কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে (WB Assembly Election) পাখির চোখ করে এগোচ্ছে বঙ্গ বিজেপি। ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সভা আজ, শনিবার। জেলায় জেলায় মঙ্গলবার বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শেষ হয়েছে। শনিবার কলকাতায় তার সমাপ্তি পর্বে রয়েছে ব্রিগেডে সমাবেশ। কোথাও গানের তালে তালে, কোথাও ট্রেনে, কিংবা কোথাও নৌকাতে করে আজ সকল মোদির ব্রিগেডে (Narendra Modi Brigade) যোগ দিতে কলকাতায়মুখী। ভোটের মুখে বিজেপির হাইভোল্টেজ ব্রিগেড সমাবেশ ঘিরে রাজ্য জুড়ে পারদ চরমে। বাঙালিয়ানাকে উস্কে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে তৈরি হয়েছে ব্রিগেডের মঞ্চ। ইতিমধ্যেই শিয়ালদহ-হাওড়ায় ভিড় বিজেপি কর্মী সমর্থকদের। এদিন সমাবেশ থেকে কী কী বার্তা দেবেন মোদি সেই দিকে তাকিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে কর্মীসমর্থকরা।প্রধানমন্ত্রীর সভার নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করেছে পুলিশ।
ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেড সমাবেশ নিয়ে স্বভাবতই উত্তেজিত বিজেপি। যতদূর খবর, সভামঞ্চকে বিশেষভাবে সাজিয়ে নিচ্ছে তারা। দক্ষিণেশ্বরের কালী মন্দিরের আদলেই মঞ্চটি তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি মঞ্চ সজ্জাতেও অভিনবত্ব থাকছে। সেখানে কোচবিহারের রাজবাড়ির ছবি থেকে শুখু করে বাঁকুড়ার বিখ্যাত টেরাকোটার ঘোড়া এবং উত্তরবঙ্গের জঙ্গলের দৃশ্য থাকবে বলে খবর। পশ্চিবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের ১২ জন শিল্পী মিলেই এই মঞ্চ সাজিয়ে তুলছেন বলে খবর। এসআইআর আবহে রাজ্যে এসে কী বার্তা দেবেন মোদি? সেদিকে তাকিয়ে বাংলার মানুষ। মোদির সভা উপলক্ষে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪০ হাজারের বেশি চেয়ার পেতেছে বিজেপি। তা ছাড়াও প্রায় দু’লক্ষ লোকের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। বিজেপির দাবি, জমায়েতে সেই সংখ্যা ছাপিয়ে যাবে। ৩৫টি বড় স্ক্রিনের ব্যবস্থাও করেছে দল।
ধীরে ধীরে ব্রিগেডমুখী বিজেপি কর্মী ও সমর্থকেরা। জেলা থেকে অনেক কর্মী-সমর্থক মোদির সভায় যোগ দিতে কলকাতায় আসছেন। দুই স্টেশনেই অস্থায়ী ক্যাম্প করেছে বিজেপি। সেখানে দূরদূরান্ত থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের প্রাতরাশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিয়ালদহ স্টেশনে তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন সজল ঘোষ। শঙ্কর ঘোষ রয়েছেন হাওড়ায়।মোদির ব্রিগেড সভামুখী সংর্থকরা, কাটোয়া-বর্ধমান থেকে ট্রেনে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের কলকাতা যাত্রা কর্মী সমর্থকদের। রাজনৈতিক সভার উদ্দেশ্যে রওনা বীরভূম জেলা বিজেপির নেতাকর্মীদের। হাওড়া সদর বিজেপির তরফ থেকে প্রায় ১ লক্ষ মানুষের জন্য খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে নদীপথে নৌকায় করে নদী পার হয়ে হিঙ্গলগঞ্জ থেকে ব্রিগেডের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। জেলা থেকে কাতারে কাতারে লোক এসে হাজির হয়েছেন ময়দান চত্বরে। সমর্থকদের জন্য খাবারের আয়োজন করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। জানা গিয়েছে, মেনুতে রয়েছে ডাল ও ভাত।
আরও পড়ুন: ধীরে ধীরে ব্রিগেডমুখী বিজেপি কর্মী ও সমর্থকেরা, ভিড় বাড়ছে হাওড়া-শিয়ালদহে
প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেডে জনসভা উপলক্ষে বিভিন্ন জেলা থেকে আসতে শুরু করেছেন বহু সংখ্যায় বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। তারা ট্রেনে করে হাওড়া স্টেশন পৌঁছনোর পর মিছিল করে ব্রিগেডের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন।পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থেকে ব্রিগেড আসছিলেন বিজেপি কর্মীরা। আর সেই বাসেই হামলা চালান হয়েছে বলে অভিযোগ। বিজেপির দাবি, ভেঙে দেওয়া হয়েছে বাসটির পিছন দিকের কাচ। আর এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূল জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে কলকাতা বিজেপিকে বয়কটের ডাক দিয়ে পোস্টার পরেছে। বাংলার হার্মাদ দিয়ে রাজনীতি চলবে না বলে ধর্মতলা জুড়ে পড়ল পোস্টার। বিজেপির পতাকার পাশেই পড়েছে পোস্টার। তবে বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি আলী হোসেনের দাবি আসলে তৃণমূল ভয় পেয়েছে। তাই তারা এই পোস্টার লাগিয়েছেন বলে পাল্টা অভিযোগ তার।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই কলকাতার বেশ কিছু রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে কলকাতা পুলিশ। সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর সভার নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করেছে পুলিশ। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন এডিজি (কোস্টাল) হরিকিশোর কুসুমাকার। এ ছাড়া দায়িত্বে থাকবেন তিন হাজার পুলিশ।আজ ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভায় ৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন করল লালবাজার। নজরদারিতে থাকছে কলকাতা পুলিশের বিশেষ বাহিনী।ব্রিগেডে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ব্যাগ নিয়ে প্রবেশে করতে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ জানাচ্ছে, ব্যাগের জন্য আলাদা কাউন্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে ব্যাগ রাখতে হবে। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে সেখানে ব্যাগ রাখতে চাইছেন না কর্মীরা।
আজ প্রায় ১৮,৬৮০ কোটি টাকার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করার কথা প্রধানমন্ত্রী। তার মধ্যে রয়েছে রেলের একাধিক প্রকল্প। পূর্ব রেল নিয়ে একাধিক ঘোষণা করার কথা মোদির।পুরুলিয়া– আনন্দ বিহার টার্মিনাল এক্সপ্রেস ট্রেনের সূচনা করবেন মোদি। এই ট্রেন পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং দিল্লির মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করবে। অর্থাৎ পুরুলিয়া থেকে ওই সব রাজ্যগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে এই এক্সপ্রেস। অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অধীনে ছয়টি পুনর্নির্মিত রেলস্টেশনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।







