কলকাতা: বারুইপুরে ধর্ষণ ও খুনের (Baruipur Case) মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি ‘এনকাউন্টার’-এর তদন্তভার এবার রাজ্য পুলিশের সিআইডির (CID) হাতে। ইতিমধ্যেই বিচারবিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। তার পাশাপাশি ঘটনার পুলিশি তদন্তও করবে সিআইডি।
নিয়ম অনুযায়ী, যে পুলিশ জেলার অভিযানে কোনও অভিযুক্তের মৃত্যু ঘটে, সেই জেলা নিজেই ঘটনার তদন্ত করতে পারে না। সেই কারণেই নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে বারুইপুর পুলিশ জেলার পরিবর্তে সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশের দাবি, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে অপরাধস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় ক্যানিং পুলিশ সার্কলের এক আধিকারিকের কোমর থেকে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিও চালান বলে অভিযোগ। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালান বারুইপুর থানার এক পুলিশ আধিকারিক। সেই গুলিতেই মৃত্যু হয় প্রভাসের।
আরও পড়ুন: তৃণমূল কংগ্রেসের ৩টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার অন্তরবর্তী নির্দেশ হাইকোর্টের
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রভাসের শরীরে দুটি গুলি লাগে—একটি বুকের ডান দিকে এবং অন্যটি কোমরের উপরে। ঘটনার পরই এনকাউন্টার ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তোলে। রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
এই পরিস্থিতিতে সিআইডি ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখবে। ঘটনার রাতে ঠিক কী পরিস্থিতিতে গুলি চলেছিল, পুলিশের দাবি কতটা তথ্যপ্রমাণে সমর্থিত এবং নিয়ম মেনে অভিযান পরিচালিত হয়েছিল কি না—সব দিকই তদন্তের আওতায় থাকবে।
উল্লেখ্য, বারুইপুরের ১২ বছরের এক কিশোরীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। ঘটনার জেরে গণপিটুনিতে এক সন্দেহভাজনের মৃত্যু, বিক্ষোভ, রেল অবরোধ এবং একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার তদন্ত চলাকালীনই প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন সিআইডি তদন্ত এবং বিচারবিভাগীয় অনুসন্ধানের রিপোর্টের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনের।







