কলকাতা: শর্ত সাপেক্ষে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) ৩ টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার অন্তরবর্তী নির্দেশ হাইকোর্টের (High Court)। ৩ টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে খরচ সংক্রান্ত হিসাবের জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে স্পেশাল অফিসার নিয়োগ হাইকোর্টের। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত স্পেশাল অফিসার নিয়োগ থাকবেন। ৩টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নথিভুক্ত যে কোনও দুজন চেকএ স্বাক্ষর করে স্পেশাল অফিসারের কাছে জমা দেবেন। তিনি খরচের বৈধতা বিচার করে ওই চেকে স্বাক্ষর করার পরেই ব্যাঙ্ক পেমেন্ট করবে। বিচারপতি সুব্রত তালুকদার স্পেশাল অফিসার হিসেবে মাসে ১ লক্ষ ২৫ হাজার সন্মানিক পাবেন। দলের প্রতিদিনের খরচ, স্পেশাল অফিসারের সন্মানিক ও দলের আইনি খরচ এই অ্যাকাউন্ট থেকে করা যাবে নির্দেশ বিচারপতি সৌগত ভট্টাচাৰ্যর। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশ তদন্ত চলবে। ব্যাঙ্কে সমস্ত নথি সংরক্ষণ করতে হবে এবং তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। পরবর্তী শুনানিতে তদন্ত সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা করতে হবে। আদালতের এই রায় নির্বাচন কমিশনের কাছে বিচারাধীন প্রকৃত তৃণমূলের বিষয়টিতে কোনও গ্রাহণযোগ্যতা পাবে না। মামলার পরবর্তী শুনানি ২১ সেপ্টেম্বর।
বৃহস্পতিবার তৃণমুল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভির সওয়াল, গনতান্ত্রিক ব্যাবস্থায় একটা রাজনৈতিক দলকে এইভাবে পুলিশের অভিযোগের ভিত্তিতে অকেজো করে দেওয়া যায়না। ৮ টি অ্যাকাউন্ট সব গুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অভিযোগের একদিনের মধ্যে। ১৮ জুন এফআইআর হয়। ১৯ জুন অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। সম্পূর্ণ অস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ক্রিপ্টো থেকে চিটফান্ড, ভোরে রাজ্যজুড়ে ইডির তল্লাশি! – KolkataTV
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচাৰ্যর মন্তব্য,আমি অভিযোগের বিস্তারিত যেতে চাইনা। আপাতত অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে চায় কোর্ট। আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভির মন্তব্য,”যাব সাইয়া বানে কোতোয়াল তো ডার কাঁহিকা”।পুলিশ এখানে কোতোয়াল। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করতে পারে। কিন্তু কিভাবে সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিতে পারে? পাশাপাশি রাজনৈতিক দল সংক্রান্ত বিষয়ে সব কিছু নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ার ভুক্ত।কিভাবে পুলিশ অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে?
তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর আইনজীবী কিশোর দত্ত বলেন, বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের ২৫০ জন কর্মচারী রয়েছে। ১৭ টা অফিস চালাতে হয়। তাদের রেন্ট দিতে হয়। প্রত্যেক মাসে বিপুল খরচ। প্রায় ৯.৪৩ কোটি টাকা খরচ হয়। সুপ্রিমকোর্টের একাধিক নির্দেশ রয়েছে পুলিশ কোন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে পারে না।
আইনজীবী মনু সিংভির সওয়ালের প্রেক্ষিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর মন্তব্য, এখন ইনফরমেশন টেকনোলজির সময়। এই সময় পুলিশের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ আসে। যার জন্য পুলিশ পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়।
অভিযোগকারী বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে আইনজীবী কে পরমেশ্বরের দাবি, কে প্রকৃত তৃণমূল সেই নিয়ে দ্বন্দের প্রয়োজনই নেই।আমরাই প্রকৃত তৃণমূল। কে পরমেশ্বরের উদেশ্যে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর মন্তব্য, আপনি কেন এই মামলাতে এই বিষয় উত্থাপন করছেন? আপনি তৃণমূল কংগ্রেসের একজন সদস্য।পার্টি প্রতীকে জিতেছেন।এখন জেতার পর অভিযোগ করছেন? কেন ৪ মে ২০২৬ এর আগে অভিযোগ করেননি? ১৮ জুনের অভিযোগের বিষয়ে কি বক্তব্য আপনাদের? এটা কি আসল তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার জন্য করেছেন?
আইনজীবী কে পরমেশ্বরের দাবি,আমরাই আসল তৃণমূল। কোন প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটি গঠন হয়।তিনি যেন তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট চালু রাখেন। রাজ্য পুলিশের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা বলেন, একটা জিনিস পরিস্কার ১০৬ ধারা অনুযায়ী যে কোন পুলিশ আধিকারিক যেকোনও সম্পত্তি সিজ করতে পারেন।যদি সন্দেহ জনক মনে হয়। কে প্রকৃত তৃণমূল এখন সেটা নিয়ে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। সেই জন্য এখন অ্যাকাউন্ট অপারেট করতে দেওয়া উচিত নয়।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর মন্তব্য,নির্দেশের মধ্যে সেই বিষয়টি পরিস্কার উল্লেখ করা হবে। ১৮ জুন সন্ধ্যে ৬ টার সময় এফআরআর হয়।১৯ জুন একাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাহলে কি অভিযোগটা অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার জন্যই করা হয়? সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা উত্তরে জানান, আমরা হলফনামা দিয়ে জানাবো।
তৃণমূল কংগ্রেসের উপর আইনজীবী কিশোর দত্ত প্রতুত্তরে বলেন, কেন হলফনামা? রিপোর্ট দিয়ে জানান কি মেটিরিয়াল রয়েছে পুলিশের কাছে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতার সওয়াল,মোট সাতজন বিধায়কের থেকে অভিযোগ পায় পুলিশ। তিনজনের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে টাকা এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হতে পারে মনে করেই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়।
পুলিশের দায়িত্ব হিসাবেই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলের নিত্য দিনের খরচ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সে নিয়ে সন্দেহ নেই। তদন্তকারী আধিকারিককে সেই বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হোক আমাদের আপত্তি নেই।
মি: কিশোর দত্ত একটা হিসাব দিয়েছেন ঠিক আছে। কিন্তু কালিঘাট তৃণমূলের কেউ এসে যদি বলে একটা র্যালির জন্য ২০ লক্ষ টাকা লাগবে। পাশাপাশি বিদ্রোহী তৃণমূলের কেউ এসে যদি বলে তাদেরও ২০ লক্ষ টাকা লাগবে। তাহলে কি হবে?
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর মন্তব্য, একটা ব্যালেন্স করা প্রয়োজন। তদন্তকারী আধিকারিককে সে ক্ষেত্রে ব্যালেন্স করতে হবে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতার দাবি,এখানে ইলেকশন কমিশনই যথাযথ কতৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর প্রস্তাব,সেই জন্যই প্রাক্তন কোন বিচারপতিকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবছে কোর্ট। আমি প্রাক্তন বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে বিশেষ অফিসার হিসাবে নিযুক্ত করতে চাই ।আপনাদের কোন আপত্তি থাকলে জানাবেন।
অভিযোগকারী বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী নিরাজ কিষান কল আদালতে দাবি করেন,আমরাই প্রকৃত তৃণমূল। আমাদের কথা, বক্তব্য যেন সমান ভাবে শোনা হয়।স্পেশাল অফিসার যেন এই বিষয়ে বিবেচনা করেন। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর জবাব , সবাইকে একসেস দেওয়া সম্ভব নয়।একমাত্র পার্টি সেক্রেটারি সিদ্ধান্ত নেবেন।আর আপনাদেরকে আগে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল বলে প্রমান করতে হবে। আদালত এখন স্পেশাল অফিসারকে দায়িত্ব দিতে চায় পার্টি কর্মচারীদের বেতন সহ অন্যান্য খরচ যাতে চালাতে পারে সেই বিষয় বিবেচনা করতে।
আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভির মন্তব্য, আদালত যে বিচারপতিকে নিয়োগ করবে তিনি নিশ্চয় পার্টির সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব সামলাবেন না।তিনি ডে টু ডের খরচ দেখার দায়িত্বই পালন করবেন। রাজ্যের এডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র বিচারপতির কাছে আবেদন করে বলেন, যে অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্টারী হলফনামা দেওয়া হয়েছে সেখানে একবার দেখুন। শুভাশিস চক্রবর্তী তিনি জানিয়েছেন, প্রায় ৫১ লক্ষ টাকা কর্মচারীদের বেতন বাবদ।এখানে কোন ডিটেল দেওয়া হয়নি। ধরা যাক কোর্ট নির্দেশ দিল খরচ করতে।কিন্তু ডিটেল না থাকলে সেই টাকা সঠিক ভাবে খরচ হচ্ছে কিনা জানা সম্ভব নয়। এর প্রেক্ষিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচাৰ্যর মন্তব্য এটা তৃণমূল কংগ্রেসেরই একাউন্ট।স্পেশাল অফিসারকে এতকিছু দায়িত্ব দিলে সম্পূর্ণ ক্যাওস সৃষ্টি হবে।







