ওয়েবডেস্ক- আজ এক নয়া ইতিহাস রচিত হল। এতদিন বাংলার বঞ্চনাকে সামনে রেখে একাধিক বার তাঁকে গর্জে উঠতে দেখা গেছে। কিন্তু এবার এক সম্পূর্ণ অন্যরূপে দেশবাসী তাঁকে দেখল আজ। রাজ্যের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কার্যত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত দৌড়ে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি যে শুধু মুখেই বলেন না, কাজেও করে দেখান, সেই কথাই প্রমাণ হল আজ। তিনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি ‘হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন (WhatsApp Commission) বলে নিশানা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মানছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বুধবার এসআইআর মামলা নিয়ে এতদিন তাকে মিছিল, জনসভা থেকে সোচ্চার হতে দেখা গেছে, কিন্তু এবার খোদ সুপ্রিম কক্ষ থেকে দাঁড়িয়ে কমিশনকে জোর ধাক্কা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আইনজীবীদের সঙ্গে একই সারিতে দাঁড়িয়ে মমতা একাধিক অভিযোগ শীর্ষ আদালতের সামনে তুলে ধরলেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে বলেন, ৬টি চিঠি দিয়েছি, কিন্তু কোনও জবাব পাননি। কমিশন এখন ‘হোয়াটস অ্যাপ কমিশন’ হয়ে গিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি থেকে ERO এনে নাম বাদ দেওয়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
এসআইআর শুনানির (SIR Hearing) আর চার দিন বাকি। এদিকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির আওতায় থাকা প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষের এখনও শুনানিই হয়নি। এত কম সময়ের মধ্যে কী করে শুনানি সম্ভব হবে, বিগত কয়েকদিন ধরে সেই নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। আজ আদালতে সেই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে সরব হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন ব্যানার্জি বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখার্জি মুখোপাধ্যায় হয়ে গিয়েছে, দত্ত দত্তা হয়ে গিয়েছে, বিয়ের পর মেয়েদের পদবি বদলকেও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির আওতায় ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। মমতার এই অভিযোগ, বৈধতা পায় আদালতে। আদালত জানায়, এই ধরনের ভাষাগত সমস্যা হতেই পারে।
ইংরেজিতে কোনও নাম যেভাবে লেখা হয়, অন্য ভাষায় অন্য ভাবে লেখা হয়। বানানের হেরফের ঘটলে সেটা ঠিক করতে হবে। জবাবে কমিশন জানায়, পশ্চিমবঙ্গ থেকে দক্ষ অফিসার চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু শুধুমাত্র ৮০ জন ক্লার্ক দেওয়া হয় শুনাতিতে। তাই হয়তো এই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। আদালত জানায়, রাজ্যকে দক্ষ অফিসার দিতে হবে, গ্রুপ বি-র অফিসার, যাঁরা বাংলা বাষায় দক্ষ, বাংলা ভাষা ভালো করে বোঝেন। আগামী সোমবার শুনানি, তার আগে সেই তালিকা দিতে হবে রাজ্যকে। পরবর্তীতে সেই মতো নির্দেশ দেবে আদালত। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি কেন হয়েছে, কী জন্য হয়েছে, কোথায় ভুল, সেটি সাধারণ মানুষ কী করে বুঝবেন, সেই প্রশ্ন তোলেন মমতার আইনজীবী। কমিশনকে সব স্পষ্ট ভাবে জানাতে হবে বলেও সওয়াল করেন তারা।
প্রধান বিচারপতি জানান, ওয়েবসাইটের তালিকাই যথেষ্ঠ নয়, আলাদা করে নোটিস দেওয়া হয়েছে সকলকে। নোটিস প্রত্যাহার করার যুক্তি বাস্তবিক নয়। তবে তাঁদের কী পরামর্শ জানতে চান প্রধান বিচারপতি।
আরও পড়ুন- মমতার মামলার শুনানি শেষ, বেরিয়ে কী বললেন তৃণমূল নেত্রী
মমতার আইনজীবী জানান, সময় কম। বানানের হেরফেরের জন্য যেন কাউকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির আওতায় না ফেলা হয়। প্রধান বিচারপতিও জানান, এক এক জায়গায় এক এক রকম উচ্চারণ হয়, তাই নামের বানান সম্পূর্ণ ভুল নয়। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যদি আমাকে পাঁচ মিনিট সময় দেওয়া হয়, আমি বলতে পারি। আমি পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসেছি। তাই বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলতে পারব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমাদের আইনজীবীরা প্রথম থেকে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু আমরা সুবিচার পাচ্ছি না। কমিশনকে ৬ টি চিঠি দেওয়ার পরেও কোনও জবাব আসেনি। প্রধান বিচারপতি বলেন, মৃত, স্তানান্তরিত ভোটার তালিকায় থাকুক, সেটা নিশ্চই আপনি চান না, আমাদের উদ্দেশ্য কোনও ভোটার যেন বাদ না যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তোলেন, ৮৩০০ মাইক্রো অবজার্ভার অন্য রাজ্য থেকে, বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে আনা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
এর পরেই পাল্টা কমিশনের আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী বলেন, রাজ্য সহযোগিতা করেনি বলেই অন্য রাজ্য থেকে লোক আনা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কমিশনের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে রাজ্য সরকার। যখন যেমন চাওয়া হয়েছে, তাই দেওয়া হয়েছে। জাতি শংসাপত্র, আধার, ডমিসাইল সার্টিফিকেট অন্য রাজ্যে গৃহীত হলেও, বাংলায় সেটি গৃহীত হচ্ছে না।
আদালত জানায়, আধার কার্ডের নির্দেশটি স্থগিত রয়েছে। সেই নিয়ে এই নিয়ে এখন কিছু বলবেন না তারা। কিন্তু নামের বানান নিয়ে আজ ইঙ্গিতপূর্ণ নির্দেশই দেয় আদালত। বানান জানা দক্ষ লোকের তালিকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যকে।







