নয়াদিল্লি: পথকুকুর খুব বেশি হিংস্র বা পাগল হয়ে গেলে তাকে মেরে ফেলা যেতে পারে। মঙ্গলবার পথকুকুর সংক্রান্ত মামলায় এমনটাই জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। একই সঙ্গে পথকুকুর (Supreme Court Stray Dog Verdict) সংক্রান্ত মামলায় আগের নির্দেশও বহাল রেখেছে শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, স্কুল, কলেজ বা হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল এলাকা থেকে পথ কুকুরদের টিকাকরণ বা বন্ধ্যাকরণের জন্য নিয়ে যাওয়ার পর, তাদের আর সেই পুরনো জায়গায় ফেরত পাঠানো যাবে না। এই মর্মে শীর্ষ আদালত তার পূর্ববর্তী ২৫ নভেম্বরের নির্দেশিকাই বহাল রেখেছে এবং পশুপ্রেমী ও সমাজকর্মীদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের সেই নির্দেশ অনুযায়ী, হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, বাসস্টপ, রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন পাবলিক ইনস্টিটিউশন থেকে পথকুকুরদের সরিয়ে দিতে হবে। ওই নির্দেশের পরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। নির্দেশ সংশোধনের অনুরোধ জানিয়েও একগুচ্ছ আবেদন জমা পড়েছিল শীর্ষ আদালতে। মঙ্গলবার ওই সব আবেদন খারিজ করে দিয়েছে বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চ। পুরনো অবস্থানেই আজ অনড় থাকল সুপ্রিম কোর্ট। পথকুকুরদের নিয়ে নির্দেশের কোনও পরিবর্তন করা হবে না বলে মঙ্গলবার জানিয়ে দেয় বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ।একইসঙ্গে মঙ্গলবার জলাতঙ্কে সংক্রমিত এবং গুরুতর অসুস্থ কুকুরকে নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ নিদেশ দিয়েছে আদালত। মানুষের জন্য বিপজ্জনক কুকুরকে মেরে ফেলার অনুমতি দিয়েছে শীর্ষ আদালত।৭ নভেম্বরের দেওয়া আদেশই কার্যকর থাকবে।
আরও পড়ুন: ৫ দিনেই ফের ধাক্কা! কলকাতায় একলাফে বাড়ল পেট্রল-ডিজেলের দাম
রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জায়গায় পথকুকুরের কামড়ের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগর শহরে মাত্র তিন মাসে ১৪৮৩টি কুকুরের কামড়ের ঘটনা সামনে এসেছে। উদয়পুরে ২০২৬ সালে এই সংখ্যা ১৭০০-রও বেশি। কুকুরের কামড়ে শিশুও গুরুতরভাবে আহত হয়েছে।অন্যান্য রাজ্যেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তামিলনাড়ুতে ২০২৬ সালে প্রায় ২.৪ লক্ষ কুকুর কামড়ের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মার্চ মাসেই ৭১,০০০টি ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের।রিপোর্টে বলা হয়েছে, কুকুরের আক্রমণের সমস্যা এখন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক স্পেসেও ছড়িয়ে পড়েছে। সুপ্রিম কোর্টও একাধিক রিপোর্টের ভিত্তিতে পথকুকুর কামড়ের ঘটনার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখেছে। আদালতে পর্যবেক্ষণ, পথকুকুরের মাত্রা অত্যন্ত ভয়াবহ জায়গায় পৌঁছেছে।আদালত আরও জানিয়েছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে পথচারী, শিশু এবং বয়স্কেরা কুকুরের কামড় খান। এই কঠোর বাস্তব পরিস্থিতি উপেক্ষা করা আদালতের পক্ষে সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছে তিন বিচারপতির বেঞ্চ।







