ওয়েবডেস্ক- ২০২৬ এর ভোটের (2026 Assemble Election) আগে ইডির (ED) হানাকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে নয়া মোড়! তীব্র চাপানউতোর। আই প্যাকের (I-PAC) কর্ণধার, ব্যবসায়ী প্রতীক জৈনের (Pratik Jain) বাড়িতে ইডির তল্লাশি। প্রতীক জৈনের বাড়িতে সাত সকালে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী আধিকারিকেরা। দিল্লির একটি পুরোনো মামলার জন্যই এই অভিযান বলেই জানা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীর সল্টলেকের অফিসেও তল্লাশি অভিযান চলছে বলেই সূত্রের খবর।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই কয়লা পাচার কাণ্ডে তল্লাশি অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী আধিকারিকেরা। কয়লা ব্যবসায়ীদের একাধিক ঠিকানায় চলেছে অভিযান। ইতিমধ্যেই কিছুদিন আগেই বালি পাচার মামলায় চার্জশিট জমা করেছে ইডি। এর পরেই বৃহস্পতিবার সাত সকালে ইডির হানায় তীব্র উত্তেজনা। তবে ব্যবসায়ী প্রতীক জৈনের বাড়িতে যে তল্লাশি অভিযান চলছে, সেখানে কয়লাকাণ্ড কিংবা বালি পাচার-কাণ্ড জড়িত আছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। জানা গেছে, এদিন প্রথম ৭ নম্বর লাউডন স্ট্রিটে অভিযান চালায় ইডি। ভোর ৫ টার সময় হঠাৎ হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। চলছে তল্লাশি অভিযান। কিছুদিন আগেই বালি পাচার মামলায় চার্জশিট জমা করেছে ইডি। অরুণ শরাফ-সহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে ইডির বিশেষ আদালতে চার্জশিট জমা হয়েছে বলে জানা গেছে। মোট ১৪৫ কোটি টাকার দুর্নীতি বলে দাবি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন- ‘ভোট বলেই ED তল্লাশি অভিযান’ বিস্ফোরক মমতা
ইডির অভিযানের সময় প্রতীক জৈন তার চতুর্থ তলা আবাসনে ছিলেন, সেখানে ইডি কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন। এদিন বেলা ১২ টা নাগাদ মুখ্যমন্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছান। এরপর মিনিট কুড়ি থাকার পর বেশ কিছু নথি নিয়ে বেরিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। হাতে ছিল একটি ফাইল ও একটি ল্যাপটপ।
প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) জানান, “দলের প্রার্থী তালিকা সহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন ইডি আধিকারিকরা”। সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে বলেন, ‘এটাই কি ইডির ভূমিকা’? ‘আমি যদি পুলিশ দিয়ে বিজেপি পার্টি অফিসে অভিযান চালাই তাহলে কী হবে’? হার্ড ডিস্ক নথিও নিজের সঙ্গে নিয়ে প্রতীক জৈনের বাড়ি বেরিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় আই প্যাক। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই আই-প্যাক তৃণমূল ও রাজ্য সরকারের কাজ করছে। ফলে দলীয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি দফতরে থাকবে এটাই স্বাভাবিক। ভোটের আগে এই ইডি হানা একাধিক প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
আই প্যাক তৃণমূলের একটি শক্ত ভিত বলা যেতে পারে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বড় জয় এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলের সাফল্যে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এই আই-প্যাকের।







