নয়াদিল্লি: বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে ইতিহাস গড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।প্রধান বিচারপতির এজলাসে প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে সওয়াল করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee at Supreme Court)। সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এ ধরনের সওয়াল সম্ভবত স্বাধীনোত্তর ভারতবর্ষে এই প্রথম। শুনানি চলাকালীন বলার জন্য অনুমতি চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঞ্জুর করলেন প্রধান বিচারপতি।বিচারপতিদের ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লিতে ইতিহাস গড়ে মমতা সওয়াল করেন, “আমরা বিচার পাচ্ছি না।“আমি হয়তো খুবই সাধারণ একজন মানুষ। আমি এখানে নিজের জন্য আসিনি, স্যার। আমি এসেছি সাধারণ মানুষের জন্য।আপনার কাছে শুধু একটা অনুরোধ, দয়া করে গণতন্ত্রকে রক্ষা করুন। এক বেনজির দৃশ্যের সাক্ষী থাকে গোটা দেশ। কী কী পদক্ষেপ করছে কমিশন, জানাতে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)। এসআইআর প্রক্রিয়ায় কত অফিসার দিতে পারবে রাজ্য, জানাতে হবে নবান্নকে। দুই পক্ষকে নোটিস দেবে আদালত। সোমবার ফের সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানি। শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) থেকে বেরিয়ে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে মমতার বলেন, এই বিষয়টা নিয়ে আমাদের আইনজীবীরা প্রথম থেকেই লড়াই করছেন। আমি কমিশনকে ছ’টি চিঠি দিয়েছি। কিন্তু একটারও উত্তর পাইনি। এর আগে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে সুপ্রিম কোর্টে নোট জমা দেন বর্ষীয়ান আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান ও তৃণমূল সাংসদ-আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নজিরবিহীন ভাবে এদিন আদালতে আইনজীবীদের সঙ্গে সামনের সারিতেই উপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের জন্য নয়, মানুষের অধিকারের জন্য এসেছেন। এসআইআর প্রক্রিয়া কার্যত শুধু নাম বাদ দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। বিয়ের পর মেয়েরা শ্বশুরবাড়ির নাম ব্যবহার করলে সেটাকেও ‘মিসম্যাচ’ ধরা হচ্ছে। অনেক জীবিত মানুষকে মৃত বলে বাদ দেওয়া হয়েছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গকেই নিশানা করা হয়েছে।
মমতা বলেন, ২৪ বছর পর হঠাৎ ৩ মাসে কাজ কেন? যখন ফসল কাটার মরসুম চলছে, মানুষ বাইরে কাজে যাচ্ছে—ঠিক তখনই কেন?”এই প্রক্রিয়ার চাপেই ভয়াবহ পরিণতি হয়েছে। ১০০-র বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন, বহু বিএলও অসুস্থ। ইআরও-দের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বিজেপিশাসিত রাজ্য থেকে ৮৩০০ মাইক্রো অবজ়ারভার অফিসে বসেই নাম বাদ দিচ্ছে। ফর্ম-৬ জমা দিতে দেওয়া হচ্ছে না। বিচারের বাণী নীরবে-নিভৃতে কাঁদছে।এসআই আর অসমে হচ্ছে না কেন? শুধু বাংলাই কেন?”
আরও পড়ুন: ইতিহাস গড়ে সুপ্রিম কোর্টে শুরুতেই কী কী বললেন মমতা?
আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শ্যাম দিওয়ান নির্বাচন কমিশনের ‘তাড়াহুড়ো’ নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানান, কমিশনের তরফে প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। অথচ পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে হাতে রয়েছে মাত্র চার দিন। এখনও প্রায় ৬৩ লক্ষ শুনানি বাকি।কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করেন, এসআইআর-এর নামে এমন এক প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, যার ফলে বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই আতঙ্ক ও বিভ্রান্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, এক্ষেত্রে কোনও বিধিবদ্ধ বা স্ট্যাটুটরি নিয়ম নেই।” এর জবাবে কমিশনের আইনজীবী বলেন,“রাজ্য যদি সহযোগিতা না করে, তাহলে আমাদের কাছে অন্য কোনও বিকল্প থাকে না।” তিনি আরও দাবি করেন, এই প্রক্রিয়ায় সময়ের কোনও সংকট নেই।প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তিনি জানান, “আমরা তো সময় বাড়িয়েই যাচ্ছি।” তখন ফের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মাই লর্ডস, আমার বিরোধী পক্ষের আইনজীবী যা বলেছেন, তা সঠিক নয়।এর উত্তরে প্রধান বিচারপতি বলেন,“ম্যাডাম মমতা, শ্রীমান দ্বিবেদীর দক্ষতা বা সক্ষমতা নিয়ে আমাদের কোনও সন্দেহ নেই। তবে আপনার বক্তব্যও আমরা গুরুত্ব দিয়ে শুনছি।মুখ্যমন্ত্রী আদালতে আরও জানান, বিষয়টা জেলা ভেদে আলাদা। এসডিএম বা প্রশাসনিক কাঠামোও জেলার উপর নির্ভর করে। আমাদের যতটা জনবল ছিল, আমরা দিয়েছি। ওঁরা যা বলছেন, আমি তা বিশ্বাস করি না। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন,“আমরা একটি প্র্যাকটিক্যাল সলিউশন খুঁজে বের করতে পারি। সোমবারের মধ্যে রাজ্য যত গ্রুপ–বি অফিসার দিতে পারবে, তাদের তালিকা আদালতে জমা দিন।







