নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) শুরু হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) মামলা। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর (SIR Case Hearing at Supreme Court) সংক্রান্ত মামলার শুনানি হচ্ছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী, বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে। শুনানিতে আইনজীবীদের সঙ্গে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শীর্ষ আদালতে সওয়াল করছেন মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান। ভার্চুয়ালি শুনানিতে উপস্থিত হন বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল। শুনানি চলাকালীন বলার জন্য অনুমতি চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঞ্জুর করলেন প্রধান বিচারপতি।বিচারপতিদের ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লিতে ইতিহাস গড়ে মমতা সওয়াল করেন, “আমরা বিচার পাচ্ছি না।”এক বেনজির দৃশ্যের সাক্ষী থাকে গোটা দেশ।
দৃষ্টি আকর্ষণের পর প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত জিজ্ঞাসা করেন, ওই বিষয়ে কি নতুন মামলা হয়েছে? আইনজীবী জানান, তালিকায় ৩৬ এবং ৩৭ নম্বরে নতুন মামলা রয়েছে। আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান আদালতে বলেন, নাম বিভ্রাটে কীভাবে ভোটার হেনস্তা, জানতে চাইলেন প্রধান বিচারপতি। মমতার আইনজীবী শ্যাম দেওয়ান বলেন, কারও পদবি গাঙ্গুলী, রে বা চ্যাটার্জি। ২০০২ ভোটার তালিকা বাংলায় রয়েছে। ইংরাজি তর্জমায় বানান বদলে গিয়েছে। তাই এই বিভ্রাটকে লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সির তালিকায় রাখা যায় না। লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি তথ্য অসংগতির তালিকা গ্রাম পঞ্চায়েত, বিডিও অফিস তথা স্থানীয় সরকারি অফিসে টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হোক। শুনানির জন্য মাত্র ৪ দিন বাকি। ৬৩ লক্ষের শুনানি বাকি। ভেরিফিকেশন কীভাবে হবে? চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। প্রায় কোটি মানুষ অসংগতির তালিকায়।
শুনানি চলাকালীন বলার জন্য অনুমতি চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঞ্জুর করলেন প্রধান বিচারপতি।বিচারপতিদের ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রধান বিচারপতি বলেন, শুনানি হবে মুখ্যমন্ত্রী বলার সময়েই তাঁকে থামালেন প্রধান বিচারপতি। রাজ্যের অবস্থা কি ব্যাখ্যা দিতে চান মুখমন্ত্রী। মমতা বলছেন, ‘কোথাও বিচার পাচ্ছি না। দয়া করে আমাকে বলতে দিন। মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসেছি, গোটা পরিস্থিতি বলতে পারি।’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমার কাছে কয়েকটি ছবি রয়েছে। সেটি দেখানোর অনুমতি দেওয়া হোক। সেটি আমার ছবি না। সংবাদমাধ্যমের ছবি।আমাকে সাবমিশন করতে দেওয়া হোক। আপনার নির্দেশ লঙ্ঘন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আপনারা আধার কার্ড নিতে বলেছিলেন। কিন্তু নেওয়া হয়নি। অন্য নথি চাওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: অগ্রাধিকার তালিকায় নেই মমতার মামলা!
১০০ জনের বেশি মারা গিয়েছেন। ভাবতে পারেন।বাংলাকে টার্গেট করা হয়েছে।কেন অসমে করা হয়নি? প্রধান বিচারপতি বললেন, “দুঃখিত ম্যাডাম আপনাকে বিরক্ত করছি।”৫ মিনিট বলার অনুমতি চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রধান বিচারপতি বললেন, “৫ মিনিট কেন? আপনি ১৫ মিনিট বলতে পারেন, তাতে অসুবিধা নেই। একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি মামলা করেছে। এই আদালতের অন্যতম সেরা আইনজীবীরা সেখানে উপস্থিত রয়েছেন। কপিল সিব্বল সেখানে সওয়াল করছেন। প্রধান বিচারপতি ম্যাডাম মমতা ২-৩টি বিষয়ে ব্যাখ্যা করছি। তিনি বলেন, আধার কার্ড নিয়ে আমরা মামলা শুনেছি। রায় ঘোষণা বাকি রয়েছে। মমতা বলেন,ইআরও-র কোনও ক্ষমতা নেই। রোল পর্যবেক্ষক বিজেপিশাসিত রাজ থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। ৫৮ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছে। অনেকে জীবিত রয়েছেন। ইআরও-র কোনও ক্ষমতা নেই। বিজেপির লোকজনকে মাইক্রো অবজার্ভার করে পাঠাচ্ছে। তাঁরা নাম ডিলিট করছে।
আমরা রাজ্য সরকারকে একাধিক চিঠি দিয়েছি যাতে গ্রুপ বি কর্মী আমাদের দেওয়া হয়, কিন্তু রাজ্য সরকার কোনও সাড়া দেয়নি। ফল্ট লাইজ উইথ দেম, নট আওয়ার্স! সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে মমতার আর্জি, ইলেকশন কমিশন হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন হয়ে গিয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ দিচ্ছে। এটা আমার শেষ সাবমিশন স্যার, শুধু বাংলার জন্য এই মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে। অন্য কোনও রাজ্যে করা হয়নি। আপনার কাছে শুধু একটা অনুরোধ, দয়া করে গণতন্ত্রকে রক্ষা করুন। প্রধান বিচারপতি আমরা এই বিষয়ে নির্দেশ দেব। প্রধান বিচারপতি বলেন,‘আমরা এই ম্যাটারের সলিউশন করব। আপনারা আমাকে রাজ্যের অফিসারদের তালিকা দিন, যারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কাজ করবে। এমন হতে পারে না যে রাজ্যে মাইক্রো অবজার্ভারদের প্রয়োজন হবে না। সব পক্ষকে নোটিস করা হয়েছে। আগামী সোমবার মামলার পরবর্তী শুনানি।







