়। মূলত চার থেকে পাঁচ হাজার মিটার উঁচুতে, বরফের দেশে জন্ম হয় এই বিরল উদ্ভিদের।

কেন এই ফুল রহস্যময়?
‘ব্র্যাক্ট’ নামে স্বচ্ছ আবরণে মোড়া থাকে পুরো ফুলটি, যা প্রাকৃতিক গ্রিনহাউসের মতো অতিবেগুনি রশ্মি ও ঠান্ডা বাতাস থেকে ফুলটিকে রক্ষা করে, ফুলের এই আবরণের ভিতরে তৈরি হয় আলাদা একটি মাইক্রোক্লাইমেট।

কেমন হয় ‘সিকিম সুন্দরী’ গাছ?
এই গাছের মূল ও কাণ্ড হয় হলুদ রংয়ের, যা মানুষের হাতের মতো মোটা হয় এবং কাণ্ডের ভেতরে থাকে প্রচুর স্বচ্ছ জল। এই উদ্ভিদ বহুবর্ষজীবী, যা ৩০ বছর ধরে একটু একটু করে বড় হয় এবং সাধারণত জুন–জুলাইতে এতে ফুল ফোটে। ফুল কয়েকদিন থাকে, তা থেকে বীজ ঝড়ে পড়লেই গাছটি মারা যায় এবং ফের ৩০ বছরের অপেক্ষা শুরু হয়।

‘সিকিম সুন্দরী’র উপযোগীতা
স্থানীয়রা এই গাছের কাণ্ডকে খেয়ে থাকেন, যার স্বাদ হয় টক। এছাড়াও, এর কাণ্ড ও শিকড় তিব্বতের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ওষুধ তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়। সেই কারণে এই ফুল পার্বত্য এলাকায় এতটা গুরুত্বপূর্ণ।
দেখুন আরও খবর:







