বোলপুর: আর মাত্র দু’দিন পরেই দোল বা বসন্ত উৎসব (Holi 2026)। আবিরে রাঙা সকাল, নাচ-গান, রবীন্দ্রসঙ্গীত—সব মিলিয়ে বাঙালির হৃদয়ে দোল মানেই শান্তিনিকেতন (Shantiniketan)। লাল মাটির পথ, পলাশ-কৃষ্ণচূড়ার আগুনরঙা ছটা আর বসন্তের হালকা হাওয়া—এই সময়ের বোলপুর (Bolpur) যেন এক জীবন্ত ক্যানভাস।
জানা যায়, ১৯০৭ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পুত্র শমীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম ঋতু-উৎসবের সূচনা করেন। পরে ১৯২৩ সাল থেকে শান্তিনিকেতনে বসন্ত উৎসব আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হতে শুরু করে। যদিও চলতি বছর বিশ্বভারতী দোলের দিন উন্মুক্ত বসন্ত উৎসবের আয়োজন করছে না। ৬ মার্চ নির্দিষ্ট পরিসরে অনুষ্ঠান হবে, যেখানে বহিরাগতদের প্রবেশের অনুমতি নেই।
আরও পড়ুন: দোলের দিন কখন খুলবে মদের দোকান? দেখে নিন
তবে উৎসবের আবহে শান্তিনিকেতন ঘোরার আনন্দ আলাদা। আর এই সময় গেলে অবশ্যই ঘুরে আসুন বোলপুরের এক বিশেষ আকর্ষণ ‘ফুলবাড়ি’। নামের মতোই বাড়িটির চারপাশ জুড়ে রয়েছে নানান রঙের ফুলের সমারোহ। প্রায় একশোরও বেশি প্রজাতির ফুলগাছ রয়েছে এখানে। বসন্তকালে জায়গাটি যেন রঙের উত্সবে মেতে ওঠে—প্রকৃতিপ্রেমী ও ফটোগ্রাফি অনুরাগীদের জন্য আদর্শ স্পট।
শুধু ফুলবাড়িই নয়, সোনাঝুরির হাটে যাওয়ার পথের দুই ধারে চোখে পড়বে বিভিন্ন ফুলের গাছ। শ্যামবাটি মোড় থেকে বোলপুর শহরের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকবে ফুলের গন্ধ। পলাশ, শিমুল, কৃষ্ণচূড়া আর কচি পাতার ফাঁক দিয়ে উঁকি দেওয়া রোদ—সব মিলিয়ে বসন্তের শান্তিনিকেতন এক অনন্য অভিজ্ঞতা। তাই দোলের ছুটিতে যদি শান্তিনিকেতন যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে, আবির খেলায় মেতে ওঠার পাশাপাশি প্রকৃতির এই রঙিন অধ্যায়টাও উপভোগ করতে ভুলবেন না।







